TV3 BANGLA
বাংলাদেশসিলেট

সিলেটে মেয়র নির্বাচনঃ আওয়ামীলীগের সারোয়ার হোসেন এনসিপির ব্যানারে মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন?

সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। সবশেষ গুঞ্জনে উঠে এসেছে, সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও সংগঠক সারোয়ার হোসেন মেয়র পদে প্রার্থী হতে পারেন এবং এ ক্ষেত্রে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সমর্থনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও বর্তমানে দলটির মূলধারার বাইরে রয়েছেন সারোয়ার হোসেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সিলেটে নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী করতে পরিচিত ও প্রভাবশালী মুখ খুঁজছে এনসিপি।

অন্যদিকে, একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে নির্বাচন করে নগরবাসীর সেবা করার আগ্রহ রয়েছে সারোয়ার হোসেনের। এ দুই পক্ষের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের মিল থাকায় সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

যদিও প্রার্থিতা নিয়ে সরাসরি কোনো ঘোষণা দেননি সারোয়ার হোসেন, তবে তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, নগরবাসীর প্রত্যাশা থেকেই তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম ও জনকল্যাণের সুযোগ থাকলে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।

এদিকে, এই সম্ভাব্য দলবদল নিয়ে সিলেট আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থেকে সারোয়ার হোসেন দলীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে নিজের ব্যবসায়িক অবস্থান শক্ত করেছেন। এখন অন্য দলের সমর্থনে নির্বাচন করার উদ্যোগকে তারা ‘রাজনৈতিক সুবিধাবাদিতা’ ও ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় নেতা বলেন, দলীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে অন্য প্ল্যাটফর্মে যাওয়া তৃণমূলের কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দলীয় নেতাকর্মীদের অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

জাতীয় রাজনীতিতেও একই সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে এনসিপি। বিভিন্ন দল ও সংগঠন থেকে একাধিক নেতা-কর্মী দলটিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার, যিনি বিএনপির আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং পরে দুটি মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হলেও সম্প্রতি খালাস পেয়েছেন, তিনিও এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন। যদিও তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে।

এছাড়া আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন। এ উপলক্ষে রাজধানীতে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, আপ বাংলাদেশের উদ্যোক্তা আলী আহসান জুনায়েদ ও রাফে সালমান রিফাত, এবি পার্টির নেতা সানী আবদুল হকসহ আরও অনেকে এনসিপিতে যুক্ত হচ্ছেন। একই সঙ্গে ছাত্র আন্দোলনের নেতারাও দলটির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনে দায়িত্ব পাচ্ছেন।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন জানিয়েছেন, দলটি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চায় এবং এ লক্ষ্যেই বিভিন্ন মত ও ধারার নেতাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। যারা সংস্কার ও বাংলাদেশপন্থার পক্ষে, তাদের জন্য দলটির দরজা খোলা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এম.কে

আরো পড়ুন

সারজিসের শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তাসনিম জারা

আকবর গ্রেফতারের ভুয়া খবর প্রচার, জনমনে বিভ্রান্তি

অনলাইন ডেস্ক

ইসকনের ২০২ অ্যাকাউন্টে ২৩৬ কোটি টাকা