19.3 C
London
August 5, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে যোগ্যতা আছে, চাকরি নেই—এক বছরে ৪০০ আবেদন করেও মাত্র দুই সাক্ষাৎকার

শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের পরও চাকরি না পাওয়ার সংকটে পড়েছে যুক্তরাজ্যের অনেক তরুণ। তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেও গত এক বছরে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০টি চাকরির আবেদন করেছেন ধ্রুব নামে এক তরুণ। কিন্তু এত আবেদনের পরও তিনি পেয়েছেন মাত্র দুটি চাকরির সাক্ষাৎকারের সুযোগ।

ধ্রুব জানান, কলেজের পড়াশোনা শেষ করার পর থেকে তিনি খুচরা বিক্রয়, হসপিটালিটি এবং বিভিন্ন প্রবেশ-স্তরের চাকরির জন্য আবেদন করে আসছেন। তবে দীর্ঘ এক বছর ধরে চাকরি না পাওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলেছে।

তিনি বলেন, “গত এক বছরে আমি প্রায় তিন থেকে চারশ চাকরির জন্য আবেদন করেছি। সত্যি বলতে, বিষয়টি এখন খুবই ক্লান্তিকর হয়ে উঠেছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ধ্রুব বলেন, তার মনে হয়েছে উচ্চশিক্ষা নিলেও চাকরির সম্ভাবনা খুব একটা বাড়বে না। কারণ, ডিগ্রি অর্জনের পরও অনেককে দীর্ঘদিন চাকরি খুঁজতে দেখেছেন তিনি। তাই কয়েক বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটিয়েও একই পরিস্থিতিতে পড়তে চাননি।

তার মতে, বর্তমানে প্রবেশ-স্তরের চাকরিগুলোতেও বহু বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীরা আবেদন করছেন। ফলে নতুনদের জন্য চাকরির বাজারে জায়গা করে নেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ধ্রুবর অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের সনদ দিলেও কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় বাস্তব দক্ষতা শেখাতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিশেষ করে সিভি তৈরি, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি এবং নিয়োগকর্তাদের প্রত্যাশা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা দেওয়া হয় না।

তিনি বলেন, “স্কুল আপনাকে সনদ দেবে, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা শেখাবে না। বাস্তব কর্মজীবনের জন্য যেসব দক্ষতা প্রয়োজন, সেগুলোর জন্য স্কুল আপনাকে প্রস্তুত করে না।”

তরুণরা কাজ করতে চায় না—এমন ধারণাও প্রত্যাখ্যান করেন ধ্রুব। তার ভাষায়, অনেক তরুণ কাজ করতে আগ্রহী, কিন্তু কীভাবে চাকরির বাজারে প্রথম সুযোগ তৈরি করতে হবে, সে বিষয়ে তারা দিকনির্দেশনা পায় না।

সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের ১৬ শতাংশই শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নয়।

সম্প্রতি ধ্রুব আরও একটি চাকরির সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এখন তিনি ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে তার অভিজ্ঞতা যুক্তরাজ্যের বর্তমান চাকরির বাজারে নতুন প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।

সূত্রঃ মাই লন্ডন

এম.কে

আরো পড়ুন

আইনে এআই-এর আগমন নিয়ে সতর্ক করলেন যুক্তরাজ্যের সিনিয়র বিচারপতি

শীতকালীন জ্বালানি ভাতা নিয়ে ইউ-টার্ন: স্টারমারের দায় স্বীকার ও পেনশনভোগীদের স্বস্তি

ইউকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভারতে ক্যাম্পাস খোলার দিকে ঝুঁকছে