TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের আশঙ্কায় শক্তি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রঃ সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকিতে ব্রিটেন

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে—এমন আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ব্রিটেনসহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও পাল্টা হামলা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট মহল।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র জার্মানি ও টেক্সাসে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটি থেকে বিপুলসংখ্যক সি-১৭ পরিবহন বিমান সৌদি আরব, জর্ডান ও কাতারে পাঠিয়েছে। এসব বিমান ইসরায়েল হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০টির বেশি সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমানের পাশাপাশি বড় আকারের সামরিক সরঞ্জাম বহনে সক্ষম সি-৫এম গ্যালাক্সি বিমানও মোতায়েন করা হয়েছে। এসব বিমানে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে সম্ভাব্য ইরানি হামলা থেকে সুরক্ষা দেওয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণের শেষ সময়েও এসব সামরিক বিমান স্থানান্তর করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে পর্দার আড়ালে আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না চালানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে নির্বাচনের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং উগ্রপন্থীদের মাধ্যমে ইউরোপে পাল্টা হামলার আশঙ্কা বাড়ছে বলে গোয়েন্দা মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করার চেষ্টা করছে ইরান—এমন সন্দেহের কথাও জানিয়েছে ডেইলি মিরর।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইউরোপের অবকাঠামোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া ইরানের চাপ প্রয়োগের কৌশলের অংশ হতে পারে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে ইউরোপের ভূখণ্ডে সরাসরি প্রচলিত সামরিক হামলার আশঙ্কা অত্যন্ত কম। বরং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সাইবার হামলা, স্থানীয় পর্যায়ে নাশকতা এবং উগ্রপন্থীদের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে ইরানের অবস্থানও আরও কঠোর হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্রিটিশ রয়্যাল নেভি, রয়্যাল এয়ার ফোর্স এবং গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-সিক্সকে ‘সন্ত্রাসী ও শত্রুভাবাপন্ন’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

ইরানের হামলা থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মিত্রদের সামরিক ঘাঁটি রক্ষায় ব্রিটেন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে প্রকাশ্যে সমর্থন না দিলেও ইরানি ড্রোন প্রতিহত করতে সহযোগিতা করেছে। তবে তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়া এবং মিত্রদের প্রতিরক্ষায় সহযোগিতা করার মধ্যে তারা কোনো পার্থক্য করছে না।

অন্যদিকে, গত মাসে গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির বাইরে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ। ওই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বি-১ বোমারু বিমানসহ বিভিন্ন সামরিক যুদ্ধবিমান রাখা হয়েছিল। ঘটনাটির তদন্ত এখনো চলছে।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর

এমকে

আরো পড়ুন

ভালোবাসা দিবসে ফুলের সংকটে পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য

ব্রিটেনে ভুয়া সমকামী সাজায় বাংলাদেশি সাজ্জাদ গ্রেফতারঃ আবার জামিনে মুক্ত

নিউজ ডেস্ক

টিউলিপের পতনের ঘণ্টা বেজেছিল ১২ বছর আগেই, নেপথ্যে একটি ছবি