TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

‘রাজনীতির বল বানাবেন না’—কেয়ার ওয়ার্কার ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীকে কড়া সতর্কবার্তা

যুক্তরাজ্যের সামাজিক পরিচর্যা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের সংস্কার পরিকল্পনা ঘোষণার আগে সরকারের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন একটি পরিচর্যা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী। তিনি বলেছেন, সামাজিক পরিচর্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার হাতিয়ার বানানো উচিত নয়। বরং দেশের সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।

লন্ডনের একটি পরিচর্যা কেন্দ্রে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে তার বাবার পরিচর্যার অভিজ্ঞতা থেকে এই খাতের কর্মীদের দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব কাছ থেকে দেখেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, সমাজে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা পরিচর্যা কর্মীদেরই সবচেয়ে বেশি সম্মান ও উপযুক্ত পারিশ্রমিক পাওয়া উচিত। অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো পারস্পরিক দোষারোপে সময় নষ্ট করায় এই খাতের মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি বলেও তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

 

এদিকে পরিচর্যা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী বলেন, সরকার যে সর্বদলীয় আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে, তা ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে আলোচনায় সব রাজনৈতিক দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, সামাজিক পরিচর্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলাই হবে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সামাজিক পরিচর্যার অর্থায়ন অত্যন্ত জটিল একটি কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কখনও স্থানীয় প্রশাসন, কখনও জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা, আবার অনেক ক্ষেত্রে সেবা গ্রহণকারী ব্যক্তি বা তাদের পরিবার এই ব্যয় বহন করে। এমনও বহু পরিবার রয়েছে, যারা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই নিজেদের স্বজনের পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছেন।

তার ভাষায়, এই ব্যবস্থাকে টেকসই করতে হলে প্রথমেই অর্থায়নের কাঠামো নিয়ে খোলামেলা জাতীয় আলোচনা প্রয়োজন। শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, প্রয়োজন বাস্তব আর্থিক বিনিয়োগও। তিনি দাবি করেন, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিচর্যা খাতে বিনিয়োগ করলে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার ওপরও বড় ধরনের আর্থিক চাপ কমানো সম্ভব।

একটি উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান একজন রোগীকে সহায়তা দিয়ে বছরে প্রায় এক লাখ পাউন্ড জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় সাশ্রয় করছে। একই ধরনের আরও কয়েকটি ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ পেলে কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত সাশ্রয় সম্ভব বলেও তিনি দাবি করেন।

 

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সামাজিক পরিচর্যা ব্যবস্থা এতটাই জটিল যে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা পেতে গিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তির মুখে পড়েন। তার মতে, একটি কার্যকর ব্যবস্থায় আলাদা করে পথ খুঁজে বের করার প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়; পুরো প্রক্রিয়াই সহজ, স্বচ্ছ ও নাগরিকবান্ধব হওয়া উচিত।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী সামাজিক পরিচর্যা সংস্কার নিয়ে চলমান স্বাধীন পর্যালোচনা নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগেই সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি সামাজিক পরিচর্যা খাতের কর্মপরিবেশ, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত মানকে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার মানদণ্ডের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পরিচর্যা সেবার চাহিদা বাড়তে থাকায় এই খাতের সংস্কার এখন সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। সর্বদলীয় ঐকমত্য, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা গেলে সামাজিক পরিচর্যা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হতে পারে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

পূর্ব লন্ডনে স্ট্রিট ফুড কোর্ট ঘিরে বাসিন্দাদের ক্ষোভ, ইঁদুর ও আবর্জনায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

ভাসমান আশ্রয়কেন্দ্র বিবি স্টকহোম ছাড়লেন শেষ আশ্রয়প্রার্থীরাও

ব্রিটেন ‘অন্ধকার যুগে’ ঢুকেছেঃ অভিবাসন নীতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের কড়া সমালোচনায় আলবেনীয় প্রধানমন্ত্রী