TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে রেন্টাল খাতে বড় সংস্কার আনছে লেবার সরকারঃ ডিপোজিট আত্মসাতের পথ বন্ধ

যুক্তরাজ্যের বেসরকারি ভাড়াবাস (প্রাইভেট রেন্টেড সেক্টর) খাতে ভাড়াটিয়াদের আর্থিক নিরাপত্তা জোরদারে আরেকটি বড় সংস্কার আনতে যাচ্ছে লেবার সরকার। নতুন আইনের আওতায় আগামী বছরের এপ্রিল থেকে কোনো ল্যান্ডলর্ড বা বাড়িওয়ালা আর ভাড়াটিয়ার নিরাপত্তা জামানত (ডিপোজিট) নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখতে পারবেন না। এর পরিবর্তে প্রতিটি ডিপোজিট বাধ্যতামূলকভাবে সরকার অনুমোদিত ‘কাস্টোডিয়াল স্কিম’ বা নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষের কাছে সংরক্ষণ করতে হবে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যকার ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা, ডিপোজিট আত্মসাৎ বা অপব্যবহারের ঝুঁকি কমানো এবং ভাড়াবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করাই মূল লক্ষ্য।

হাউজিং মিনিস্টার ম্যাথিউ পেনিভুক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেক ভাড়াটিয়া তাদের বৈধ ডিপোজিট ফেরত পেতে নানা জটিলতা ও বিরোধের মুখোমুখি হয়েছেন। নতুন ব্যবস্থায় সেই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে এবং ভাড়াটিয়াদের অর্থ শতভাগ সুরক্ষিত থাকবে।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ল্যান্ডলর্ডরা দুটি পদ্ধতিতে ডিপোজিট সংরক্ষণ করতে পারেন। প্রথমটি ‘কাস্টোডিয়াল স্কিম’, যেখানে ডিপোজিট একটি স্বাধীন সংস্থা সংরক্ষণ করে। দ্বিতীয়টি ‘ইন্স্যুরেন্স-ভিত্তিক স্কিম’, যেখানে ল্যান্ডলর্ড নিজের অ্যাকাউন্টে অর্থ রেখে একটি বীমা গ্রহণ করেন। নতুন আইনের মাধ্যমে এই দ্বিতীয় পদ্ধতিই সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হচ্ছে।

এর ফলে ভবিষ্যতে কোনো বাড়িওয়ালা আর ভাড়াটিয়ার অর্থ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার বা নিজের হিসাবে রাখার সুযোগ পাবেন না। সরকার বলছে, এতে ডিপোজিট নিয়ে প্রতারণা, অর্থ আটকে রাখা কিংবা অযৌক্তিক কাটছাঁটের অভিযোগ অনেকাংশে কমে আসবে।

নতুন নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ল্যান্ডলর্ডকে ভাড়াটিয়ার মূল ডিপোজিটের সর্বোচ্চ তিন গুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা দিতে হতে পারে। এছাড়া আদালতের নির্দেশনা ও অন্যান্য আইনি ব্যবস্থারও মুখোমুখি হতে পারেন তারা।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডে বর্তমানে প্রায় ৪৬ লাখেরও বেশি পরিবার বেসরকারি ভাড়াবাসে বসবাস করছে। এই খাতে প্রায় ৯০ লাখের বেশি মানুষ সরাসরি প্রভাবিত। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নতুন ভাড়াটিয়াদের এক থেকে দুই মাসের সমপরিমাণ ভাড়া ডিপোজিট হিসেবে জমা দিতে হয়। বর্তমানে আইন অনুযায়ী ডিপোজিটের সর্বোচ্চ সীমা সাধারণত পাঁচ সপ্তাহের ভাড়ার সমান, আর বার্ষিক ভাড়া ৫০ হাজার পাউন্ডের বেশি হলে সর্বোচ্চ ছয় সপ্তাহের ভাড়ার সমপরিমাণ ডিপোজিট নেওয়া যায়।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর লাখ লাখ পাউন্ড মূল্যের ডিপোজিট নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। যদিও অধিকাংশ ল্যান্ডলর্ড আইন মেনে চলেন, তবুও কিছু ক্ষেত্রে ডিপোজিট ফেরত দিতে অযথা বিলম্ব, অস্বচ্ছ হিসাব কিংবা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই উঠছে। নতুন কাস্টোডিয়াল ব্যবস্থা এসব বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ভাড়াটিয়াদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে সরকার।

আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংস্কার কার্যকর হলে ভাড়াটিয়াদের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল ল্যান্ডলর্ডদের জন্যও এটি ইতিবাচক হবে, কারণ ডিপোজিট সংক্রান্ত বিরোধ কমে গেলে আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক ঝামেলাও কমে আসবে।

এই পদক্ষেপটি লেবার সরকারের বৃহত্তর আবাসন সংস্কার কর্মসূচির অংশ। এর আগে সরকার ‘রেন্টার্স রাইটস’ সংস্কারের আওতায় ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, বাসযোগ্য আবাসন নিশ্চিতকরণ এবং ভাড়াটিয়াদের অধিকারের সুরক্ষায় একাধিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ডিপোজিট নীতি কার্যকর হলে যুক্তরাজ্যের ভাড়াবাজারে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি ঘটবে। এতে লাখ লাখ ভাড়াটিয়ার অর্থ আরও নিরাপদ থাকবে, বাড়বে স্বচ্ছতা, কমবে বিরোধ এবং ভাড়াটিয়া-ল্যান্ডলর্ড সম্পর্কেও আরও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে।

সূত্রঃ ইউকে ডট গভ

এম.কে

আরো পড়ুন

এবারের বাজেটে যা ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন ঋষি সুনাক

পোস্ট-স্টাডি ভিসা কমলেও যুক্তরাজ্যে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনে রেকর্ড বৃদ্ধি

ফ্রান্সে শরণার্থী সংকট তীব্র, গর্ভবতী নারী ও শিশুর উপর ঘৃণ্য আক্রমণ