TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

স্পেন সীমান্ত সংকটে চাপে যুক্তরাজ্য প্রধানমন্ত্রীঃ কঠোর অভিবাসন নীতির দাবিতে নতুন বিতর্ক

স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতা সীমান্তে একদিনে প্রায় ৬০ হাজার অনিয়মিত অভিবাসীর প্রবেশের ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম নতুন করে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। দেশটির সংবাদমাধ্যম জিবি নিউজ এই ঘটনাকে ‘ব্রেকিং’ হিসেবে প্রচার করে জানায়, ইউরোপের এই অভিবাসন সংকট যুক্তরাজ্যের সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়েও নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাজার হাজার মানুষ সাঁতরে ও হেঁটে মরক্কো সীমান্ত অতিক্রম করে সেউতায় প্রবেশ করেন। এটিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইতিহাসে একদিনে সবচেয়ে বড় অনিয়মিত অভিবাসী প্রবেশের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানান, তিনি স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। তবে বিরোধী মহল ও বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সমর্থনের আশ্বাস নয়, যুক্তরাজ্যের জন্যও একটি সুস্পষ্ট অভিবাসন নীতি দ্রুত ঘোষণা করা জরুরি।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী ডেভিড হেগ বলেন, অর্থনৈতিক কারণে অভিবাসনকারী এবং প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়ে এখনো কার্যকর কোনো পরিকল্পনা তৈরি করা যায়নি। তার মতে, সেউতার সাম্প্রতিক সংকট শুধু আবহাওয়া বা আকস্মিক ঘটনার ফল নয়; স্পেনের একটি আদালতের সিদ্ধান্তের কারণে সীমান্ত পার হওয়া সহজ হয়েছে এবং ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটেছে।

তিনি আরও বলেন, এটি কেবল স্পেনের সমস্যা নয়; পুরো ইউরোপ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একটি সংকট। তাই এর সমাধানও সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই সম্ভব।

এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ফন ডের লেয়েন জানিয়েছেন, সেউতায় প্রবেশকারী ৬০ হাজার অভিবাসীর কেউই মূল স্পেনে বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য অংশে প্রবেশ করতে পারেনি। তার দাবি, অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের অধিকাংশই ইতোমধ্যে মরক্কোতে ফিরে গেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের মধ্যে ২২টি দেশ বহিঃসীমান্ত আরও শক্তিশালী করা এবং অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে যৌথ পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে।

ডেভিড হেগের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এবং মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভন অনেক মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় উৎসাহিত করছে। তার মতে, এসব অপরাধী চক্র মূলত অর্থ উপার্জনের জন্য মানুষকে যুক্তরাজ্যের মতো দেশে নিয়ে যেতে চায় এবং অবৈধ শ্রমবাজারকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক কেভিন স্কোফিল্ড বলেন, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের উচিত দ্রুত তার অভিবাসন নীতির স্পষ্ট রূপরেখা প্রকাশ করা। কারণ ভোটারদের একটি অংশের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, অভিবাসন প্রশ্নে তার অবস্থান যথেষ্ট কঠোর নয়।

তবে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী পরিদর্শনে যাবেন এবং সেখানে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সরকারের অভিবাসন নীতির বিষয়ে আরও বিস্তারিত তুলে ধরবেন।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রিটেনের অবৈধ অভিবাসীদের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে

নিউজ ডেস্ক

হোম অফিসের আপত্তি প্রত্যাখানঃ আলবেনিয়ান মাদক ব্যবসায়ীকে দেশে ফেরানো যাবে না

মন্দা কাটিয়ে প্রবৃদ্ধিতে ফিরেছে যুক্তরাজ্য