দক্ষিণ আটলান্টিক অঞ্চলে হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাবকে ঘিরে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ইউরোপজুড়ে। ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর অ্যাসেনশন আইল্যান্ডের এক চিকিৎসাকর্মীকে বিশেষ ব্যবস্থায় লন্ডনে এনে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
একই সময়ে প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এমভি হন্ডিয়াস নামের ক্রুজ জাহাজটি নেদারল্যান্ডসের রটারডামে পৌঁছেছে জীবাণুমুক্তকরণ ও ক্রুদের নামিয়ে দেওয়ার জন্য।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএইচএসএ জানিয়েছে, আক্রান্ত চিকিৎসাকর্মী শনিবার যুক্তরাজ্যে পৌঁছান এবং বর্তমানে লন্ডনের গাইজ অ্যান্ড সেন্ট থমাস’স এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের “হাই কনসিকোয়েন্স ইনফেকশাস ডিজিজেস” ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সংস্থাটি বলছে, এটি অত্যন্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ।
রোববার সেন্ট হেলেনা ও অ্যাসেনশন আইল্যান্ড থেকে আরও নয়জন ব্যক্তি যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন, যারা হান্টাভাইরাসের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন। যদিও তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি, তবুও তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এই নয়জনকে ইংল্যান্ডের উইরাল এলাকার অ্যারো পার্ক হাসপাতালে নেওয়া হবে। এর আগে একই হাসপাতালেই এমভি হন্ডিয়াসের কয়েকজন যাত্রীকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল। অসুস্থতা দেখা দিলে তাদের চিকিৎসা সহায়তা দেবে এনএইচএসের “হাই কনসিকোয়েন্স ইনফেকশাস ডিজিজ” নেটওয়ার্ক।
এদিকে প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এমভি হন্ডিয়াস সোমবার সকালে নেদারল্যান্ডসের রটারডামে নোঙর করে। গত ছয় দিন ধরে জাহাজটি ক্যানারি আইল্যান্ডস থেকে যাত্রা করছিল। সেখানে যাত্রীদের পূর্ণ সুরক্ষা পোশাক পরিয়ে জাহাজ থেকে নামানো হয় এবং যুক্তরাজ্যসহ ২০টিরও বেশি দেশে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়।
জাহাজে হান্টাভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত ১১ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে এক ডাচ দম্পতিও রয়েছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ধারণা, দক্ষিণ আমেরিকা সফরের সময় তারাই প্রথম ভাইরাসটির সংস্পর্শে এসেছিলেন।
ইউকেএইচএসএর উপ-পরিচালক ডা. মীরা চাঁদ বলেছেন, আক্রান্ত ও ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে। তিনি জানান, নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি মেডিকেল পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ আটলান্টিক অঞ্চলের ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরিগুলোতে সহায়তার জন্য যুক্তরাজ্যের পাবলিক হেলথ র্যাপিড সাপোর্ট টিমের তিন সদস্যকে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন দুই মাইক্রোবায়োলজিস্ট ক্লারা মিলরয় ও কিম্বারলি স্টিডস, যারা হান্টাভাইরাস শনাক্তে পিসিআর পরীক্ষা পরিচালনায় সহায়তা করবেন। এছাড়া সংক্রমণ প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি টোয়াইম্যান স্থানীয় হাসপাতালগুলোকে প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতিমূলক সহায়তা দেবেন।
পাবলিক হেলথ স্কটল্যান্ডও সতর্ক করে জানিয়েছে, স্কটল্যান্ডে অল্পসংখ্যক মানুষ ভাইরাসটির সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন। সম্ভাব্য আক্রান্তদের শনাক্ত করতে যোগাযোগ কার্যক্রম চলছে।
নেদারল্যান্ডসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজের যেসব ক্রু সদস্য নিজ দেশে ফিরতে পারবেন না, তাদের নেদারল্যান্ডসেই কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। ইতোমধ্যে প্রায় দুই ডজন যাত্রী ও ক্রু দেশটিতে কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন।
সব যাত্রী ও ক্রু জাহাজ থেকে নেমে যাওয়ার পর ডাচ জনস্বাস্থ্য নির্দেশিকা অনুযায়ী পুরো জাহাজ জীবাণুমুক্ত করা হবে। পরিষ্কারকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অনুমোদনের পরই জাহাজটিকে আবার যাত্রার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে জাহাজটির মালিক ডাচ কোম্পানি জানিয়েছে, তারা এখনই তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বড় কোনো পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে না। আগামী ২৯ মে আইসল্যান্ডের কেফলাভিক থেকে তাদের একটি আর্কটিক ক্রুজ যাত্রা করার কথা রয়েছে।
সূত্রঃ আইটিভি
এম.কে

