22.7 C
London
September 12, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ৯০ হাজারের বেশি আশ্রয় আপিল এখনো ঝুলেঃ তবে কমেছে নতুন মামলার চাপ

ব্রিটেনে আশ্রয় আবেদন নিয়ে ইমিগ্রেশন ট্রাইব্যুনালে জমে থাকা আপিলের জট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে। সর্বশেষ সরকারি ত্রৈমাসিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ব্যাকলগ এখনো বেড়েছে, তবে আগের কয়েকটি ত্রৈমাসিকের তুলনায় বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

আশ্রয় আপিলের বকেয়া মামলা আগের ৮৭ হাজার ৪৫০টি থেকে বেড়ে ৯০ হাজার ৩৪১টিতে পৌঁছেছে। অর্থাৎ এক ত্রৈমাসিকে বকেয়া মামলার সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার বেড়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় এই বৃদ্ধি অপেক্ষাকৃত ধীর।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নতুন করে দাখিল হওয়া আশ্রয় আপিলের সংখ্যা আগের ত্রৈমাসিকের ১৪ হাজার ৭৪৯টি থেকে কমে ১১ হাজার ৫৯৬টিতে দাঁড়িয়েছে। ট্রাইব্যুনালের পরিসংখ্যানে নতুন আপিলকে ‘রিসিপ্টস’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

নতুন আপিল কমার একটি কারণ হিসেবে হোম অফিসের পক্ষ থেকে কম সংখ্যক প্রাথমিক আশ্রয় সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে ইমিগ্রেশন ট্রাইব্যুনালে নতুন আপিলের চাপও আগের তুলনায় কমেছে।

একই সময়ে আশ্রয় আপিলের মোট নিষ্পত্তি বা ‘ডিসপোজালস’ বেড়েছে। আগের ত্রৈমাসিকে ৭ হাজার ৭৮৯টি আপিল নিষ্পত্তি হয়েছিল। সর্বশেষ ত্রৈমাসিকে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮ হাজার ৭০৯টি।

‘ডিসপোজাল’ বলতে শুধু বিচারকের রায়ের মাধ্যমে একটি আপিল শেষ হওয়াকে বোঝায় না। কোনো আপিল অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হওয়া, বাতিল হওয়া, কোনো পক্ষের আবেদন প্রত্যাহার করা কিংবা অন্য কোনো কারণে আপিলের প্রক্রিয়া শেষ হলেও সেটি ডিসপোজাল হিসেবে পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়।

আশ্রয় আপিল প্রত্যাহারের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রয়েছে। মোট ডিসপোজালের ৩৭ শতাংশ আপিল শুনানি হওয়ার আগেই প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ফ্রি মুভমেন্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এসব প্রত্যাহারের একটি বড় অংশ হোম অফিসের নিজস্ব সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত। কোনো প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে আপিল হলে হোম অফিসের কর্মকর্তা সিদ্ধান্তটি পুনরায় পরীক্ষা করেন। যদি মনে হয়, ওই সিদ্ধান্ত বিচারকের সামনে যথাযথভাবে সমর্থন করা কঠিন হবে, তাহলে হোম অফিস সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করতে পারে।

এরপর অনেক ক্ষেত্রে হোম অফিস আগের প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আশ্রয় মঞ্জুর করে। তবে কিছু ক্ষেত্রে আগের প্রত্যাখ্যান নতুন ও অধিকতর শক্তিশালী কারণ দেখিয়ে পুনরায় জারি করা হতে পারে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আশ্রয় আপিলের অবশিষ্ট মামলাগুলোর ৩৯ শতাংশ অনুমোদিত হচ্ছে। ৩৭ শতাংশ আপিল শুনানির আগেই প্রত্যাহার এবং অবশিষ্ট আপিলের ৩৯ শতাংশ অনুমোদনের পরিসংখ্যানকে একত্রে বিশ্লেষণ করে ফ্রি মুভমেন্ট বলেছে, হোম অফিসের প্রাথমিক আশ্রয় সিদ্ধান্তের একটি বড় অংশ পরবর্তী পর্যায়ে টেকসই হচ্ছে না।

আশ্রয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের মান নিয়েও এর আগে সমালোচনা হয়েছে। গত জুনে আশ্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মান নিয়ে একটি কঠোর পরিদর্শন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল বলে ফ্রি মুভমেন্ট জানিয়েছে।

তবে ইমিগ্রেশন ট্রাইব্যুনালের কাজের সক্ষমতা বাড়ারও প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের মাধ্যমে আশ্রয় আপিলের সিদ্ধান্তের সংখ্যা আগের ত্রৈমাসিকের ৪ হাজার ৮৭টি থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৮২৮টিতে দাঁড়িয়েছে।

ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনালের এসব সিদ্ধান্তের কিছু ক্ষেত্রে আপার ট্রাইব্যুনালে আপিল করা যায়। ফলে পরিসংখ্যানে এগুলোকে সবসময় সম্পূর্ণ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের সংখ্যা বাড়ার পেছনে অতিরিক্ত সম্পদ, ইমিগ্রেশন ট্রাইব্যুনাল বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে কাজের ওপর বাড়তি মনোযোগ অথবা আশ্রয় আপিল নিষ্পত্তির জন্য চালু হওয়া নতুন আইনগত সময়সীমা—কোনটি প্রধান ভূমিকা রাখছে, তা স্পষ্ট নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা চলতি বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে হোম অফিসের প্রাথমিক সিদ্ধান্তের ব্যাকলগও অনেকটাই কমেছে। ফলে ট্রাইব্যুনালে নতুন মামলার চাপ কমার পাশাপাশি আগের জমে থাকা মামলাগুলো নিষ্পত্তির সুযোগ বাড়ছে।

ফ্রি মুভমেন্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নতুন আপিলের সংখ্যা কমা, প্রাথমিক সিদ্ধান্তের ব্যাকলগ হ্রাস এবং ট্রাইব্যুনালে মূল মামলার সিদ্ধান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে আশ্রয় আপিলের ব্যাকলগ স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পরবর্তী ত্রৈমাসিকে বহু বছর পর প্রথমবারের মতো আশ্রয় আপিলের ব্যাকলগ কমতে শুরু করতে পারে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাজ্যের প্রস্তাবিত ইমিগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম বিল ২০২৬-এর অধীনে ইমিগ্রেশন ট্রাইব্যুনালের কাঠামো পরিবর্তন ও বিলুপ্তির পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ফ্রি মুভমেন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নতুন কর্মীদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিদ্যমান ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

বদলে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের ভ্রমণ ভিসানীতি

যুক্তরাজ্যের রাস্তায় নামছে চালকবিহীন বাস

ফাঁস হতে পারে ডায়ানার গোপন প্রেমের চিঠি