ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে যৌন অপরাধের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়লেও এসব ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বা চার্জ আনার হার অত্যন্ত কম। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশজুড়ে পুলিশ ২ লাখ ১৭ হাজার যৌন অপরাধ নথিভুক্ত করেছে। একই সময়ে যৌন অপরাধের সংখ্যা ২০১৬ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
সামগ্রিক অপরাধের প্রবণতা গত এক দশকে কমে এলেও যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গত বছরই ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের পুলিশ বাহিনীগুলো বিপুলসংখ্যক যৌন অপরাধ রেকর্ড করেছে। কিন্তু এসব মামলার বড় একটি অংশে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো চার্জ আনা হয়নি।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে পুলিশ যে অপরাধগুলো নথিভুক্ত করেছে, তার মধ্যে মাত্র ৪.৭ শতাংশ মামলায় একজন অপরাধীর বিরুদ্ধে চার্জ আনা হয়েছে। অর্থাৎ ২০টিরও বেশি নথিভুক্ত অপরাধের মধ্যে গড়ে মাত্র একটি মামলায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে পৌঁছানো গেছে।
ধর্ষণের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। নারী ভুক্তভোগীদের করা রিপোর্ট করা ধর্ষণ মামলার মাত্র ৩.৬ শতাংশে সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে চার্জ আনা হয়েছে। পুরুষ ভুক্তভোগীদের ক্ষেত্রে এই হার আরও কম—মাত্র ১.৪ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যান যৌন অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিপুলসংখ্যক অভিযোগ পুলিশের কাছে নথিভুক্ত হলেও তার তুলনায় খুব অল্পসংখ্যক ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জ আনা হচ্ছে।
মোট মামলার সংখ্যার হিসাবে ইংল্যান্ডের বড় শহরগুলোতেই যৌন অপরাধের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বার্মিংহাম, লিডস ও ম্যানচেস্টার এ ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে। বড় শহরগুলোর বিপুল জনসংখ্যা এবং ব্যস্ত নগরজীবনের কারণে মোট সংখ্যার হিসাবে এসব এলাকায় অপরাধের পরিমাণ বেশি দেখা যাচ্ছে।
তবে জনসংখ্যার অনুপাতে হিসাব করলে চিত্রটি বদলে যায়। এ ক্ষেত্রে সমুদ্রতীরবর্তী শহর ব্ল্যাকপুল দেশটির সবচেয়ে বড় যৌন অপরাধের হটস্পট হিসেবে উঠে এসেছে।
গত বছর ব্ল্যাকপুলে পুলিশ ৯৮৯টি যৌন অপরাধ নথিভুক্ত করেছে। শহরের জনসংখ্যার অনুপাতে এর হার দাঁড়িয়েছে প্রতি ১ হাজার বাসিন্দায় ৬.৯টি যৌন অপরাধ।
জনসংখ্যার অনুপাতে যৌন অপরাধের হারের তালিকায় ব্ল্যাকপুলের পর রয়েছে লিংকন ও নরউইচ। অর্থাৎ মোট মামলার সংখ্যা বড় শহরগুলোর তুলনায় কম হলেও জনসংখ্যার তুলনায় এসব এলাকায় যৌন অপরাধের ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
তবে ওয়েস্টমিনস্টারকে এই জনসংখ্যাভিত্তিক মূল র্যাঙ্কিংয়ের বাইরে রাখা হয়েছে। কারণ গত বছর এলাকাটিতে ১ হাজার ৬০৩টি যৌন অপরাধ রেকর্ড হলেও ওয়েস্টমিনস্টারের প্রকৃত জনসংখ্যার তুলনায় সেখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পর্যটক, কর্মজীবী ও যাত্রী প্রবেশ ও বের হন।
ফলে শুধু স্থায়ী বাসিন্দাদের সংখ্যা ব্যবহার করে ওয়েস্টমিনস্টারের যৌন অপরাধের হার হিসাব করলে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে তার বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হতে পারে।
সর্বশেষ পরিসংখ্যানের সামগ্রিক চিত্রে একটি বড় বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে গত এক দশকে সামগ্রিক অপরাধ কমেছে, অন্যদিকে যৌন অপরাধের সংখ্যা ২০১৬ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে নথিভুক্ত যৌন অপরাধের তুলনায় চার্জ আনার হার অত্যন্ত কম।
বিশেষ করে ধর্ষণ মামলায় নারী ও পুরুষ ভুক্তভোগীদের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ৩.৬ শতাংশ ও ১.৪ শতাংশ চার্জের হার যৌন সহিংসতার অভিযোগ তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের বিষয়টি সামনে এনেছে।
ফলে যৌন অপরাধের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা এবং এসব মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জ আনার নিম্নহার—দুটি বিষয়ই ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে আইন প্রয়োগ ও বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।
সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস
এম.কে

