লন্ডনের মেয়র পদ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। বর্তমান মেয়র সাদিক খান ২০২৮ সালের নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো প্রার্থী না হলে সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি ওই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে দাবি করা হয়েছে।
জিবি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ল্যামি লন্ডনের মেয়র পদে ফের লড়াইয়ের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এর আগে ২০১৪ সালেও তিনি মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ফলে ২০২৮ সালের নির্বাচনকে ঘিরে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বর্তমান মেয়র সাদিক খান জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের নির্বাচনে তিনি আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, সে বিষয়ে আগামী বছর সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি আরও এক পূর্ণ মেয়াদ দায়িত্ব পালন করলে লন্ডনের মেয়র হিসেবে তার মোট দায়িত্বকাল ১৬ বছরে পৌঁছাবে।
এদিকে ডেভিড ল্যামি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মন্ত্রিসভায় নিজের গুরুত্বপূর্ণ পদ হারিয়েছেন। অ্যান্ডি বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এবং স্যার কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের সময় ল্যামিকে বিচারমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
ল্যামি অবশ্য রাজনীতিতে নিজের সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। শনিবার তিনি বলেন, তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের আগ্রহ এখনো শেষ হয়নি এবং তার হাতে এখনো অনেক পরিকল্পনা ও ধারণা রয়েছে।
লেবার পার্টির একজন মন্ত্রীর বরাত দিয়ে ডেইলি মেইল দাবি করেছে, ল্যামি লন্ডনের মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ওই সূত্রের ভাষ্য, গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কিকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের কারণে লেবার পার্টি মেয়র নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থানে ফিরতে পারে বলে ল্যামি মনে করছেন।
২০১৪ সালে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময় ল্যামি লন্ডনের বিভিন্ন এলাকায় গড় আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বাড়িভাড়ায় সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ এবং বড় বাড়ির মালিকদের জন্য উচ্চতর কাউন্সিল করের স্তর চালুর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি।
তবে ল্যামির সম্ভাব্য প্রার্থিতার আলোচনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন সাদিক খানের নেতৃত্বাধীন লন্ডন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে কবুতর নিধন নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে।
তথ্য অধিকার আইনের আওতায় করা আবেদনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত লন্ডনের পাতালরেল স্টেশন ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ১২০টির বেশি পরিকল্পিত অভিযানে ৬৫৫টি কবুতর হত্যা করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীরা এ পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। লন্ডন বার্ড রেসকিউয়ের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ব্রিটন এটিকে সেকেলে ও বর্বর পদ্ধতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
অন্যদিকে লন্ডন পরিবহন কর্তৃপক্ষের দাবি, কবুতরের বিষ্ঠা ব্যাকটেরিয়া ও পোকামাকড়ের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি বাসা ও বিষ্ঠা জমে অগ্নিঝুঁকি এবং স্থাপনার ক্ষতিও হতে পারে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা প্রথমে বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ও প্রাণী-বান্ধব পদ্ধতি ব্যবহারের চেষ্টা করে। এসব ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়ে অনিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি হলে সর্বশেষ উপায় হিসেবে কবুতর বা তাদের বাসা অপসারণ করা হয়। সাধারণত যাত্রীদের চলাচল বন্ধ থাকার সময় ভোররাতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সব মিলিয়ে ২০২৮ সালের লন্ডন মেয়র নির্বাচন ঘিরে এখনই চূড়ান্ত সমীকরণ তৈরি না হলেও সাদিক খানের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত এবং লেবার পার্টির প্রার্থী বাছাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সাদিক খান প্রার্থী না হলে ডেভিড ল্যামির সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন লন্ডনের রাজনীতিতে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্ম দিতে পারে।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এম.কে

