TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকযুক্তরাজ্য (UK)

সিরিয়ায় সংঘাতে আইএস বন্দিশিবির ভাঙনের আশঙ্কা, শামিমা বেগমের মুক্তি নিয়ে উদ্বেগ

সিরিয়ায় কুর্দি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোতে সরকারি বাহিনীর দ্রুত অগ্রগতির মধ্য দিয়ে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। পশ্চিমা দেশ ও তুরস্ক–সমর্থিত অভিযানের ফলে কুর্দি বাহিনী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্স (এসডিএফ) গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ছেড়ে সরে যেতে বাধ্য হওয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় আইএস বন্দিশিবির আল-হোলসহ একাধিক কারাগারের নিরাপত্তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

২০১৯ সালে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের সঙ্গে যৌথভাবে আইএসকে পরাজিত করার পর থেকেই উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল কুর্দি–নেতৃত্বাধীন এসডিএফ। তাদের পাহারায় ছিল আল-হোল ও আল-রোজ ক্যাম্প, যেখানে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি আইএস সংশ্লিষ্ট বন্দি আটক রয়েছে। আল-রোজ ক্যাম্পেই বন্দি আছেন ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল হওয়া শামিমা বেগম।

কুর্দি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে দামেস্ক সরকারের সঙ্গে এসডিএফের আলোচনা চললেও ৪ জানুয়ারি সেই আলোচনা ভেঙে যায়। এরপরই তুরস্কের সমর্থনে সিরীয় সরকারি বাহিনী কুর্দি অধ্যুষিত শহর ও জনপদে সামরিক অভিযান শুরু করে। ট্যাংক ও ড্রোন ব্যবহার করে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাক্কা, আলেপ্পো ও কোবানির আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো দখলে নেয় তারা।

অভিযানের অংশ হিসেবে সিরিয়ার সবচেয়ে বড় তেলক্ষেত্রও সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। একই সঙ্গে এসডিএফ পাহারায় থাকা আইএস কারাগারগুলোতে হামলা হওয়ায় কিছু শিবির পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। এতে করে হাজার হাজার কট্টরপন্থী ইসলামপন্থীর মুক্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডেইলি এক্সপ্রেসের হাতে আসা ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, সংঘর্ষে নিহত কুর্দি যোদ্ধাদের মরদেহ অবমাননা করা হচ্ছে। কয়েকটি ঘটনায় শিরচ্ছেদের মতো নৃশংসতার অভিযোগও উঠেছে, যা আইএসের কৌশলের সঙ্গে ভয়াবহ সাদৃশ্য তৈরি করেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকারি বাহিনীর ভেতরে থাকা আইএস–সহানুভূতিশীল অংশ এই অভিযানের সুযোগ নিয়ে প্রতিশোধমূলক সহিংসতায় লিপ্ত হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভেঙে পড়ে। ব্রিটেনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মন্ত্রী হ্যামিশ ফ্যালকনার স্বীকার করেন, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং তা গভীর উদ্বেগের কারণ।

এক বিবৃতিতে এসডিএফ জানায়, “আইএস সন্ত্রাসী সংগঠন বিষয়ে আন্তর্জাতিক উদাসীনতার কারণে” তারা আল-হোল ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় প্রহরীদের শহর রক্ষায় পুনরায় মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

যুক্তরাজ্যে কুর্দি পিপলস অ্যাসেম্বলি ইন ব্রিটেনের সহসভাপতি ইশাক মিলানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য কুর্দিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তার ভাষায়, কুর্দিরাই পশ্চিমাদের হয়ে আইএসের বিরুদ্ধে লড়েছে এবং ইউরোপকে সুরক্ষিত রাখতে বিপজ্জনক জিহাদিদের বন্দিশিবির পাহারা দিয়েছে। অথচ এখন সেই কুর্দিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে নতুন জিহাদি শাসনের মুখে।

শামিমা বেগমের অবস্থান নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আল-রোজ ক্যাম্পে নিরাপত্তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা অ্যান্ড্রু ড্রুরি, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলে কাজ করছেন। তার মতে, বর্তমান অগ্রগতির গতি বজায় থাকলে ক্যাম্পটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

মার্কিন সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম সতর্ক করে বলেছেন, সামরিক শক্তি দিয়ে সিরিয়াকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তিনি মনে করিয়ে দেন, আইএস ধ্বংসে মাটিতে লড়াই করেছিল এসডিএফ, এবং পশ্চিমাদের তাদের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে।

এদিকে মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক ইঙ্গিত দিয়েছেন, সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটতে পারে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, কুর্দিদের স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নে ফেডারাল কাঠামো সমর্থন করবে না ট্রাম্প প্রশাসন।

সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার কার্যালয় জানিয়েছে, দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা ও কুর্দি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে চলমান সংঘর্ষ ও বন্দিশিবিরের অনিশ্চয়তা মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ—উভয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

প্রিন্স হ্যারি ও স্ত্রী মেগান মর্কেলের বিচ্ছেদের গুঞ্জন

লন্ডনের কার ওয়াশে অবৈধ অভিবাসী নিয়োগে মিলিয়ন পাউন্ড জরিমানা, যদিও অধিকাংশই বকেয়া

ফরাসি বিমান নিয়ন্ত্রকদের ধর্মঘটে ইউরোপজুড়ে ভ্রমণ বিপর্যয়, ৩০ হাজার যাত্রীর ছুটি ব্যাহত