18.3 C
London
August 29, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে স্কিলড ওয়ার্কার ভিসায় বড় ধসঃ ৩ বছরে কমেছে ৬২ শতাংশ

যুক্তরাজ্যে বিদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা দেওয়ার সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। হোম অফিসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া ১২ মাসে কর্মী ও তাদের নির্ভরশীলদের মিলিয়ে মোট ২ লাখ ৩৫ হাজার ওয়ার্ক ভিসা দেওয়া হয়েছে। আগের ১২ মাসের তুলনায় এ সংখ্যা ১৮ শতাংশ কম এবং ২০২৩ সালের তুলনায় ৬২ শতাংশ কম।

ভিসা কমার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা খাত এবং দক্ষ কর্মী ভিসার উল্লেখযোগ্য পতন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা কর্মী ভিসা ৯০ শতাংশ এবং দক্ষ কর্মী ভিসা ৪৮ শতাংশ কমেছে। ফলে যুক্তরাজ্যের বৈধ কর্মী অভিবাসন ব্যবস্থায় গত কয়েক বছরে বড় ধরনের পরিবর্তনের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

একই সময়ে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের পেছনে সরকারের ব্যয়ও কমেছে, যদিও ব্যয়ের পরিমাণ এখনও বিপুল। ২০২৫/২৬ অর্থবছরে আশ্রয় ব্যবস্থায় হোম অফিসের ব্যয় হয়েছে ৪.৩৬ বিলিয়ন পাউন্ড। আগের অর্থবছরে এই ব্যয় ছিল ৪.৭৬ বিলিয়ন পাউন্ড। অর্থাৎ এক বছরে ব্যয় ৮ শতাংশ কমেছে এবং এটি টানা দ্বিতীয় বছর আশ্রয় খাতে সরকারি ব্যয় কমার ঘটনা।

এই ৪.৩৬ বিলিয়ন পাউন্ডের মধ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন ও সরাসরি সহায়তা, সংশ্লিষ্ট জনবল এবং অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ব্যয় রয়েছে। তবে ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ছোট নৌকায় আসা অভিবাসীদের আটক বা প্রতিহত করার খরচ এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়। ২০২৩/২৪ অর্থবছরে আশ্রয় খাতে সরকারি ব্যয় রেকর্ড ৫.৩৮ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছিল।

আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেলে রাখার সংখ্যাতেও বড় পতন হয়েছে। ২০২৬ সালের জুনের শেষে যুক্তরাজ্যের হোটেলগুলোতে ১৬ হাজার ২১ জন আশ্রয়প্রার্থী অবস্থান করছিলেন। এক বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ৪১। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে হোটেলে থাকা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। ২০২২ সালে এ ধরনের তথ্য প্রকাশ শুরু হওয়ার পর এটিই সর্বনিম্ন সংখ্যা।

এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে হোটেলে থাকা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫৬ হাজার ১৮-তে পৌঁছেছিল। ফলে সাম্প্রতিক পতনকে সরকার আশ্রয় ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানোর ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরছে।

২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া ১২ মাসে যুক্তরাজ্যে মোট ৮৫ হাজার ৮৯১ জন আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। আগের বছরের ১ লাখ ৮ হাজার ৫৮৫ জনের তুলনায় এটি ২১ শতাংশ কম। সরকারি হিসাবে, ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়া সময়ের পর এটিই সর্বনিম্ন বার্ষিক সংখ্যা। তবে হোম অফিস বলছে, সংখ্যাটি এখনও ২০২১ সালের আগের স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় বেশি।

আশ্রয়প্রার্থীদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পথেও গুরুত্বপূর্ণ চিত্র উঠে এসেছে। সর্বশেষ ১২ মাসে ৩৩ হাজার ৯৪৯ জন ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে এসে আশ্রয় দাবি করেছেন, যা মোট আশ্রয়প্রার্থীর প্রায় ৪০ শতাংশ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবৈধ প্রবেশের পথগুলো মিলিয়ে মোট আশ্রয়প্রার্থীর ৫২ শতাংশ এই ধরনের পথ ব্যবহার করেছেন।

অন্যদিকে ৩৪ হাজার ৯৯৯ জন আশ্রয়প্রার্থী দাবি করার আগে কোনো ভিসা বা অন্য বৈধ অনুমতি নিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন। তাদের মধ্যে কাজের ভিসা-ধারীরা একটি বড় অংশ। সরকারি তথ্য বলছে, আগের বৈধ অবস্থান থেকে আশ্রয় দাবির প্রবণতাও অভিবাসন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

আশ্রয় আবেদনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা মানুষের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৬ সালের জুনের শেষে প্রাথমিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলেন ৪০ হাজার ১৬৮ জন। এক বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ৯০ হাজার ৮১২। অর্থাৎ এক বছরে অপেক্ষমাণ মানুষের সংখ্যা ৫৬ শতাংশ কমেছে। এটি ২০১৯ সালের মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়।

এক বছরের বেশি সময় ধরে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীর সংখ্যাও ৬১ শতাংশ কমে ১১ হাজার ১৪-তে নেমেছে। এক বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ২৭ হাজার ৯৯৮। তবে একই সময়ে ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া বছরে ৪২ হাজার ৩৯৪ জনকে শরণার্থী সুরক্ষা বা যুক্তরাজ্যে থাকার অন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা আগের বছরের ৫৩ হাজার ৪৮০ জনের তুলনায় ২১ শতাংশ কম।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ পরিসংখ্যানগুলোকে সরকারের অভিবাসন নীতির সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার দাবি, আশ্রয় আবেদনের ব্যাকলগ কমেছে, হোটেলে থাকা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমেছে, অবৈধভাবে কাজের অভিযোগে গ্রেপ্তার বেড়েছে এবং প্রত্যাবাসন ও ফেরত পাঠানোর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ছোট নৌকায় চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার সংখ্যাও কমছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

তবে সরকারের দাবি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কনজারভেটিভদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকার হোটেল থেকে আশ্রয়প্রার্থীদের সরিয়ে অন্য ধরনের আবাসনে স্থানান্তর করছে মাত্র। ছায়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ক্রিস ফিল্প দাবি করেছেন, করদাতাদের অর্থে ৯৩ হাজারের বেশি মানুষ আবাসন পাচ্ছেন এবং সরকারের সময়ে ছড়িয়ে দেওয়া আবাসনে থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে।

সূত্রঃ দ্য লন্ডন স্ট্যান্ডার্ড

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে অস্থায়ী ভিসা নিয়ে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের পক্ষে যুগান্তকারী রায়

টেমুর ক্লিনিং ব্রাশে শিশুর চুল ছিঁড়ে যাওয়াঃ নরফোকের মায়ের ক্ষোভ, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

নিউজ ডেস্ক

মানি লন্ডারিং দমনে কড়াকড়িঃ যুক্তরাজ্যের আইন ফার্মে এফসিএর কঠোর নজরদারি শুরু