যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে এক বাসচালকের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনায় হত্যা তদন্ত শুরু করেছে লন্ডন মহানগর পুলিশ। নিহত বাসচালকের নাম সার্গেই ক্রায়েভ। তার বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর।
পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার ভোররাতে ব্যাটারসি ব্রিজ এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার সময় বাসটি রাস্তার পাশে থামানো অবস্থায় ছিল। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বাসের কাছের ফুটপাথে কোনো এক বিরোধ বা মুখোমুখি পরিস্থিতির জেরে সার্গেই ক্রায়েভের ওপর হামলা চালানো হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর ঘটনাটিকে হত্যা হিসেবে তদন্ত শুরু করেছে লন্ডন মহানগর পুলিশ।
ঘটনাস্থল থেকেই ৩২ বছর বয়সী গ্যারি জোন্স নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক আঘাত করার অভিযোগ আনা হয়। তাকে উইম্বলডন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আগামী ১৫ জুন কিংস্টন ক্রাউন আদালতে আবারও তাকে হাজির করা হবে।
এদিকে সার্গেই ক্রায়েভের পরিবার এক আবেগঘন বিবৃতিতে তাকে স্মরণ করেছে। পরিবারের ভাষ্য, তিনি ছিলেন অত্যন্ত দায়িত্বশীল, ভদ্র ও মানবিক একজন মানুষ। পরিবারের সদস্যরা বলেন, জীবনে এমন একজন স্বামী, বাবা ও দাদাকে পাওয়ায় তারা নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাসচালক হিসেবে সার্গেই ছিলেন সময়নিষ্ঠ, নির্ভরযোগ্য এবং সহকর্মীদের প্রতি সহযোগিতাপ্রবণ। নিজের দায়িত্ব অত্যন্ত যত্ন ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতেন তিনি।
পরিবারটি তার চিকিৎসা ও সহায়তায় জড়িত পুলিশ সদস্য, স্বাস্থ্যকর্মী এবং জরুরি সেবাকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে এই ঘটনায় মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত অন্যান্য গণপরিবহনকর্মীদের প্রতিও সমবেদনা জানিয়েছে পরিবার।
তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তা সারাহ লি। তিনি প্রত্যক্ষদর্শী কিংবা যাদের কাছে ড্যাশক্যাম অথবা মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও রয়েছে, তাদের তথ্য দিয়ে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের প্রতি পুলিশের সমবেদনা রয়েছে। একইসঙ্গে স্থানীয় জনগণ ও গণপরিবহন খাতে কর্মরতদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেটিও পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তা সারাহ লি আরও জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে লন্ডনের গণপরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে পুলিশ।
এই ঘটনার পর লন্ডনের গণপরিবহন কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সামনের সারিতে কাজ করা বাসচালক ও পরিবহনকর্মীদের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

