21 C
London
September 7, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

স্টারমারের আসনে লড়াইঃ গ্রিন পার্টির মূল নেতা পোলানস্কিকে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি হামজা চৌধুরীর চ্যালেঞ্জ

লেবার পার্টির সাবেক নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ছেড়ে দেওয়া হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসনে উপনির্বাচন ঘিরে গ্রিন পার্টির ভেতরেই শুরু হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি আসনটিতে দলীয় প্রার্থী হতে চাইলেও তাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন ক্যামডেন কাউন্সিলের গ্রিন পার্টির কাউন্সিলর হামজা চৌধুরী।

আগামী ৮ অক্টোবর এই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। স্টারমারের এমপি পদ থেকে আনুষ্ঠানিক পদত্যাগের পর আসনটি শূন্য হয়। উপনির্বাচনের তারিখ নিশ্চিত হওয়ার পরই পোলানস্কি গ্রিন পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য সক্রিয় প্রচারণা শুরু করেন।

তবে স্থানীয় গ্রিন পার্টির রাজনীতিতে পোলানস্কির প্রার্থিতা নিয়ে বিভক্তি প্রকাশ্যে চলে এসেছে। হামজা চৌধুরী জানিয়েছেন, ক্যামডেন কাউন্সিলে থাকা গ্রিন পার্টির ১০ কাউন্সিলরের মধ্যে আরও ছয়জন তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। অর্থাৎ মোট সাতজন কাউন্সিলর পোলানস্কির পরিবর্তে চৌধুরীকে প্রার্থী করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার সমর্থকদের মধ্যে রয়েছেন ক্যামডেন কাউন্সিলে গ্রিন পার্টির গ্রুপ নেতা লর্না রাসেল।

হামজা চৌধুরীর মূল যুক্তি হলো, হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনের এমপি হিসেবে এমন একজনকে প্রয়োজন, যিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিয়মিতভাবে যুক্ত থাকবেন এবং এলাকার সমস্যাগুলো সরাসরি জানবেন। পূর্ব লন্ডনে বসবাসকারী পোলানস্কি নির্বাচিত হলে স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাগুলো কতটা কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পারবেন, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

হামজা চৌধুরী বলেছেন, তিনি ক্যামডেনের বাসিন্দা হিসেবে এলাকার বাস্তব সমস্যাগুলো প্রতিদিন দেখেন। আবাসিক ভবনের নষ্ট লিফট, সময়মতো আবর্জনা পরিষ্কার না হওয়া, অপরিচ্ছন্ন রাস্তা এবং আবাসনের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকার মতো বিষয়গুলো তার কাছে সরাসরি পরিচিত। তার দাবি, নির্বাচনের সময় এসে প্রচারপত্র বিলি করে ভোটের পর অদৃশ্য হয়ে যাওয়া কোনো এমপির প্রয়োজন নেই এলাকার মানুষের।

হামজা চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দারা এমন একজন এমপি চান, যিনি সারা বছর এলাকায় উপস্থিত থাকবেন, মানুষের কাছে সহজে পৌঁছানো যাবে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে দৃশ্যমানভাবে যুক্ত থাকবেন। এই যুক্তিতেই তিনি গ্রিন পার্টির সদস্যদের কাছে নিজের প্রার্থিতার পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, পোলানস্কি তার বিরুদ্ধে ওঠা এই সমালোচনার জবাবে বলেছেন, তিনি নির্বাচিত হলে হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাসে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে যাবেন না। তিনি পূর্ব লন্ডনের হ্যাকনিতে নিজের বাসা থেকে সাইকেলে করে নির্বাচনী এলাকায় আসা-যাওয়া করবেন এবং নিয়মিত মানুষের সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানিয়েছেন।

পোলানস্কির দাবি, হ্যাকনি থেকে নির্বাচনী এলাকায় খুব দ্রুত সাইকেলে পৌঁছানো সম্ভব। তিনি নিয়মিত এলাকায় থাকবেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং এমপি হিসেবে তাদের সমস্যা নিয়ে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।

গ্রিন পার্টির জন্য এই উপনির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে কিয়ার স্টারমার এই আসনে ১১ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন। ফলে ঐতিহ্যগতভাবে লেবারের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসন দখল করা গ্রিন পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য হবে।

তবে গ্রিন পার্টি সাম্প্রতিক সময়ে উপনির্বাচনে চমক দেখিয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের গর্টন অ্যান্ড ডেন্টনে তারা ১৩ হাজারের বেশি ভোটের লেবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা উল্টে দিয়ে জয় পায়। এবার সেই কৌশল হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাসেও প্রয়োগ করতে চাইছে দলটি।

পোলানস্কি ইতোমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেছেন। গ্রিন পার্টির কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। দলের লক্ষ্য হলো স্থানীয় মানুষের মধ্যে লেবারবিরোধী মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে আসনটিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক চমক সৃষ্টি করা। তবে পোলানস্কির নিজের দলেই স্থানীয় প্রার্থিতাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিরোধ সেই প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে।

এদিকে গ্রিন পার্টির স্থানীয় সদস্যরাই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবেন কে দলটির প্রার্থী হবেন। চলতি সপ্তাহেই প্রার্থী বাছাইয়ের ভোট হওয়ার কথা। এর আগে স্থানীয় সদস্যদের বড় একটি অংশ পোলানস্কির প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন দেখিয়েছিল বলে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে। ফলে কাউন্সিলরদের একটি বড় অংশ চৌধুরীর পাশে থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নিশ্চিত নয়।

আরেকটি বিষয়ও গ্রিন পার্টির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে দলটির সম্মেলনের মাত্র এক সপ্তাহ পর। ফলে নির্বাচনী প্রচারের শেষ সপ্তাহান্তে দলের অনেক কর্মী ব্রাইটনে সম্মেলনে ব্যস্ত থাকতে পারেন। এতে মাঠপর্যায়ের প্রচারণায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে ৮ অক্টোবরের হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস উপনির্বাচন এখন শুধু লেবার ও গ্রিন পার্টির মধ্যে সম্ভাব্য লড়াই নয়; গ্রিন পার্টির প্রার্থী বাছাইয়ের মধ্যেই তা নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে। স্টারমারের দীর্ঘদিনের আসনে লেবারকে চ্যালেঞ্জ করার আগে পোলানস্কিকে এখন নিজের দলের ভেতরের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাই সামলাতে হচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

রুশ গুপ্তচরদের ‘পেছনের দরজা’ হয়ে উঠছে আয়ারল্যান্ড! উদ্বেগে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ

যুক্তরাজ্যে বিনামূল্যে প্রাতঃরাশ চালুর পর অর্থায়ন ঘাটতির বিষয়ে শিক্ষকদের সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলায় সহযোগিতা করবে না যুক্তরাজ্য