চেশায়ারের ডেয়ার্সবারিতে ক্রিমফিল্ডস সংগীত উৎসব শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে মাঠের মাটির নিচ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদক উদ্ধার করেছে পুলিশ। তল্লাশিতে এক্সট্যাসি, এমডিএমএ, কেটামিনসহ ২০৪টি নাইট্রাস অক্সাইড ক্যানিস্টার পাওয়া গেছে। উৎসবকে ঘিরে পুলিশের বিশেষ অভিযান আরও কয়েক দিন চলবে বলে জানিয়েছে চেশায়ার কনস্ট্যাবুলারি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ডেয়ার্সবারি এলাকার ক্রিমফিল্ডস উৎসবস্থলে আগাম তল্লাশি চালানো হচ্ছে ‘ডিসরাপশন ওয়ার্ক’-এর অংশ হিসেবে। বিশেষায়িত কর্মকর্তাদের চালানো তল্লাশির প্রথম সপ্তাহেই ২০৪টি নাইট্রাস অক্সাইড ক্যানিস্টার এবং বড় ব্যাগে রাখা এক্সট্যাসি, এমডিএমএ ও কেটামিনের ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে অস্বাভাবিক আকৃতির কিছু ট্যাবলেটও রয়েছে। পুলিশের প্রকাশিত ছবিতে কর্নেট্টো আইসক্রিমের লোগোর মতো দেখতে সবুজ রঙের ট্যাবলেট দেখা গেছে। উদ্ধার হওয়া মাদকগুলো ক্লাস এ, বি ও সি শ্রেণির বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, কিছু ব্যক্তি উৎসবের সময় নিরাপত্তা তল্লাশি এড়িয়ে মাদক ব্যবহারের বা সরবরাহের উদ্দেশ্যে কয়েক মাস আগেই এসব জিনিস মাঠের বিভিন্ন স্থানে পুঁতে রেখেছিল। চেশায়ার কনস্ট্যাবুলারি জানিয়েছে, এমন ব্যক্তিরা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে উৎসবের সময় মাটির নিচ থেকে মাদক তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করে থাকতে পারেন।
চেশায়ার পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট অ্যান্ডি ব্লিজার্ড বলেন, ক্রিমফিল্ডসে মাদকের বিষয়ে প্রতি বছরই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হয়। এরপরও কিছু ব্যক্তি মাদক লুকিয়ে বা মাটিতে পুঁতে রেখে পুলিশকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, পুলিশের বিশেষায়িত তল্লাশি দল উৎসব শুরুর আগে মাঠের বিস্তীর্ণ এলাকা খুঁজে দেখছে এবং তল্লাশি অব্যাহত থাকায় আরও মাদক উদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে। যারা কয়েক মাস আগে মাটিতে মাদক পুঁতে রেখেছিল, তারা উৎসবে ফিরে এসে সেগুলো আর আগের জায়গায় খুঁজে পাবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
অভিযানের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো, পুলিশ মাদক লুকিয়ে রাখা ব্যক্তিদের উদ্দেশে কার্যত ‘ফেরত নিতে চাইলে যোগাযোগ করুন’—এমন বার্তা দিয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেউ যদি উৎসবস্থলে রুকস্যাক বা বড় ব্যাগ পুঁতে রেখে থাকেন এবং সেটি ফিরে পেতে চান, তাহলে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। একই সঙ্গে এসব মাদকের মালিকদের শনাক্ত করতে তদন্তও শুরু হয়েছে।
আগামী ২৭ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ডেয়ার্সবারিতে অনুষ্ঠিত হবে ক্রিমফিল্ডস ২০২৬। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবারের উৎসবে প্রায় ৮০ হাজার সংগীতপ্রেমী অংশ নেবেন। উৎসব চলাকালে পুলিশ আয়োজক ও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে কাজ করবে।
উৎসবস্থলে প্রবেশের আগে দর্শনার্থীদের তল্লাশি, মাদক শনাক্তকারী কুকুরের ব্যবহার এবং নিষিদ্ধ সামগ্রী জমা দেওয়ার জন্য ‘অ্যামনেস্টি বিন’ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মাদক বা অস্ত্র নিয়ে উৎসবে প্রবেশের চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্রিমফিল্ডসকে ঘিরে মাদকবিরোধী পুলিশের কঠোর অবস্থানের নজিরও রয়েছে। চলতি বছরের জুনে ক্রিমফিল্ডস ২০২৪-এ মাদক বিক্রির ঘটনায় লিভারপুলের এক ব্যক্তিকে তিন বছর আট মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আরেক ঘটনায় উৎসবে মাদক সরবরাহের দায়ে এক ব্যক্তিকে তিন বছরের কারাদণ্ড স্থগিত রেখে দুই বছরের জন্য স্থগিত সাজা দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশ বলছে, এবারের অভিযান শুধু উৎসব চলাকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; উৎসবের আগে ও পরেও মাদক সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। ফলে উৎসবস্থলে মাদক লুকিয়ে রেখে পরে তা সংগ্রহ করার পরিকল্পনাও কঠোর নজরদারির আওতায় থাকবে।
সূত্রঃ দ্য সান
এম.কে

