12.1 C
London
October 22, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের সড়ক, রেল ও বন্দরে পুলিশের ‘অপারেশন লকস্ট্রিম’ শুরুঃ দুই সপ্তাহে গ্রেপ্তার ৪৫২

যুক্তরাজ্যে সংঘবদ্ধ অভিবাসন অপরাধ দমনে দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে ২৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তারা। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত ‘অপারেশন লকস্ট্রিম’ নামের এ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে মোট ৪৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল পুলিশ চিফস কাউন্সিল।
যুক্তরাজ্যের সড়ক, রেল নেটওয়ার্ক ও বিভিন্ন বন্দরে দুই সপ্তাহ ধরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময়ে পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তারা ৩৮৭ বার অভিযান চালান। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২৬৭ জনের বিরুদ্ধে অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযানে ৪৯১টি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৭ হাজার প্যাকেট সিগারেট, ৪০ কেজি গাঁজা, ছুরি ও গোলাবারুদসহ ২২টি অস্ত্র, ৫৭টি মোবাইল ফোন এবং ৬ লাখ পাউন্ডের বেশি নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ আরও ৯০০টির বেশি জরিমানা করেছে, যার ৬২ শতাংশ ছিল সড়ক-সংক্রান্ত অপরাধে।
ন্যাশনাল পুলিশ চিফস কাউন্সিলের সংঘবদ্ধ অপরাধবিষয়ক প্রধান উপপ্রধান পুলিশ কর্মকর্তা ওয়েন্ডি গান্নি বলেন, সংঘবদ্ধ অভিবাসন অপরাধ শুধু সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নয়। অপরাধীরা যুক্তরাজ্যের সড়ক, রেল ও বন্দর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মানুষ ও পণ্য পরিবহন করছে বলে গোয়েন্দা তথ্য থেকে জানা গেছে।
তিনি বলেন, অবৈধভাবে কাজ করানো, অভিবাসন অপরাধ এবং জাল নথি ব্যবহারের অভিযোগে এসব গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের মাধ্যমে অপরাধীদের ব্যবহৃত যাতায়াতের পথ, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র এবং তাদের কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য ভবিষ্যতে অভিযান আরও কার্যকর করতে সহায়তা করবে।
এর আগে গত মাসে স্কটল্যান্ডে মানব পাচারবিরোধী পৃথক অভিযানে ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ স্কটল্যান্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল মানব পাচার মোকাবিলায় তাদের পরিচালিত সবচেয়ে বড় ও সমন্বিত অভিযান।
প্রায় ৩০০ কর্মকর্তা এ অভিযানে অংশ নেন। গ্লাসগো, ফালকার্ক, ডান্ডি এবং মধ্য স্কটল্যান্ড ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ৪৭টি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে গাঁজা চাষের ১৪টি স্থাপনার সন্ধান পাওয়া যায় এবং সম্ভাব্য মানব পাচারের শিকার কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়। পুলিশ এসব গাঁজা চাষের স্থাপনার আনুমানিক মূল্য ৩০ লাখ পাউন্ড বলে জানিয়েছে।
‘অপারেশন কেনড্রিউ’ নামের এ তদন্তে যুক্তরাজ্যজুড়ে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে মানব পাচার, মাদক উৎপাদন, জালিয়াতি, জোরপূর্বক শ্রম, অভিবাসন অপরাধ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটির সঙ্গে ভিয়েতনাম এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের নাগরিকদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
পুলিশ স্কটল্যান্ডের প্রধান কনস্টেবল জো ফ্যারেল বলেন, এ অভিযানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি, এইচএমআরসি এবং মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হয়েছে।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের দুই-সন্তান বেনিফিট ক্যাপ নিয়ে নতুন পরিকল্পনা

অষ্টম সন্তানের বাবা হলেন বরিস জনসন

মায়ের হাতেই অপহরণঃ সোমালিয়ায় ‘রি-এডুকেশন সেন্টারে’ শিকলবন্দি ব্রিটিশ কিশোরী