সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১০০ টাকায় গরুর মাংস, ভাত, আলু ও ডাল বিক্রির কারণে পরিচিত হয়ে ওঠা ‘ভাইরাল মিজান’ নামে পরিচিত মিজানুর রহমান মিজানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যাওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে রোববার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে রোববার বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান পরিচালনা করছিলেন। এরই অংশ হিসেবে আগারগাঁও এলাকায় মিজানের খাবারের দোকানের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেখানে যান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের কার্যক্রম শুরু হলে মিজান কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তিনি সরকারি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
কাফরুল থানার পুলিশ আরও জানিয়েছে, বাগবিতণ্ডার সময় মিজান সিটি করপোরেশনের কর্মী এবং পুলিশের সদস্যদের আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট অভিযোগে মামলা করার পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগসহ সংশ্লিষ্ট অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মিজানুর রহমান মিজানকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
আগারগাঁওয়ের ফুটপাতে ছোট পরিসরে ভাতের দোকান চালিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান মিজানুর রহমান মিজান। তার দোকানে মাত্র ১০০ টাকায় এক পিস গরুর মাংসের সঙ্গে ভাত, আলু ও ডাল খাওয়ার সুযোগ থাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই দোকানটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
মিজানের দোকানের নাম নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা তৈরি হয়। পরে খাবার পরিবেশন এবং ক্রেতাদের খাওয়ার বিভিন্ন ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তিনি ‘ভাইরাল মিজান’ নামে পরিচিতি পান। তার খাবারের দোকানকে অনেকে ‘গরিবের বুফে’ নামেও অভিহিত করেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে আলোচনায় এলেন মিজান। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের সরকারি অভিযানে বাধা এবং সরকারি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সংঘর্ষের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে তাকে এখন আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া হবে।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

