রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাজনিত আর্থিক জটিলতার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহজ করতে বিকল্প অর্থপ্রদান ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছে মস্কো। তবে আন্তর্জাতিক আর্থিক বিধিমালা ও বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের বাইরে দ্বিতীয় কোনো মুদ্রায় সরকারি লেনদেনের প্রস্তাব নাকচ করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এ ধরনের বিকল্প ব্যবস্থার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে রাশিয়াকে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে ঢাকা।
জানা গেছে, রাশিয়া চায় দুই দেশের মধ্যে এমন একটি দ্বৈত অর্থপ্রদান ব্যবস্থা গড়ে উঠুক, যাতে রাশিয়ার ব্যাংকগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্টি হওয়া অর্থ লেনদেনের প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ওঠা যায়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশে একটি রুশ ব্যাংকের শাখা খোলা এবং বিশেষ অর্থপ্রদান অবকাঠামো প্রতিষ্ঠারও প্রস্তাব দিয়েছে মস্কো।
রুশ পক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারতীয় রুপিকে বিকল্প মুদ্রা হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় আনার কথা বলা হয়েছে। তাদের দাবি, এতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজনিত লেনদেনের জটিলতা অনেকটাই কমতে পারে এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
তবে বাংলাদেশের অবস্থান হলো, আন্তর্জাতিক আর্থিক নিয়মকানুন এবং রাশিয়ার বিভিন্ন ব্যাংকের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার বাস্তবতায় বড় ধরনের সরকারি আর্থিক লেনদেন এখনো মার্কিন ডলারের মাধ্যমেই পরিচালনা করতে হবে। ফলে বিদ্যমান কাঠামোর বাইরে কোনো বিকল্প ব্যবস্থায় যাওয়ার সুযোগ সীমিত।
এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের জন্য রাশিয়ার দেওয়া ১ হাজার ১৩৮ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ পরিশোধের মূল সময়সূচি ১৮ মাস পিছিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৮ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে নির্ধারিত অর্থ দেশের অভ্যন্তরে একটি বিশেষ হিসাবে সংরক্ষণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি সফররত পাঁচ সদস্যের রুশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ জানিয়ে দিয়েছে, বিকল্প অর্থপ্রদান পদ্ধতি বা অন্য কোনো আর্থিক ব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্তের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করতে হবে। প্রয়োজনীয় কারিগরি ও নিয়ন্ত্রক বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকই পর্যালোচনা করবে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাশিয়ার উত্থাপিত এসব প্রস্তাব আগামী বাংলাদেশ–রাশিয়া যৌথ সরকারি কমিশনের বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে। ওই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, জ্বালানি খাতের অংশীদারত্ব এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশ একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক বিধিবিধান মেনে চলার নীতি বজায় রাখতে চাইছে, অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতাও অব্যাহত রাখার পথ খুঁজছে। ফলে বিকল্প অর্থপ্রদান ব্যবস্থা নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনা হলেও তা আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামো ও বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এগোবে।
সূত্রঃ দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
এম.কে

