TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে এক হতে চায় ডানপন্থী দলগুলোঃ ফারাজকে ঐক্যের প্রস্তাব রুপার্ট লোয়ের

যুক্তরাজ্যে ডানপন্থী রাজনীতিতে নতুন করে ঐক্যের আলোচনা শুরু হয়েছে। রিফর্ম ইউকে থেকে বেরিয়ে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল রিস্টোর ব্রিটেন–এর নেতা রুপার্ট লোয়ে বিরোধ ভুলে একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছেন রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজকে। এদিকে রিফর্ম ইউকের এমপি অ্যান্ড্রু রোজিনডেলও বলেছেন, ডানপন্থীরা বিভক্ত থাকলে তার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হবে লেবার পার্টি এবং অন্যান্য বামপন্থী দল।

ম্যানচেস্টর মেয়র উপনির্বাচনে লেবার প্রার্থীর বিজয়ের পর এক ভিডিও বার্তায় রুপার্ট লোয়ে বলেন, নির্বাচনের ফলাফল দেখিয়েছে রিস্টোর ব্রিটেন জনসমর্থন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এখন দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে ব্যক্তিগত মতপার্থক্য ভুলে একসঙ্গে কাজ করার সময় এসেছে। এজন্য তিনি প্রকাশ্যে নাইজেল ফারাজ ও রিফর্ম ইউকের প্রতি ঐক্যের প্রস্তাব দেন।

নির্বাচনে রিফর্ম ইউকের প্রার্থী সিয়ান অ্যাস্টলি ১ লাখ ১১ হাজার ৯২৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। অন্যদিকে রিস্টোর ব্রিটেনের প্রার্থী মার্লন ওয়েস্ট ৪৬ হাজার ২৮৯ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থান অর্জন করেন। এই ফলাফলকে সামনে রেখেই ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন লোয়ে।

জিবি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিফর্ম এমপি অ্যান্ড্রু রোজিনডেল বলেন, রুপার্ট লোয়ে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বেই রিফর্ম ইউকের এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ে তাদের মধ্যে মতৈক্য রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান লেবার সরকারের অধীনে যুক্তরাজ্য ভুল পথে এগোচ্ছে এবং আগামী সাধারণ নির্বাচনে লেবার, লিবারেল ডেমোক্র্যাট, গ্রিনসহ বামঘেঁষা দলগুলো একসঙ্গে আসতে পারে। তাই দেশের মধ্য-ডানপন্থী শক্তিগুলোকেও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পথ খুঁজতে হবে।

রোজিনডেল বলেন, তার লক্ষ্য সরকার পরিবর্তন। তিনি মনে করেন, ডানপন্থী ভোট বিভক্ত থাকলে তার পুরো সুবিধা পাবে লেবার পার্টি। তাই দেশের স্বার্থে ঐক্যের যেকোনো উদ্যোগকে তিনি সমর্থন করেন।

তবে রিস্টোর ব্রিটেন ও রিফর্ম ইউকের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব রুপার্ট লোয়ে ও নাইজেল ফারাজের ওপরই ছেড়ে দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, যদি ডানপন্থী শক্তিগুলো একত্রিত হয়, তাহলে সেই জোটের নেতৃত্বে নাইজেল ফারাজকে দেখতে চান।

ঐক্যের প্রস্তাবের সঙ্গে কয়েকটি শর্তও দিয়েছেন রুপার্ট লোয়ে। তিনি বলেছেন, রিফর্ম ইউকেকে ব্যাপক হারে অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কারের নীতি গ্রহণ, ব্যাপক অভিবাসন কমিয়ে ব্রিটিশ জনগণের জনসংখ্যাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ইসলামপন্থী উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং যুক্তরাজ্যের খ্রিস্টান ঐতিহ্য রক্ষার বিষয়ে স্পষ্ট অঙ্গীকার করতে হবে।

অ্যান্ড্রু রোজিনডেল বলেন, রুপার্ট লোয়ের অনেক বক্তব্যই রিফর্মের সমর্থক এবং সাধারণ ব্রিটিশ ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তার দাবি, বৈধ ও অবৈধ—উভয় ধরনের অভিবাসন নিয়েই মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে এবং দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারা রক্ষায় আরও জোরালো পদক্ষেপ প্রয়োজন।

ডানপন্থী রাজনীতির দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার এই বার্তা যুক্তরাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন নজর থাকবে, রুপার্ট লোয়ের প্রস্তাবে নাইজেল ফারাজ কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানান এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে ডানপন্থী দলগুলোর মধ্যে কোনো সমঝোতা গড়ে ওঠে কি না।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন পরিকল্পনা ঘিরে চ্যালেঞ্জের পাহাড়

যুক্তরাজ্য মানবিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে, যুদ্ধ বিরতিতে নয়: ঋষি সুনাক

ইরানে হামলা করা থেকে ট্রাম্পকে সরে আসার আহ্বান স্টারমারের