সাবেক ব্রিটিশ উপ-প্রধানমন্ত্রী ও টটেনহ্যামের এমপি ডেভিড ল্যামি লন্ডনের মেয়র পদে দ্বিতীয়বার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রের বরাতে খবর প্রকাশিত হয়েছে। লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, ২০২৮ সালের মেয়র নির্বাচনে সাদিক খানের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হওয়ার লক্ষ্যে ল্যামি ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
ল্যামি চলতি বছরের জুলাই থেকে সরকারের বাইরে রয়েছেন। ওই সময় অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ল্যামি সরকারে আর কোনো পদে নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে ল্যামি একটি তহবিল সংগ্রহের নৈশভোজের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অতিথিদের কাছ থেকে ৮০ থেকে ১৫০ পাউন্ড পর্যন্ত নেওয়া হয়। ল্যামি উপস্থিতদের জানান, এই অর্থ তার সংসদীয় আসন ধরে রাখার জন্য আগামী সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যয় করা হবে।
তবে লেবার পার্টির একাধিক সূত্রের দাবি, ওই নৈশভোজকে ২০২৮ সালের লন্ডন মেয়র নির্বাচনে ল্যামির সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিষয়ে সমর্থন যাচাইয়ের একটি পরীক্ষামূলক আয়োজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। লন্ডনের মেয়র পদে দ্বিতীয়বার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা নিয়েও ল্যামি এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো অস্বীকৃতি জানাননি।
২০২৮ সালের লন্ডন মেয়র নির্বাচন ৪ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমান মেয়র সাদিক খান ইতোমধ্যে তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন এবং তার চতুর্থ মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
সাদিক খান চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচনে না দাঁড়ালে লেবার পার্টির মনোনয়ন পেতে ল্যামিকে দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হতে পারে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় লন্ডনের একাধিক লেবার এমপির নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে ডন বাটলার ও রোসেনা অ্যালিন-খানও রয়েছেন। ডন বাটলার এর আগে জানিয়েছেন, খান নির্বাচনে না দাঁড়ালে তিনি মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য নিজের নাম বিবেচনায় আনবেন।
ল্যামির জন্য লন্ডনের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অবশ্য নতুন কোনো বিষয় নয়। ২০২৪ সালের মেয়র নির্বাচনের আগে তাকে লেবার পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রাখা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সাদিক খানই দলটির প্রার্থী হন এবং নির্বাচনে জয়ী হয়ে তৃতীয় মেয়াদে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেন।
২০২৮ সালের নির্বাচনের জন্য লেবার পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় ল্যামি, ডন বাটলার ও রোসেনা অ্যালিন-খানের পাশাপাশি আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে। ফলে সাদিক খান সরে দাঁড়ালে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডেভিড ল্যামির পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
সূত্রঃ মাই লন্ডন
এম.কে

