TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে লাইকের নেশায় ভয়ংকর ড্রাইভিংঃ ব্রিটেনে উঠেছে লাইসেন্স কেড়ে নেওয়ার দাবি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা ও লাইকের আশায় বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানোর ভিডিও প্রকাশের প্রবণতা নিয়ে যুক্তরাজ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনার পর এমন ভিডিও প্রকাশকারীদের চালকের লাইসেন্স কেড়ে নেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর জানিয়েছে, তরুণদের একটি অংশ টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, রাস্তার ভুল পাশে গাড়ি চালানো এবং পুলিশের ধাওয়া থেকে পালানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের ভিডিও প্রকাশ করছে। এসব ভিডিও অনেক সময় বিনোদন বা কৃতিত্বের বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।

সম্প্রতি টিসাইডের মিডলসব্রোর কাছে এ৬৬ মহাসড়কে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। ২২ আগস্টের ওই দুর্ঘটনায় পিসি ম্যাথিউ ব্লেডস ও পিসি টম ক্লাফ নিহত হন। একটি ফক্সভাগেন পাসাট ভুল দিক দিয়ে মহাসড়কে চলার সময় পুলিশের গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ালে এই প্রাণহানি ঘটে।

দুর্ঘটনায় পাসাটের পাঁচ আরোহীও মারা যান। তারা হলেন ২৩ বছর বয়সী মাইকেল রবার্ট কাহিল, ১৭ বছর বয়সী থিও রে, ১৭ বছর বয়সী কোল রবার্ট ওয়ার্থি, ২৩ বছর বয়সী জাকুব মাতুসিয়াক এবং ১৮ বছর বয়সী মাকাই স্যাডিংটন।

দুর্ঘটনার পর স্যাডিংটনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা একটি টিকটক অ্যাকাউন্ট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ওই অ্যাকাউন্টে বিপজ্জনক গাড়ি চালানোর ভিডিও প্রকাশ করা হতো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর অ্যাকাউন্টটি মুছে ফেলা হয়। একটি ভিডিওতে দ্রুতগতিতে পুলিশের ধাওয়া থেকে পালানোর দৃশ্যের মতো ঘটনা দেখা গিয়েছিল বলেও মিরর জানিয়েছে।

এ ঘটনার মাত্র কয়েক দিন আগেও আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি কিলডেয়ারে একই ধরনের ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এম৯ মহাসড়কে ভুল দিক দিয়ে ঘণ্টায় ৭৪ মাইলের বেশি গতিতে চলা একটি বিএমডব্লিউর সঙ্গে হুন্দাই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বিএমডব্লিউর পাঁচ কিশোর আরোহী নিহত হন। হুন্দাইয়ে থাকা তিন বোন গুরুতর আহত হন এবং তাদের সঙ্গে থাকা সাত বছর বয়সী এক শিশুর পা ভেঙে যায়।

তবে বিপজ্জনক গাড়ি চালানোর ভিডিওকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ নতুন নয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে গ্লুচেস্টারশায়ারে লিবার্টি মিচেল নামে এক তরুণী ৬০ মাইল গতিসীমার এলাকায় প্রায় ১০০ মাইল গতিতে গাড়ি চালানোর ভিডিও ধারণ করেছিলেন। তিনি রাস্তার ভুল পাশ দিয়ে তিনটি গাড়িকে অতিক্রম করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একাধিক গাড়ির সংঘর্ষ ঘটান। ওই ঘটনায় ট্যাক্সিচালক অক্টাভিয়ান কোড্রিয়ানু ও তার যাত্রী শিক্ষক ময়রা হুইলান নিহত হন।

এ ধরনের ঘটনার পর প্রচারমাধ্যম ও নিরাপত্তা-কর্মীদের একটি অংশ বলছে, শুধু ভিডিও সরিয়ে ফেলাই যথেষ্ট নয়; যারা ইচ্ছাকৃতভাবে বিপজ্জনক গাড়ি চালিয়ে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেন, তাদের বিরুদ্ধে চালকের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।

বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে জনমত যাচাই শুরু করেছে ডেইলি মিরর। তাদের জরিপে পাঠকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে—বিপজ্জনক গাড়ি চালানোর ভিডিও প্রকাশ করলে চালকের লাইসেন্স কেড়ে নেওয়া উচিত কি না।

এদিকে যুক্তরাজ্য সরকারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপজ্জনক গাড়ি চালানোর ভিডিও ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ২৪ আগস্ট কিয়েভ সফরের সময় বলেন, যারা বিপজ্জনক গাড়ি চালানোকে গৌরবান্বিত করে তুলে ধরে, তারা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ করছে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি লাইকের জন্য মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা কতটা গ্রহণযোগ্য। সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনাগুলো সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে এবং বিপজ্জনক গাড়ি চালানোর ভিডিও প্রকাশকারীদের জন্য আরও কঠোর শাস্তির দাবি জোরালো করেছে।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে হোম অফিসের বিলাসী আশ্রয় প্রকল্পঃ চার-তারকা হোটেলে অভিবাসী রাখার সিদ্ধান্তে বিতর্ক

ব্রিটেন ভ্রমণে ‘ট্রাফিক লাইট’ পদ্ধতি বাতিল হচ্ছে অক্টোবরে

অনলাইন ডেস্ক

সাবস্ক্রিপশন ও সরকারি অনুদান দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে বিবিসির লাইসেন্স ফি

অনলাইন ডেস্ক