হিথ্রো বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য সোমবার সকালে বড় ধরনের পরিবহন সংকট তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে একটি রেল টানেল বন্ধ করে দেওয়ায় এলিজাবেথ লাইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে হিথ্রো এক্সপ্রেসের পরিষেবাও অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে বিমান ধরতে যাওয়া ও বিমানবন্দর থেকে ফিরতি যাত্রীদের চরম ভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হেইস অ্যান্ড হার্লিংটন থেকে হিথ্রো বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৪ ও ৫ পর্যন্ত এলিজাবেথ লাইনের কোনো ট্রেন চলাচল করছে না। নিরাপত্তাজনিত কারণে টানেলটি বন্ধ করে দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
হিথ্রো এক্সপ্রেসেও স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। লন্ডনের প্যাডিংটন স্টেশন থেকে এখন প্রতি ঘণ্টায় মাত্র দুটি ট্রেন হিথ্রোর উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ স্বাভাবিক পরিষেবার তুলনায় হিথ্রো এক্সপ্রেসের ট্রেন সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
নেটওয়ার্ক রেল জানিয়েছে, এই পরিবহন বিঘ্ন সোমবার সারাদিন অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বিমানযাত্রীদের জন্য সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
পরিস্থিতির মধ্যে হিথ্রো বিমানবন্দরে যাতায়াতের জন্য যাত্রীদের বিকল্প হিসেবে পিকাডিলি লাইন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে এই পথে যাত্রায় তুলনামূলক বেশি সময় লাগবে।
কেন্দ্রীয় লন্ডন থেকে পিকাডিলি লাইনে হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছাতে প্রায় ৫০ মিনিট সময় লাগে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এলিজাবেথ লাইনে একই যাত্রায় প্রায় ৩০ মিনিট এবং প্যাডিংটন থেকে হিথ্রো এক্সপ্রেসে মাত্র ১৫ মিনিটের মতো সময় লাগে।
ফলে দ্রুত বিমানবন্দরে পৌঁছাতে অভ্যস্ত যাত্রীদের এখন দীর্ঘ সময়ের যাত্রা এবং সম্ভাব্য ভিড়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হচ্ছে।
এলিজাবেথ লাইনের পক্ষ থেকে যাত্রীদের জন্য জারি করা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, নিরাপত্তার কারণে টানেল বন্ধ থাকায় হেইস অ্যান্ড হার্লিংটন ও হিথ্রো বিমানবন্দরের মধ্যে ব্যাপক বিলম্ব হচ্ছে। যাত্রীদের এই অংশে যাতায়াতের জন্য পিকাডিলি লাইন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে এলিজাবেথ লাইনের পুরো নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়নি। হোয়াইটচ্যাপেল থেকে শেনফিল্ড পর্যন্ত অংশে একটি ত্রুটিপূর্ণ ট্রেনের কারণে সামান্য বিলম্ব হচ্ছে। গিডিয়া পার্কে ত্রুটিপূর্ণ ট্রেনটি মেরামতের কাজ চলছে। লাইনের অন্যান্য অংশে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
পরিবহন ব্যবস্থায় আরেকটি সমস্যা তৈরি হয়েছে গ্যাটউইক বিমানবন্দরমুখী রেলপথেও। দক্ষিণ লন্ডনের পার্লির কাছে রেললাইনের পাশে আগুন লাগার ঘটনায় গ্যাটউইকমুখী ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। ফলে গ্যাটউইক বিমানবন্দরের যাত্রীদেরও যাত্রার জন্য অন্তত ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় হাতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হিথ্রো ও গ্যাটউইক—লন্ডনের দুই গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরের সঙ্গে রেল যোগাযোগে একই সময়ে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বিমানযাত্রীদের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে যাদের নির্দিষ্ট সময়ে উড়োজাহাজ ধরতে হবে, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগের।
পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এলিজাবেথ লাইন ও হিথ্রো এক্সপ্রেসের বিঘ্নের সময় যাত্রীরা বিকল্প হিসেবে লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড ও বাস ব্যবহার করতে পারবেন। যেসব যাত্রীর টিকিট রয়েছে, তারা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এসব বিকল্প পরিষেবায় যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।
এ অবস্থায় হিথ্রো বিমানবন্দরে যাওয়া যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই যাত্রা শুরু করার, বিকল্প রুট বিবেচনা করার এবং রেল পরিষেবার সর্বশেষ পরিস্থিতি যাচাই করে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রেল টানেলটি ঠিক কখন পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। তবে নেটওয়ার্ক রেলের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তাজনিত এই বিঘ্ন পুরো সোমবারজুড়েই চলতে পারে।
সূত্রঃ মিরর
এম.কে

