TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে সন্তান নিতে অনাগ্রহী তরুণদের সংখ্যা বাড়ছেঃ ব্যয় ও বৈশ্বিক সংকট বড় কারণ

যুক্তরাজ্য সহ পশ্চিমা দেশগুলোতে জন্মহার ক্রমাগত কমে যাওয়া নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লাগামহীন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বজায় রাখার প্রবণতা এবং ভবিষ্যৎ বিশ্ব নিয়ে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তা—এই তিনটি কারণ তরুণদের সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলছে।

সম্প্রতি পরিচালিত একটি YouGov জরিপে দেখা গেছে, ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী—যারা সন্তান নেওয়ার প্রধান বয়সসীমায় রয়েছেন—তাদের মধ্যে ২৮ শতাংশ নিশ্চিতভাবে সন্তান নিতে চান না। আরও ২৭ শতাংশ জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তারা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। ফলে জরিপ অনুযায়ী, এই বয়সী মানুষের মধ্যে মাত্র ৪৫ শতাংশ নিশ্চিতভাবে বাবা-মা হতে আগ্রহী, যা ভবিষ্যতে জন্মহার আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কাকে জোরালো করছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বড় একটি অংশ সন্তান না নেওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক চাপের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা বলেছেন, বর্তমান সময়ে সন্তান লালন-পালনের ব্যয় তাদের সামর্থ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে।

২০২৩ সালে Child Poverty Action Group-এর এক হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে একটি দম্পতির জন্য জন্ম থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত একটি সন্তানকে বড় করতে প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজার পাউন্ড ব্যয় হতো। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সেই ব্যয় বেড়ে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ডে পৌঁছেছে। অর্থাৎ একটি সন্তানের পেছনে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১,২০০ পাউন্ড অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, MoneySupermarket-এর হিসাব অনুযায়ী, যেসব পরিবার সন্তানদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াতে চান এবং পূর্ণকালীন নার্সারি ও স্কুল-পরবর্তী পরিচর্যার ব্যবস্থা করেন, তাদের মোট ব্যয় ৫ লাখ পাউন্ডের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এই হিসাবেও ধরা হয়েছে যে সন্তানরা ১৮ বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে স্বাধীনভাবে বসবাস শুরু করবে, যদিও বাস্তবে অনেক তরুণ আরও দীর্ঘ সময় বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করেন।

অর্থনৈতিক চাপকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে আয়ের স্থবিরতা। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরিবারের প্রকৃত ব্যয়যোগ্য আয় বর্তমানে ২০১৯ সালের তুলনায় কম। একই সঙ্গে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মজুরি বৃদ্ধির হার দুর্বল রয়েছে। বিপরীতে মর্টগেজের কিস্তি ও বেসরকারি ভাড়ার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা পারিবারিক বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

তবে গবেষকরা বলছেন, জন্মহার কমে যাওয়ার পেছনে কেবল অর্থনৈতিক কারণই দায়ী নয়। জরিপে প্রতি ছয়জন তরুণের মধ্যে প্রায় একজন জানিয়েছেন, বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি তাদের সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে প্রভাবিত করেছে।

বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ, চলমান যুদ্ধ, মহামারি-পরবর্তী অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু একাডেমিক মহলে ভবিষ্যৎ নিয়ে নৈরাশ্যবাদী আলোচনার কারণে অনেক তরুণ মনে করছেন, আগামী পৃথিবী সন্তান প্রতিপালনের জন্য যথেষ্ট নিরাপদ বা স্থিতিশীল নয়।

জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে শ্রমবাজার, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পেনশন ব্যবস্থা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই অনেকের মতে, জন্মহার বৃদ্ধিতে কার্যকর পরিবারবান্ধব নীতি, শিশু লালন-পালনের ব্যয় কমানো, আবাসন সংকট নিরসন এবং তরুণ পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি হয়ে উঠেছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

রাশিয়ার তেলের দাম ৬০ ডলার বেঁধে দিলো ইইউ

অনলাইন ডেস্ক

অভিবাসী ও শরণার্থীরা যুক্তরাজ্যে স্বাগত, ট্রাম্প-প্রেমী নীতির বিপরীতে দাঁড়াবে গ্রিনরাঃ পোলানস্কি

ব্রিটেনে বিনামূল্যে সামাজিক সেবা চালুর পরিকল্পনাঃ সংস্কারের ঘোষণা অ্যান্ডি বার্নহ্যামের