Categories
বাংলাদেশ

হাসিনার পতন প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফল, চীন-পাকিস্তান সুবিধাভোগীঃ প্রাক্তন R&AW কর্মকর্তা

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র এর প্রাক্তন স্পেশাল সেক্রেটারি অমিতাভ মাথুর বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ১৯৭৫ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন। ইন্ডিয়াজ ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার পতন শুধু তার বিরুদ্ধে নয়, বরং শেখ মুজিবুর রহমানের উত্তরাধিকারের প্রত্যাখ্যান। এটি বাংলাদেশের দুটি প্রধান পরিচয়ের—১৯৪৭-এর সাম্প্রদায়িক দেশভাগ থেকে উদ্ভূত ইসলামী পরিচয় এবং ১৯৭১-এর বাঙালি জাতীয়তাবাদী পরিচয়ের—দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ধারাবাহিকতা।

 

মাথুরের মতে, এই পরিবর্তনের মূলে রয়েছে শেখ হাসিনার প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও স্বৈরাচারী প্রবণতা, যা তার পিতা শেখ মুজিবের ভুলের পুনরাবৃত্তি। কোভিড, ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মতো বৈশ্বিক ঘটনা অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে এতে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে আমেরিকার ভূমিকা ব্যাপকভাবে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে; যদি ওয়াশিংটনের সক্রিয় হাত থাকত, তাহলে অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদকে আরও স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করত। তবে আমেরিকা, চীন ও পাকিস্তান—সবাই এই পরিস্থিতির সুবিধা নিচ্ছে।
ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রসঙ্গে মাথুর বলেন, জঙ্গি বা উত্তর-পূর্ব ভারতের বিদ্রোহীদের আশ্রয় দেওয়ার ঝুঁকি থাকলেও বড় হুমকি সাম্প্রদায়িকতা।

বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা থেকে ব্যাপক অভিবাসন ভারতের সম্পদের উপর চাপ সৃষ্টি করবে। চীন অবকাঠামো ও সেনাবাহিনীর মাধ্যমে প্রভাব বাড়াচ্ছে, আর পাকিস্তান বিঘ্নকারী ভূমিকা পালন করবে—যদিও তার নিজস্ব দুর্বলতা রয়েছে।

বাংলাদেশের বর্তমান অস্থিরতার মধ্যে ভারতের নীতি হিসেবে মাথুর ধৈর্য ও সতর্কতার পরামর্শ দেন। অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের পরিবর্তে নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে পরিবর্তন হলে তা বাংলাদেশের জন্য ভালো। বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলেও ভারত তাদের সঙ্গে কাজ করতে পারবে, কারণ আজকের ভারত যথেষ্ট শক্তিশালী। তিনি সতর্ক করেন, কোনো লাল রেখা অতিক্রম করলে ভারত সহ্য করবে না।

সূত্রঃ ইন্ডিয়াজ ওয়ার্ল্ড

এম.কে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *