ব্রিটেনে হাউজিং বেনিফিট ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। ৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে নতুন নিয়মের আওতায় সহায়তাপ্রাপ্ত আবাসন ও অস্থায়ী আবাসনে থাকা কর্মক্ষম বয়সী দাবিদারদের আয়ের একটি বড় অংশ হিসাবের বাইরে রাখা হবে। সরকারের হিসাবে, এতে প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন।
নতুন নিয়মের লক্ষ্য হলো কাজ শুরু করা বা কর্মঘণ্টা বাড়ানোর কারণে হাউজিং বেনিফিট দ্রুত কমে যাওয়ার যে সমস্যা ছিল, তা দূর করা। আগের নিয়মে হাউজিং বেনিফিটের ক্ষেত্রে আয়ের ছাড় তুলনামূলক কম থাকায় কেউ কাজ শুরু করলে বা বেশি আয় করলে তার বেনিফিট দ্রুত কমে যেতে পারত। ফলে বাড়তি কাজ করেও মোট আয় খুব বেশি না বাড়ার পরিস্থিতি তৈরি হতো।
সরকার জানিয়েছে, নতুন নিয়মে হাউজিং বেনিফিটের আয়ের হিসাব ইউনিভার্সেল ক্রেডিটের নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। এর ফলে দাবিদারদের উপার্জনের একটি নির্দিষ্ট অংশ বেনিফিট নির্ধারণের সময় বিবেচনায় নেওয়া হবে না। এতে আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাউজিং বেনিফিট ধীরে ধীরে কমবে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, মানুষের কখনোই মাথার ওপর ছাদ ধরে রাখা এবং কাজ করার মধ্যে একটি বেছে নিতে বাধ্য হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, নতুন পরিবর্তনের মাধ্যমে মানুষ তাদের উপার্জনের আরও বেশি অংশ নিজেদের কাছে রাখতে পারবেন।
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ও প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক মন্ত্রী স্যার স্টিফেন টিমস বলেন, আগের ব্যবস্থা কিছু ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা মানুষকে কাজের দিকে এগিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে কাজ থেকে দূরে রাখছিল। নতুন নিয়মের মাধ্যমে কাজ করা বা কর্মঘণ্টা বাড়ানোকে আর্থিকভাবে বেশি সুবিধাজনক করা হচ্ছে।
নতুন নিয়মে সহায়তাপ্রাপ্ত আবাসন বা অস্থায়ী আবাসনে থাকা কর্মক্ষম বয়সী দাবিদারদের জন্য বিভিন্ন ধরনের আয়ের ছাড় নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৫ বছরের কম বয়সী একক দাবিদার বা একক অভিভাবকের ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক আয় থেকে প্রায় ৬১ পাউন্ড ৪১ পেনি পর্যন্ত হিসাবের বাইরে রাখা হবে। ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী একক দাবিদার বা একক অভিভাবকের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ প্রায় ৭৭ পাউন্ড ৭৩ পেনি।
দম্পতির ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী এই সাপ্তাহিক ছাড় প্রায় ৬১ পাউন্ড ৫৩ পেনি থেকে ১১৯ পাউন্ড ৭০ পেনি পর্যন্ত হবে। এসব অর্থের পরিমাণ ভবিষ্যতে প্রতি বছর সংশোধন করা হবে।
সহায়তাপ্রাপ্ত আবাসন বা ‘নির্দিষ্ট আবাসন’ এবং অস্থায়ী আবাসনে থাকা অনেক মানুষ দৈনন্দিন জীবনযাপনের খরচের জন্য ইউনিভার্সেল ক্রেডিট এবং ভাড়ার জন্য হাউজিং বেনিফিট পেয়ে থাকেন। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটের আবাসন খরচের অংশ প্রযোজ্য হয় না।
সরকারের দাবি, নতুন ব্যবস্থা এমন একটি ‘ক্লিফ এজ’ বা আকস্মিক সুবিধা কমে যাওয়ার পরিস্থিতি দূর করবে, যেখানে সামান্য বেশি আয় করলেই কেউ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আবাসন সহায়তা হারাতে পারতেন। নতুন নিয়ম ৫ অক্টোবর থেকে নতুন ও বিদ্যমান—উভয় ধরনের দাবির ক্ষেত্রেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়েছে।
সূত্রঃ কেন্টলাইভ
এমকে

