যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ, কাজ, পড়াশোনা কিংবা বসবাসের জন্য ভিসা পাওয়া বিদেশিদের জন্য ই-ভিসা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি ধাপ স্পষ্ট করেছে দেশটির ভিসা ও অভিবাসন বিভাগ। নতুন নির্দেশনায় ভিসার আবেদন করা থেকে শুরু করে অনুমোদনের পর ই-ভিসা অনলাইনে দেখার সুযোগ পাওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে তুলে ধরা হয়েছে।
যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে কাগজপত্র ও শারীরিক অভিবাসন নথিনির্ভর ব্যবস্থা থেকে ডিজিটাল অভিবাসন ব্যবস্থায় চলে গেছে। ই-ভিসা এখন একজন ব্যক্তির যুক্তরাজ্যে অভিবাসন অবস্থার ডিজিটাল রেকর্ড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ই-ভিসা দেখতে এবং নিজের অভিবাসন অধিকার প্রমাণ করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যুক্তরাজ্যের ভিসা ও অভিবাসন বিভাগের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হয়।
নির্দেশনার প্রথম ধাপে বিদেশিদের অনলাইনে যুক্তরাজ্যের ভিসার জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে। আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে হবে এবং ভিসা আবেদনকেন্দ্রে গিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করতে হতে পারে। আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর ভিসা ও অভিবাসন বিভাগের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপে আবেদনকারীদের ভিসার সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখতে হবে। আবেদন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানানো হবে। এ সময় ই-মেইলের জাঙ্ক বা স্প্যাম ফোল্ডারও নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা চোখ এড়িয়ে না যায়।
তৃতীয় ধাপটি শুরু হবে ভিসার আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পর। সফল আবেদনকারীদের যুক্তরাজ্যের ভিসা ও অভিবাসন বিভাগের অনলাইন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই পরবর্তী সময়ে ই-ভিসায় প্রবেশ করা এবং নিজের অভিবাসন অবস্থার তথ্য দেখা সম্ভব হবে। সরকারি নির্দেশনাতেও সফল আবেদনকারীদের ই-ভিসা ব্যবহারের জন্য যুক্তরাজ্যের ভিসা ও অভিবাসন অ্যাকাউন্ট তৈরি করার কথা বলা হয়েছে।
চতুর্থ ধাপে আবেদনকারীকে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে এবং অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ই-ভিসা সংযুক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী যুক্তরাজ্যের অভিবাসন পরিচয় যাচাই অ্যাপ ব্যবহার করতে হতে পারে। পরিচয় যাচাই এবং অ্যাকাউন্ট সংযুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আবেদনকারী তার ডিজিটাল অভিবাসন অবস্থায় প্রবেশের সুযোগ পাবেন।
পঞ্চম ও শেষ ধাপে ই-ভিসা দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে। ই-ভিসা প্রস্তুত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হবে। এরপর অনলাইনে নিজের ই-ভিসা দেখা যাবে। ভ্রমণের আগে ই-ভিসায় থাকা নাম, জন্মতারিখ, জাতীয়তা, পাসপোর্টের তথ্য এবং ভিসার অনুমতির বিবরণ সঠিক রয়েছে কি না, তা ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ই-ভিসা হলো একজন ব্যক্তির পরিচয় ও অভিবাসন অনুমতির ডিজিটাল রেকর্ড। এর মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োগকর্তা, বাড়ির মালিকসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে নির্দিষ্ট অভিবাসন অধিকার প্রমাণ করা যায়। এ জন্য অনলাইন ব্যবস্থায় থাকা তথ্য সঠিক রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন ব্যবস্থায় পাসপোর্টে থাকা পুরোনো ধরনের ভিসা স্টিকার বা অন্যান্য শারীরিক অভিবাসন নথির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অনলাইন রেকর্ডকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে বৈধ ই-ভিসা ভিসা স্টিকারের পরিবর্তে ব্যবহার করা যায়।
তবে ভিসা অনুমোদন পেলেই প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না। বিশেষ করে প্রথমবার যুক্তরাজ্যের ভিসা পাওয়া বিদেশিদের জন্য ভিসা অনুমোদনের পর অনলাইন অ্যাকাউন্ট তৈরি, পরিচয় যাচাই এবং ই-ভিসা সংযুক্ত করার ধাপগুলো সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আগে ভ্রমণকারীদের নিজেদের পাসপোর্টের তথ্যও ই-ভিসার সঙ্গে সঠিকভাবে যুক্ত আছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ ই-ভিসা ব্যবস্থায় ভ্রমণের সময় ব্যবহৃত পাসপোর্টের তথ্য সঠিকভাবে সংযুক্ত না থাকলে সীমান্তে পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের ডিজিটাল অভিবাসন ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত, নিরাপদ ও সহজে যাচাই করার সুযোগ তৈরি করা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ই-ভিসা হারিয়ে যাওয়া, চুরি বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি নেই এবং অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে অভিবাসন অধিকার প্রমাণ করা যায়।
তাই যুক্তরাজ্যে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া বিদেশিদের জন্য মূল বার্তা হলো—ভিসা অনুমোদনের পর ই-ভিসা প্রক্রিয়াকে অবহেলা করা যাবে না। আবেদন, সিদ্ধান্ত, অ্যাকাউন্ট তৈরি, পরিচয় যাচাই এবং ই-ভিসা দেখা—এই পাঁচটি ধাপ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার পরই ভ্রমণের আগে নিজের ডিজিটাল অভিবাসন অবস্থার তথ্য নিশ্চিত করা উচিত।
সূত্রঃ লিজিট.এনজি
এম.কে

