20 C
London
August 11, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাষ্ট্রে বিপাকে প্রিন্স হ্যারিঃ মাদক ব্যবহারের তথ্য ঘিরে গোপন রাখা হলো ১৮ ভিসা নথি

যুক্তরাষ্ট্রে প্রিন্স হ্যারির ভিসা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার ভিসা ও অভিবাসন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের দাবিতে চলমান মামলায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রথম দফায় চিহ্নিত ১৮টি নথিই সম্পূর্ণ গোপন রেখেছে। একই সঙ্গে আরও ২৮৯টি নথি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারি নিজের স্মৃতিকথা ‘স্পেয়ার’-এ অতীতে গাঁজা, কোকেন, ম্যাজিক মাশরুম ও আয়াহুয়াস্কা ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছিলেন। সেই স্বীকারোক্তির পর যুক্তরাষ্ট্রে তার ভিসা আবেদনের সময় মাদক ব্যবহারের তথ্য তিনি কীভাবে প্রকাশ করেছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ ফাউন্ডেশন।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনে অতীতের মাদক ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়ে থাকলে হ্যারি কী উত্তর দিয়েছিলেন, তা জনসমক্ষে আসা উচিত। তাদের যুক্তি, কোনো আবেদনকারী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে থাকলে তা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

হেরিটেজ ফাউন্ডেশন আরও প্রশ্ন তুলেছে, রাজপরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে প্রিন্স হ্যারি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় কোনো বিশেষ সুবিধা পেয়েছিলেন কি না। প্রতিষ্ঠানটির মতে, সাধারণ আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে যে নিয়ম প্রযোজ্য, প্রিন্স হ্যারির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

আদালতের নথি অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কম্পিউটার ব্যবস্থায় প্রিন্স হ্যারিকে ঘিরে মোট ৩০৭টি নথি রয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৪৮৭ পৃষ্ঠা। এর মধ্যে প্রথম দফায় চিহ্নিত ১৮টি নথি পুরোপুরি প্রকাশ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। বাকি ২৮৯টি নথি এখনো পর্যালোচনায় রয়েছে।

এর আগে একই ধরনের নথি প্রকাশের দাবিতে হেরিটেজ ফাউন্ডেশন মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। তবে সেই মামলায় আদালত প্রিন্স হ্যারির ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারকে জনস্বার্থের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। ফলে তার ভিসা-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের দাবি প্রত্যাখ্যাত হয়।

বিচারক কার্ল নিকোলসের দেওয়া রায়ে বলা হয়েছিল, প্রিন্স হ্যারির গোপনীয়তার স্বার্থ নথি প্রকাশের পক্ষে থাকা জনস্বার্থের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ওই রায়ের পরও হেরিটেজ ফাউন্ডেশন বিষয়টি ছাড়েনি।

২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিরুদ্ধে মামলা করে। এবার শুধু ভিসা আবেদন নয়, প্রিন্স হ্যারিকে নিয়ে দপ্তরের কাছে থাকা অন্যান্য নথিও প্রকাশের দাবি জানানো হয়।

বিতর্ক আরও তীব্র হয় ২০২৪ সালে, যখন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রিন্স হ্যারির ভিসা নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেছিলেন, হ্যারি মাদক ব্যবহারের তথ্য নিয়ে মিথ্যা বলে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

তবে পরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রিন্স হ্যারির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, হ্যারিকে তিনি একা থাকতে দেবেন।

এদিকে হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের তদারকি প্রকল্পের পরিচালক মাইক হাওয়েল দাবি করেছেন, আদালতে প্রথম দফার পরাজয়ের পরও প্রিন্স হ্যারিকে ঘিরে থাকা প্রশ্নের অবসান হয়নি। বরং নতুন মামলার কারণে বিষয়টি আরও সন্দেহ ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—পর্যালোচনায় থাকা ২৮৯টি নথিতে কী তথ্য রয়েছে। এসব নথির কোনো অংশ ভবিষ্যতে প্রকাশ করা হলে প্রিন্স হ্যারির ভিসা আবেদন, মাদক ব্যবহারের তথ্য প্রকাশ এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তার অবস্থান নিয়ে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত গোপন রাখা নথিগুলোর ভেতরে কী রয়েছে, তা প্রকাশ্যে জানা যায়নি। তাই প্রিন্স হ্যারি ভিসা আবেদনে কোনো তথ্য গোপন করেছেন—এমন কোনো চূড়ান্ত প্রমাণও প্রকাশিত হয়নি। বিষয়টি বর্তমানে আদালত ও মার্কিন সরকারি নথি পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

ফ্রান্স থেকে ইংলিশ চ্যানেলের পথে নারী-শিশুসহ ৫০ অভিবাসীঃ মাথাপিছু খরচ £১,২০০

‘জ্বিন সেজে নিরাময়ের নামে ধর্ষণ’: পূর্ব লন্ডনের ইমামের ১১ বছরের নৃশংসতা

‘গাঁজা বৈধকরণ হতে পারে অর্থনৈতিক উন্নতির মাধ্যম’