TV3 BANGLA
বাংলাদেশযুক্তরাজ্য (UK)

যৌন পরিচয়ের কারণে আশ্রয় আবেদনে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের আধিপত্য

যুক্তরাজ্যে যৌন অভিমুখিতা—বিশেষ করে লেসবিয়ান, গে ও বাইসেক্সুয়াল (এলজিবি) পরিচয়ের কারণে নিজ দেশে নিপীড়নের আশঙ্কা দেখিয়ে আশ্রয় আবেদনের ক্ষেত্রে পাকিস্তানি নাগরিকদের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। হোম অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যৌন অভিমুখিতার বিষয়টি উল্লেখ থাকা আশ্রয় আবেদনের প্রায় ৪২ শতাংশই করেছিলেন পাকিস্তানি নাগরিকরা।

তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছর ধরে যৌন অভিমুখিতাকে আশ্রয়ের আবেদনের একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা আবেদনকারীদের মধ্যে পাকিস্তানি নাগরিকরাই সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছেন। এই প্রবণতা সামগ্রিক আশ্রয় আবেদনের চিত্রের তুলনায়ও উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা।

২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যে সব ধরনের আশ্রয় আবেদনের ক্ষেত্রে পাকিস্তান ছিল চতুর্থ সর্বোচ্চ আবেদনকারী দেশ। ওই বছর মোট আশ্রয় আবেদনের মাত্র প্রায় ৬ শতাংশ করেছিলেন পাকিস্তানি নাগরিকরা। কিন্তু যৌন অভিমুখিতার কারণে নিপীড়নের আশঙ্কা দেখিয়ে করা আবেদনের ক্ষেত্রে তাদের অংশ ছিল প্রায় ৪২ শতাংশ।

অর্থাৎ, যুক্তরাজ্যে পাকিস্তানি নাগরিকদের সামগ্রিক আশ্রয় আবেদনের যে অংশ, যৌন অভিমুখিতাকে ভিত্তি করে করা আবেদনের ক্ষেত্রে তাদের প্রতিনিধিত্ব তার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।

হোম অফিসের তথ্য আরও বলছে, ২০২৩ সালে যৌন অভিমুখিতার কারণে নিপীড়নের আশঙ্কা দেখিয়ে আশ্রয় চাওয়া আবেদনকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই প্রাথমিক পর্যায়েই আশ্রয়ের অনুমোদন পেয়েছেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, এ ধরনের আবেদনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রাথমিক সিদ্ধান্তেই গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছিল।

তবে কোনো আবেদন সত্যিকার অর্থে ভিত্তিহীন, অতিরঞ্জিত কিংবা সাজানো কি না—তা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সব ক্ষেত্রে সহজ নয়। যৌন অভিমুখিতার মতো ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল বিষয় সাধারণত ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার, আবেদনকারীর বক্তব্য, প্রাসঙ্গিক প্রমাণ এবং নিজ দেশের পরিস্থিতি বিবেচনার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়।

যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ব্যবস্থায় যৌন অভিমুখিতার বিষয়টি সাধারণত তখনই বিবেচনায় আসে, যখন কোনো আবেদনকারী দাবি করেন যে নিজের দেশে তার যৌন পরিচয়ের কারণে তিনি নিপীড়ন, নির্যাতন বা গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছেন। আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সেই আশঙ্কা বাস্তব ও যুক্তিসংগত কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে।

পাকিস্তানি নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই ধরনের আবেদনের উচ্চ হার কেন দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে পরিসংখ্যান নিজে কোনো নির্দিষ্ট কারণ নির্দেশ করে না। একইভাবে, শুধু জাতীয়তা বা কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যাগত প্রবণতার ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির আশ্রয় দাবি সত্য কিংবা মিথ্যা—এমন সিদ্ধান্তও দেওয়া যায় না।

সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে মূলত যে চিত্রটি পাওয়া যায় তা হলো, যুক্তরাজ্যে যৌন অভিমুখিতার ভিত্তিতে আশ্রয় চাওয়া আবেদনকারীদের মধ্যে পাকিস্তানি নাগরিকদের উপস্থিতি সামগ্রিক আশ্রয় আবেদনে তাদের অংশের তুলনায় অত্যন্ত বেশি। একই সময়ে, এ ধরনের আবেদনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ২০২৩ সালে প্রাথমিক পর্যায়েই অনুমোদিত হয়েছিল।

সূত্রঃ যুক্তরাজ্যের হোম অফিস (UK Home Office), Immigration System Statistics—“Asylum claims on the basis of sexual orientation 2023”।

এম.কে

আরো পড়ুন

হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানদের জামায়াতের ব্যানারে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বললেন আমির

ক্যানসার আক্রান্ত কেটের সাক্ষাৎ চান হ্যারি, ‘কাছে ঘেঁষতে’ দেবেন না উইলিয়াম

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আপিল প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন, অ্যাসাইলাম হোটেল বন্ধের পথে