লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খান আশ্রয়প্রার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক সহায়তা জোরদারের লক্ষ্যে একটি লন্ডন কাউন্সিলকে ৪০ হাজার পাউন্ড অনুদান অনুমোদন করেছেন। এই তহবিলের আওতায় আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য মানসিক সহায়তা কার্যক্রমের পাশাপাশি পানিতে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও শিশুদের বিনোদনমূলক সুবিধা প্রদান করা হবে।
গত ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি স্বচ্ছতা নোটিশ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে গ্রেটার লন্ডন অথরিটি (জিএলএ) এই অনুদান প্রদান করে লুইশাম কাউন্সিলকে। কাউন্সিলটির ৫৪ জন সদস্যের মধ্যে ৫২ জন লেবার পার্টি এবং দুইজন গ্রিন পার্টির প্রতিনিধি। অনুদানটি দেওয়া হয়েছে “আশ্রয়প্রার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উদ্যোগ” শীর্ষক একটি নির্দিষ্ট প্রকল্পের আওতায়।
নথিতে উল্লেখ করা হয়, বরাদ্দকৃত অর্থের সবচেয়ে বড় অংশ—২৫ হাজার পাউন্ড—ব্যয় করা হবে অ্যাকশন ফর রিফিউজিস লুইশাম (AFRIL) নামের একটি দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে। সংস্থাটি আশ্রয়প্রার্থী, অভিবাসী ও শরণার্থীদের জন্য খাদ্যব্যাংক, পরামর্শ সেবা, সম্পূরক শিক্ষা কার্যক্রম এবং কমিউনিটি বাগান পরিচালনাসহ নানা সামাজিক সহায়তা দিয়ে থাকে। এই অর্থ দিয়ে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনে সরাসরি গিয়ে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা এবং অতিরিক্ত কেসওয়ার্ক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
অনুদানের আরেকটি অংশ থেকে লুইশাম এলাকার অবসর ও ক্রীড়া কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য পানিতে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং শিশুদের সফট প্লে ভাউচার প্রদান করা হবে। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯ হাজার পাউন্ড। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কর্মসূচিগুলো ২০২৬ সালের মে মাসের শেষ নাগাদ সম্পন্ন করার শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে লন্ডন অ্যাসেম্বলিতে দেওয়া এক বক্তব্যে মেয়র সাদিক খান জানান, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত লন্ডনের বিভিন্ন বরোতে হোম অফিসের সহায়তায় মোট ১৭ হাজার ১৬১ জন আশ্রয়প্রার্থী বসবাস করছেন। এই প্রেক্ষাপটে আশ্রয়প্রার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক সংযুক্তি নিশ্চিত করা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
একই সময়ে কনজারভেটিভ লন্ডন অ্যাসেম্বলি সদস্য আলেসান্দ্রো জর্জিও সরকারের প্রস্তাবিত কঠোর আশ্রয় নীতির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুললে মেয়র সাদিক খান বলেন, “লন্ডনের রয়েছে সারা বিশ্বের মানুষকে স্বাগত জানানোর একটি গর্বিত ইতিহাস। যারা নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের খোঁজে এসেছে, তাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
মেয়র আরও জানান, সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাবগুলোর বিষয়টি সরকারকে অবহিত করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও কেন্দ্রীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চালিয়ে যাবে কর্তৃপক্ষ।
সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস
এম.কে

