যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতৃত্ব পরিবর্তনকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দলটির অভ্যন্তরীণ এক জ্যেষ্ঠ সূত্রের দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারকে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একটি অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে দ্রুত পদত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছিল, যাতে নেতৃত্বের দৌড়ে থাকা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক লেবার কৌশলবিদ পিটার ম্যান্ডেলসনের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন স্টারমারকে পরামর্শ দেন, ক্ষমতা নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার পর আর অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট ছেড়ে দিতে। তাদের যুক্তি ছিল, এতে বার্নহ্যামের পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে এবং তিনি নিজের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবেন না।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম শরতের শুরুতে ধাপে ধাপে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিলেন। সে অনুযায়ী তিনি নিজের টিম ও সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য সময় পাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে স্টারমারকে নাকি পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছিল, “যদি তাকে চাপে ফেলতে চাও এবং তার জবাব দিতে চাও, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব পদ ছেড়ে দাও।”
দীর্ঘদিন ধরে চলা দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ, নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ এবং স্থানীয় নির্বাচনে হতাশাজনক ফলাফলের পর স্যার কিয়ার স্টারমার গত ২২ জুন পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পরে ২০ জুলাই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে দেন।
স্টারমারের আগাম সরে দাঁড়ানোর ফলে কয়েক দিন আগে মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে বিজয়ী হওয়া অ্যান্ডি বার্নহ্যাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হন। এরপর বাকিংহাম প্যালেসে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি যুক্তরাজ্যের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ক্ষমতা গ্রহণের পরই বার্নহ্যাম মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল করেন। তিনি জন হিলিকে চ্যান্সেলর এবং এড মিলিব্যান্ডকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। একই সঙ্গে স্টারমারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একাধিক মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়া হয়, যা লেবার সরকারের নতুন রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত এসব তথ্য মূলত লেবার পার্টির একজন জ্যেষ্ঠ অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবির ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে। স্টারমার, বার্নহ্যাম কিংবা পিটার ম্যান্ডেলসনের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ বা দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা নিশ্চিতকরণ দেওয়া হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এসব দাবি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা লেবার পার্টির সাম্প্রতিক নেতৃত্ব পরিবর্তনের পেছনের কৌশল ও অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব সম্পর্কে নতুন প্রশ্নের জন্ম দেবে। তবে স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এসব তথ্যকে অভিযোগ বা দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস
এম.কে

