12.1 C
London
May 13, 2026
TV3 BANGLA
স্পোর্টস

বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অবশেষে আনুষ্ঠানিক তদন্তে নেমেছে সরকার। আগের সরকারের সিদ্ধান্ত, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ভূমিকা এবং পুরো প্রক্রিয়ায় কীভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়েছিল—তার সবকিছু খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

সোমবার প্রকাশিত এক সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়, অতিরিক্ত সচিব ড. এ কে এম ওয়ালি উল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে রয়েছেন সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক ও বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার এবং ক্রীড়া প্রশাসক ফয়সাল দস্তগীর। আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, তদন্তে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে সেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো, যার কারণে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ভারত আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি।

ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি। সেদিন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কলকাতা নাইট রাইডার্স ফ্র্যাঞ্চাইজিকে আইপিএল ২০২৬ আসরের দল থেকে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে সরিয়ে দিতে নির্দেশ দেয়। যদিও এর পেছনে আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ জানানো হয়নি, তবে সে সময় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় ছিল।

এর মাত্র একদিন পর তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে দাবি জানান, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করতে হবে।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার ভারতে নিরাপদভাবে খেলতে না পারলে পুরো জাতীয় দলও সেখানে নিরাপদ বোধ করতে পারে না। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি উত্থাপনের নির্দেশ দেন।

এরপর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আইসিসিকে জানায় যে, বাংলাদেশ ভারত গিয়ে খেলতে রাজি নয়। তবে আইসিসি বাংলাদেশের দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দেয়, তাদের মূল্যায়নে কোনো ধরনের গ্রহণযোগ্য নিরাপত্তা-ঝুঁকি পাওয়া যায়নি।

পরিস্থিতি সামাল দিতে আইসিসির একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করলেও অচলাবস্থা কাটেনি। শেষ পর্যন্ত ২৪ জানুয়ারি আইসিসি বোর্ড সভায় বাংলাদেশের দাবি নাকচ করে দেশটিকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশের স্থলাভিষিক্ত হয় স্কটল্যান্ড।

ঘটনার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। কূটনৈতিক টানাপোড়েন, রাজনৈতিক বিবৃতি এবং ক্রিকেট প্রশাসনের দুর্বল সমন্বয়ের কারণে বাংলাদেশ একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছে বলে মত দেন অনেক বিশ্লেষক।

এদিকে জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে আসিফ নজরুল নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে দাবি করেন, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে প্রত্যাহারের কোনো সিদ্ধান্ত তিনি নেননি। বরং তিনি এর দায় খেলোয়াড়দের ওপর চাপান।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক সংসদে বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রীড়া সম্পর্ক পুনর্গঠন করা সরকারের অগ্রাধিকার। পাশাপাশি তিনি জানান, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে বিসিবি ও আগের সরকারের ভূমিকা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং ক্রিকেট প্রশাসনের ব্যর্থতার সমন্বয়ে সৃষ্ট এই নজিরবিহীন ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন এখন দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বড় আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

সূত্রঃ ইএসপিএন ক্রিক ইনফো

এম.কে

আরো পড়ুন

ইংল্যান্ড বনাম ইতালি: টিভি চ্যানেল বা ফ্রি লাইভ স্ট্রিম, কোথায় কিভাবে দেখবেন

অনলাইন ডেস্ক

ইরানের জালে ইংল্যান্ডের গোল উৎসব

কানপুরে বাংলাদেশি সমর্থককে পেটানোর অভিযোগ