নারীদের জন্য বারবার ঝুঁকি তৈরি করার অভিযোগে ভিক্টর ভ্যালেন্টাইন নামে ২৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তির ওপর পাঁচ বছরের যৌন ক্ষতি প্রতিরোধ আদেশ জারি করেছে যুক্তরাজ্যের গ্লস্টারশায়ার পুলিশ। নিজেকে নারীবিদ্বেষী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এবং অনলাইন ‘ইনসেল’ গোষ্ঠীর সদস্য ভ্যালেন্টাইনের বিরুদ্ধে কোনো যৌন অপরাধে সাজা না থাকলেও আদালত তার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
চেলটেনহ্যাম ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৪ আগস্ট ভ্যালেন্টাইনের বিরুদ্ধে এই আদেশ জারি হয়। পুলিশের দাবি, জনসমক্ষে নারীদের বিরুদ্ধে বিনা উসকানিতে সহিংস আচরণের ইতিহাস রয়েছে তার। একই সঙ্গে আগে জারি করা একাধিক দেওয়ানি আদালতের আদেশের শর্তও তিনি বারবার লঙ্ঘন করেছেন। এসব কারণে পুলিশ তাকে নারীদের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে।
নতুন আদেশের সবচেয়ে কঠোর শর্তগুলোর একটি হলো—ভ্যালেন্টাইন কোনো নারী-নির্দিষ্ট স্থানে প্রবেশ করতে, সেখানে অবস্থান করতে কিংবা আশপাশে ঘোরাফেরা করতে পারবেন না। এর মধ্যে নারীদের গণশৌচাগার, পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ এবং অন্যান্য নারী-নির্দিষ্ট স্থান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তার ওপর ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহারে সক্ষম কোনো কম্পিউটার বা যন্ত্র সংগ্রহ করলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুলিশকে জানাতে এবং সেটি নিবন্ধন করতে হবে। যন্ত্রটিতে ইন্টারনেট ব্যবহারের ইতিহাস ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ চালু রাখতে হবে এবং কোনো তথ্য মুছে ফেলা যাবে না। পুলিশ চাইলে ওই যন্ত্র তাৎক্ষণিকভাবে পরিদর্শনের জন্যও তাকে দিতে হবে।
একই সময়ে একাধিক ইন্টারনেট-সংযুক্ত যন্ত্র নিজের কাছে রাখার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট ইনসেল ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত, অতিথি বা ছদ্মনাম ব্যবহার করে কোনো হিসাব রাখা যাবে না। ইনসেল মতাদর্শ বা সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তু প্রচার কিংবা ছড়িয়ে দেয়—এমন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ফোরাম, চ্যাটরুম বা অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
গ্লস্টারশায়ার পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ভ্যালেন্টাইন নিজেকে নারীবিদ্বেষী হিসেবে পরিচয় দেন এবং একটি অনলাইন ইনসেল গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত। পুলিশের মতে, তার নারীবিদ্বেষী মনোভাব ও নারীদের বিরুদ্ধে সহিংস আচরণের ইতিহাসের কারণে আদালতের এই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন হয়েছে।
গোয়েন্দা সার্জেন্ট পল হাওয়েল বলেন, ভ্যালেন্টাইন নারীদের প্রতি তার নারীবিদ্বেষী বৈরিতা ও সহিংসতার জন্য পুলিশের কাছে পরিচিত। যৌন অপরাধে তার কোনো সাজা না থাকলেও নারী ও কিশোরীদের নিরাপদ রাখতে এই আদেশকে একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে পুলিশ।
পুলিশের বক্তব্য, এই আদেশ ভ্যালেন্টাইনের অনলাইনে তার মতাদর্শ আরও বিস্তারের সুযোগ সীমিত করবে। পাশাপাশি সমাজে তার আচরণ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। গ্লস্টারশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধ তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।
ভ্যালেন্টাইনের ওপর জারি করা আদেশটি ২০৩১ সালের ২৫ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর কোনো শর্ত লঙ্ঘন করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে এবং সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন তিনি।
তবে এই মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দিক হলো, ভ্যালেন্টাইন যৌন অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তি নন। তার ওপর জারি করা যৌন ক্ষতি প্রতিরোধ আদেশটি মূলত ভবিষ্যৎ ক্ষতির ঝুঁকি প্রতিরোধ এবং নারী ও কিশোরীদের সুরক্ষার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। গ্লস্টারশায়ার পুলিশও স্পষ্টভাবে এটিকে একটি ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
সূত্রঃ মেট্রো
এম.কে

