21 C
London
July 21, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাজ্যের প্লাইমাউথ উপকূলের অদূরে রুশ যুদ্ধজাহাজের গোলাবর্ষণ মহড়া ঘিরে উদ্বেগ

যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের অদূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় রাশিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজের সরাসরি গোলাবর্ষণের মহড়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (এমওডি) নিশ্চিত করেছে, প্লাইমাউথ উপকূল থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ৪৬ মাইল) দক্ষিণে রুশ ফ্রিগেট নিউস্ত্রাশিমি প্রায় ৩০ মিনিটব্যাপী আর্টিলারি মহড়া পরিচালনা করে। পুরো সময় জাহাজটির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে রয়্যাল নেভির অফশোর প্যাট্রোল জাহাজ এইচএমএস টাইন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গোলাবর্ষণ শুরুর আগে রুশ যুদ্ধজাহাজটি আন্তর্জাতিক নৌ-প্রটোকল অনুসরণ করে ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজকে তাদের মহড়ার বিষয়ে অবহিত করে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে কিছুটা দূরে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। পরে আন্তর্জাতিক জলসীমাতেই মহড়াটি পরিচালিত হয়। একই সময়ে একটি ফরাসি সামরিক বিমানও রুশ জাহাজটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল।
এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রয়্যাল নেভি পুরো মহড়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং রুশ জাহাজটির কার্যক্রমের ওপর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাজ্যের আশপাশের সমুদ্রসীমায় রাশিয়ার নৌ-তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত জুন মাসে ইংলিশ চ্যানেলে রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর একটি তেলবাহী জাহাজে অভিযান চালায় রয়্যাল মেরিন কমান্ডোরা। রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) এবং ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির সহায়তায় পরিচালিত ওই অভিযানে জাহাজটিতে উঠে ছয় ঘণ্টা তল্লাশি চালানো হয়।
সেই অভিযানের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছিলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।
এর আগে আরেকটি ঘটনায় রুশ ফ্রিগেট অ্যাডমিরাল গ্রিগোরোভিচ ইংল্যান্ড থেকে ফ্রান্সের পথে যাত্রারত একটি ব্রিটিশ দম্পতির ইয়টের সামনে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, গুলিগুলো ইয়টকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়নি; সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানোর উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা হিসেবে সেগুলো নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
সর্বশেষ এই মহড়াকে কেন্দ্র করে যদিও কোনো সংঘর্ষ বা নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি, তবুও ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় সামরিক মহড়া বৈধ হলেও যুক্তরাজ্যের উপকূলের এত কাছে রুশ যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি এবং ধারাবাহিক সামরিক তৎপরতা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ও কৌশলগত পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্রঃ দ্য মিরর
এম.কে

আরো পড়ুন

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কমিটির

পাঁচটি সামরিক স্থাপনায় ইরানের সফল হামলার বিষয়ে ইসরায়েল নীরবঃ দ্য টেলিগ্রাফ

৬০ দিনের ডেডলাইন ঘনিয়ে আসছেঃ ইরান নিয়ে চুক্তি করতে ‘সময় আছে’ বললেও চাপে ট্রাম্প