যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইঙ্গিত দিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের কঠোর অভিবাসন নীতির কিছু দিক নতুনভাবে পর্যালোচনা করা হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে ইতোমধ্যে বসবাসরত অভিবাসীদের ক্ষেত্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির নতুন নিয়ম প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে তিনি “ন্যায্যতা” ও “ভারসাম্য” খুঁজে দেখতে চান বলে মন্তব্য করেছেন।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, অভিবাসন ইস্যুতে তিনি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিষয়টি মূল্যায়ন করতে চান। তার ভাষায়, জনগণ আশা করবে তিনি বিষয়গুলো নতুনভাবে পর্যালোচনা করবেন এবং কোথায় ন্যায্যতা ও সঠিক ভারসাম্য রয়েছে, তা নির্ধারণ করবেন।
বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ নিজ দলের কয়েক ডজন সংসদ সদস্য, ট্রেড ইউনিয়ন এবং স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সংগঠনের চাপের মুখে রয়েছেন। তাদের দাবি, যুক্তরাজ্যে আগে থেকেই বৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের নতুন নিয়মের আওতার বাইরে রাখা উচিত। নতুন নীতির অধীনে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন) পাওয়ার আগে অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ করার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দলের ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিল্প অভিযোগ করেন, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম অতীতের অভিবাসন নীতির ব্যর্থতা থেকে কোনো শিক্ষা নেননি।
তার দাবি, নিম্ন দক্ষতাসম্পন্ন ব্যাপক অভিবাসনের কারণে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সংহতি দুর্বল হয়েছে, ব্রিটিশ কর্মীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছেন এবং দেশের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার হয়েছে।
ক্রিস ফিল্প বলেন, নিম্ন দক্ষতাসম্পন্ন অভিবাসনের পথ বন্ধ করে কেবল সীমিত সংখ্যক উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া উচিত। তার ভাষায়, নেতৃত্বে যে-ই থাকুক না কেন, লেবার পার্টি অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী নয়।
অন্যদিকে, বার্নহ্যামের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে সরকার অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা বজায় রাখার পাশাপাশি বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত অভিবাসীদের ক্ষেত্রে ন্যায্যতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে চায়।
ফলে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে বিদ্যমান অভিবাসীদের জন্য কোনো ধরনের ছাড় বা বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে কি না, তা এখন যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আগামী দিনে সরকার এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে অভিবাসী সম্প্রদায়, রাজনৈতিক মহল এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এম.কে

