20.5 C
London
June 19, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

হিজবুল্লাহ সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ শিয়া ধর্মীয় বক্তাকে গ্রেপ্তারের দাবি

লন্ডনে জন্ম নেওয়া শিয়া ধর্মীয় বক্তা সাইয়্যেদ হুসাইন মাক্কেকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে যুক্তরাজ্যে। হিজবুল্লাহর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন এবং তরুণদের জন্য পরিচালিত একটি ধর্মীয় ও শারীরিক প্রশিক্ষণ শিবিরকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে তদন্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন কনজারভেটিভ পার্টির এমপি অ্যালিসিয়া কিয়ার্নস।

 

সাবেক পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান কিয়ার্নস যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে লিখিতভাবে জানতে চেয়েছেন, সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানোর পরও কেন মাক্কের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং সম্প্রতি তিনি কীভাবে বাধাহীনভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করলেন।

দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মাক্কে প্রতিবছর ইংল্যান্ডের পিক ডিস্ট্রিক্ট এলাকায় পাঁচ দিনের একটি প্রশিক্ষণ শিবির পরিচালনা করেন, যার নাম “স্পিরিচুয়াল ওয়ারিয়র প্রজেক্ট”। শিবিরটিতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি “আল্লাহকেন্দ্রিক পৌরুষ” এবং “শৃঙ্খলাবোধ ও ভ্রাতৃত্ব” গড়ে তোলার একটি উদ্যোগ।

তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এই শিবিরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উগ্র মতাদর্শের প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি রয়েছে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনো বিচারিক সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।

বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা মাক্কের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নিহত সদস্যদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। জিউইশ ক্রনিকলের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিনি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহকে বিশ্বের “সর্বশ্রেষ্ঠ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের একজন” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন এবং তার জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যে ২০০৮ সালে হিজবুল্লাহর সামরিক শাখাকে এবং ২০১৯ সালে সংগঠনটির রাজনৈতিক শাখাকেও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশটির আইনে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনকে প্রকাশ্যে সমর্থন করাও দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এর সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছরের কারাদণ্ড।

এদিকে, কাউন্টার টেররিজম পুলিশিং লন্ডনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রাপ্ত সব ধরনের তথ্য ও অভিযোগ পর্যালোচনা করা হয় এবং প্রয়োজন মনে হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ বাহিনী বা সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অ্যালিসিয়া কিয়ার্নস তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হামলার ঘটনার পর সরকার উগ্রবাদ ও ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলার অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু মাক্কের মতো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সেই প্রতিশ্রুতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

তিনি দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, “কয়েক মাস আগে আমি সরকারের কাছে হুসাইন মাক্কের বিষয়ে প্রমাণ দিয়েছিলাম। অথচ এই সপ্তাহে তিনি কোনো বাধা ছাড়াই যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন। যদি এটিই সরকারের ‘কঠোর অবস্থান’ হয়, তাহলে ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতির মূল্য কোথায়?”

অন্যদিকে, মাক্কে ও তার সমর্থকরা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার পক্ষে আইনি সহায়তা প্রদানকারী একটি সংগঠন জানিয়েছে, তিনি কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য নন এবং কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তাও করেননি।

মাক্কে নিজেও দাবি করেছেন, তার পরিচালিত “স্পিরিচুয়াল ওয়ারিয়র প্রজেক্ট” নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার প্রচেষ্টা। তিনি সমালোচনাকারী কিছু গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

বর্তমানে সাইয়্যেদ হুসাইন মাক্কের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি। তবে বিষয়টি সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা এখন পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সীমারেখা কোথায় টানা হবে—এই প্রশ্ন আবারও সামনে নিয়ে এসেছে মাক্কেকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনের অভিযোগ কীভাবে তদন্ত ও মূল্যায়ন করা হবে, সেটিও যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রিটেনে হাইকমিশনারের আচরণে কমিউনিটি নেতারা ক্ষুব্ধঃ হাইকমিশনার কর্তৃক সাংবাদিকদের হুমকি

যুক্তরাজ্যে ভার্চুয়ালি ধর্ষণের শিকার কিশোরী, তদন্তে পুলিশ

ফিলিস্তিনি বলে ভিসা রিফিউজ করায় স্বরাষ্ট্র সচিবকে আদালতের ভর্ৎসনা