TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে রমজানে অমুসলিম পুলিশ সদস্যদের একদিন রোজায় অংশগ্রহণের আহ্বান

রমজান মাসে মুসলিম সহকর্মীদের প্রতি সৌহার্দপূর্ণ আচরণ, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সংহতি প্রকাশের উদ্দেশ্যে অমুসলিম পুলিশ কর্মকর্তা ও কর্মীদের একদিন রোজা রাখার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের একটি পুলিশ বাহিনীর মুসলিম সদস্যদের সংগঠন। এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন ও জনপরিসরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, মুসলিম সদস্যদের সংগঠনটি কয়েক বছর ধরে রমজান মাসে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের সহকর্মীদের স্বেচ্ছায় একদিন রোজা রাখার আমন্ত্রণ জানিয়ে আসছে। একই সঙ্গে এই কর্মসূচির মাধ্যমে দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থ সংগ্রহও করা হয়।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ। কেউ অংশ নিতে বাধ্য নন। তাদের মতে, মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুশীলনের গুরুত্ব সম্পর্কে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়, যা জনগণের সঙ্গে আরও কার্যকর ও সংবেদনশীল সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।

এদিকে, তথ্য অধিকার আইনের আওতায় প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, স্থানীয় একটি কাউন্সিলের বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশিক্ষণে এই উদ্যোগকে ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, রমজানে রোজাদার কর্মীদের জন্য নমনীয় কর্মঘণ্টার ব্যবস্থা রাখা হয় এবং প্রতিবছরই কিছু অমুসলিম সহকর্মী সংহতির প্রতীক হিসেবে রোজায় অংশ নেন। এর ফলে কর্মস্থলে পারিবারিক পরিবেশ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে এই উদ্যোগের সমালোচকেরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব ধর্মীয়ভাবে নিরপেক্ষ থাকা। তাদের মতে, কোনো ধর্মীয় অনুশীলনে অংশ নিতে কর্মীদের উৎসাহ দেওয়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে সামনের সারির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা দীর্ঘ সময় না খেয়ে ও পানি পান না করে দায়িত্ব পালনে কতটা সক্ষম থাকবেন, সে প্রশ্নও তুলেছেন তারা।

বিরোধী রাজনীতিকদের একাংশের দাবি, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সব ধর্মের প্রতি সমান নীতি অনুসরণ করা উচিত এবং কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় অনুশীলনকে উৎসাহ দেওয়া উচিত নয়। তাদের ভাষ্য, পুলিশ বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করা, ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণে উৎসাহ দেওয়া নয়।

নিরাপত্তা ও নীতিবিষয়ক কয়েকজন বিশ্লেষকও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সব ধর্মাবলম্বী কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া অবশ্যই সমর্থনযোগ্য, কিন্তু কোনো ধর্মীয় আচারে অংশগ্রহণে উৎসাহ দেওয়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসন তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে, এটি বহু বছর ধরে চলে আসা একটি স্বেচ্ছাসেবী ও দাতব্য উদ্যোগ। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি পায় এবং বৈচিত্র্যময় সমাজের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে কাজ করার সক্ষমতা তৈরি হয়।

উল্লেখ্য, রমজান মুসলমানদের জন্য ইবাদত, আত্মসংযম, প্রার্থনা ও আত্মশুদ্ধির মাস। এ সময় ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা পালন করা হয়। এই ধর্মীয় অনুশীলনের তাৎপর্য সম্পর্কে অন্য ধর্মাবলম্বী সহকর্মীদের সচেতন করাই সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের সাসেক্সে মসজিদে আগুন, পুলিশ বলছে এটি ঘৃণামূলক অপরাধের ইঙ্গিত

যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার নতুন বাণিজ্য চুক্তি

অনলাইন ডেস্ক

গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ, তবুও চালু হচ্ছে যুক্তরাজ্যের ডিজিটাল ‘ভেটেরান কার্ড