19.5 C
London
September 19, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে সঙ্গী হারালে মিলতে পারে £৯,৮০০ঃ ডিডব্লিউপির সহায়তা পেতে মানতে হবে শর্ত

সঙ্গী বা জীবনসঙ্গীর মৃত্যুর পর যুক্তরাজ্যে শোকাহত পরিবারগুলো সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৮০০ পাউন্ড পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্য হতে পারে। এই অর্থ দেওয়া হয় ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস, সংক্ষেপে ডিডব্লিউপি, থেকে। এই সহায়তা পেতে আবেদনকারীর আয় বা সঞ্চয়ের পরিমাণ বিবেচনায় নেওয়া হয় না।

এই আর্থিক সহায়তার নাম বেরিভমেন্ট সাপোর্ট পেমেন্ট। স্বামী, স্ত্রী, সিভিল পার্টনার অথবা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিবাহিত দম্পতির মতো একসঙ্গে বসবাস করা সঙ্গী মারা গেলে যোগ্য ব্যক্তিরা এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন।

উচ্চ হারের বেরিভমেন্ট সাপোর্ট পেমেন্টের ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তি প্রথমে ৩ হাজার ৫০০ পাউন্ড এককালীন অর্থ পেতে পারেন। এরপর ১৮ মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে ৩৫০ পাউন্ড করে দেওয়া হয়। সব কিস্তি পাওয়া গেলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ হাজার ৮০০ পাউন্ড।

তবে উচ্চ হারের এই সহায়তা পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। সঙ্গী মারা যাওয়ার সময় আবেদনকারী যদি তার সঙ্গে বসবাসকারী কোনো সন্তানের জন্য চাইল্ড বেনিফিট পেয়ে থাকেন, চাইল্ড বেনিফিট পাওয়ার অধিকার সম্পর্কে তাকে জানানো হয়ে থাকে অথবা তিনি গর্ভবতী থাকেন, তাহলে উচ্চ হারের সহায়তার জন্য যোগ্য হতে পারেন।

বিবাহিত না হলেও কোনো ব্যক্তি যদি তার সঙ্গীর সঙ্গে বিবাহিত দম্পতির মতো বসবাস করতেন, তাহলে নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তিনিও এই সহায়তার জন্য যোগ্য হতে পারেন।

উচ্চ হারের জন্য যোগ্য না হলে কম হারের বেরিভমেন্ট সাপোর্ট পেমেন্ট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এতে ২ হাজার ৫০০ পাউন্ড এককালীন অর্থ এবং এরপর ১৮ মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে ১০০ পাউন্ড দেওয়া হয়। সব অর্থ পাওয়া গেলে মোট সহায়তার পরিমাণ হতে পারে ৪ হাজার ৩০০ পাউন্ড।

তবে এই অর্থ পেতে আবেদনের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঙ্গীর মৃত্যুর তিন মাসের মধ্যে আবেদন করলে সাধারণত সম্পূর্ণ সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকে। তিন মাসের পরও আবেদন করা যায়, তবে দেরিতে আবেদন করলে মাসিক কিস্তির সংখ্যা কমে যেতে পারে।

মৃত্যুর তিন থেকে ১২ মাসের মধ্যে আবেদন করলে এককালীন অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। ১২ থেকে ২১ মাসের মধ্যে আবেদন করলে কিছু মাসিক অর্থ পাওয়ার যোগ্যতা থাকতে পারে, তবে এককালীন অর্থ পাওয়া যাবে না। সাধারণ নিয়মে সঙ্গীর মৃত্যুর ২১ মাসের বেশি সময় পর আবেদন গ্রহণ করা হয় না। তবে মৃত্যুর কারণ সম্প্রতি নিশ্চিত হওয়ার মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রম হতে পারে।

যোগ্যতার ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে সাধারণত সঙ্গী মারা যাওয়ার সময় স্টেট পেনশন বয়সের নিচে থাকতে হয়। তাকে যুক্তরাজ্য অথবা এমন কোনো দেশে বসবাস করতে হবে যেখানে যুক্তরাজ্যের বেরিভমেন্ট সুবিধা প্রদান করা হয়।

আবেদনকারীকে মৃত ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহিত, সিভিল পার্টনারশিপে থাকা অথবা বিবাহিত দম্পতির মতো একসঙ্গে বসবাসকারী হতে হবে।

মৃত সঙ্গীর ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কনট্রিবিউশনস-এর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত তাকে ১৯৭৫ সালের এপ্রিলের পর কোনো একটি কর বছরে পর্যাপ্ত ক্লাস ওয়ান বা ক্লাস টু ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কনট্রিবিউশনস দিতে হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা অথবা কাজের কারণে সৃষ্ট কোনো রোগে মৃত্যু হলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

মৃত সঙ্গী পর্যাপ্ত ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কনট্রিবিউশনস দিয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে আবেদনকারী নিশ্চিত না হলেও আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বেরিভমেন্ট সার্ভিস সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করতে পারে।

অনুমোদিত অর্থ সরাসরি আবেদনকারীর ব্যাংক, বিল্ডিং সোসাইটি অথবা ক্রেডিট ইউনিয়ন অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়।

বেরিভমেন্ট সাপোর্ট পেমেন্ট পাওয়ার পর প্রথম ১২ মাসে অধিকাংশ অন্যান্য সুবিধার ওপর সাধারণত এর প্রভাব পড়ে না। তবে এক বছর পর এককালীন অর্থের কোনো অংশ অবশিষ্ট থাকলে নির্দিষ্ট আয়-নির্ভর সুবিধার নতুন আবেদন বা নবায়নের সময় সেই অর্থ বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। এ কারণে অন্যান্য সুবিধা পাওয়া ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অর্থ পাওয়ার বিষয়টি জানাতে বলা হয়েছে।

এদিকে, যাদের সঙ্গী ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিলের আগে মারা গেছেন, তাদের পরিস্থিতি অনুযায়ী উইডোড প্যারেন্টস অ্যালাওয়েন্স পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস, ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস (ডিডব্লিউপি)

এমকে

আরো পড়ুন

রাজপরিবারের ওয়েবসাইট হতে মুছে দেয়া হল প্রিন্স হ্যারির সম্মানসূচক পদবি

পথচারীদের প্রাধান্য দিতে লন্ডনের সড়কে লাল ট্রাফিক বাতি

যুক্তরাজ্যে জনরোষের মুখে নতুন আবাসন প্রকল্পে আশ্রয়প্রার্থী স্থানান্তর স্থগিতঃ পিছু হটল হোম অফিস