15.5 C
London
April 27, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

হরমুজ সংকটের ধাক্কাঃ যুক্তরাজ্যে খাদ্য, জ্বালানি ও বিমান ভাড়ায় দীর্ঘমেয়াদি চাপ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতার প্রভাবে যুক্তরাজ্যে খাদ্য, জ্বালানি ও বিমান ভাড়ার উচ্চমূল্য আরও অন্তত আট মাস স্থায়ী হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির এক শীর্ষ মন্ত্রী।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড্যারেন জোন্স জানিয়েছেন, যুদ্ধের সরাসরি সামরিক উত্তেজনা কমে গেলেও এর অর্থনৈতিক অভিঘাত দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ, খাদ্য উৎপাদন এবং বিমান চলাচল খাতে এর প্রভাব স্পষ্টভাবে অনুভূত হবে।

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিচালিত হয়।

ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার পর এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাজ্যের জ্বালানি বাজারে।

বিবিসির ‘সানডে উইথ লরা কুয়েন্সবার্গ’ অনুষ্ঠানে ড্যারেন জোন্স বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপের ফলে ব্রিটিশ জনগণকে কিছুটা বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হবে। তিনি বলেন, “এই প্রভাব শুধু কয়েক সপ্তাহ নয়, বরং আগামী কয়েক মাস জুড়ে থাকবে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আমরা দেখতে পাব।”

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু হওয়া এবং সংঘাত প্রশমনের পরও অন্তত আট মাস বা তারও বেশি সময় ধরে অর্থনৈতিক চাপ বজায় থাকতে পারে।

সরকার জানিয়েছে, সুপারমার্কেটে খাদ্যপণ্যের সরাসরি ঘাটতি না হলেও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পেট্রোল পাম্পে জ্বালানির দাম এবং আন্তর্জাতিক বিমান ভাড়াও বাড়তে পারে।

এই পরিস্থিতিতে সরকার সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক নিয়মে গাড়িতে জ্বালানি নিতে এবং বিমান ভ্রমণের পরিকল্পনা পরিবর্তন না করার পরামর্শ দিয়েছে।

সরকার সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় মজুত পর্যবেক্ষণ জোরদার করেছে। বিশেষভাবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মজুত নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই গ্যাস খাদ্যশিল্প, পানীয় উৎপাদন, প্রতিরক্ষা এবং চিকিৎসা খাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ড্যারেন জোন্স বলেন, সামনে পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে। তাই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন যাতে অতিরিক্ত ব্যাহত না হয়, সেদিকেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি রসিকতার সুরে বলেন, “জেট ফুয়েল নিয়ে ছুটির ভ্রমণে সমস্যা হলে এবং বিয়ারের জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইড না থাকলে গ্রীষ্মটা মানুষের জন্য খুব হতাশাজনক হয়ে উঠবে।”

এদিকে বিরোধী দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা আগামী মে মাসে রাজার ভাষণে খাদ্য নিরাপত্তাকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। দলটি বলছে, আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাবে ব্রিটিশ জনগণকে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে রক্ষা করতে এখনই শক্তিশালী নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

জেরেমি কর্বিন লন্ডন মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন

রানি এলিজাবেথের মৃত্যুতে বিশ্বনেতাদের শোক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে শঙ্কার মুখে পড়তে পারে ফ্যাশন ডিজাইন শিল্প