মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন—প্রণালীতে মাইন পেতে থাকা যেকোনো ইরানি নৌযান দেখামাত্র গুলি করে ধ্বংস করতে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “এ ক্ষেত্রে কোনো দ্বিধা থাকবে না।” তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে “তিনগুণ জোরে” প্রণালী থেকে মাইন অপসারণে কাজ করছে।
তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। সংস্থাটির ধারণা, পুরো প্রণালী থেকে মাইন সরাতে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
এদিকে, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক জোট প্রণালীটি পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা করছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সংঘাত পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে না।
অন্যদিকে, তেহরান দাবি করেছে—প্রণালীতে টোল আরোপের পর তারা প্রথম অর্থপ্রদান পেয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনী তাদের বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ তেলপথ পুনরায় চালু করা হবে না।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান। একটি মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই সংঘাত শেষ করার জন্য তার “কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই”।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তায়।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

