TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

৭২ মিলিয়ন পাউন্ডের অনুদানে ব্রিটেনের রাজনীতিতে বিস্ফোরণঃ লেবার–রিফর্ম সংঘাত চরমে

ব্রিটিশ রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলের অনুদান নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। রিফর্ম ইউকে দুই ধনকুবেরের কাছ থেকে রেকর্ড ৭ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড অনুদান পাওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর অনুদানের নিয়ম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন হাউজিং সেক্রেটারি অ্যাঞ্জেলা রেনার।
অ্যাঞ্জেলা রেনার জানিয়েছেন, রাজনৈতিক অনুদানের মাধ্যমে কেউ যেন ‘গণতন্ত্রে নিজের জায়গা কিনে নিতে’ না পারে, তা পর্যালোচনা করতে একটি টাস্কফোর্স কাজ করবে। রিফর্ম ইউকের বিপুল অনুদান পাওয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই উদ্যোগের ঘোষণা আসে বলে জিবি নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে জিবি নিউজকে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, রিফর্ম ইউকে সামনে আরও বড় অঙ্কের অনুদান পেতে পারে।
তবে লেবার পার্টির ঘনিষ্ঠ অনেক ট্রেড ইউনিয়ন জানিয়েছে, রাজনৈতিক অনুদানে প্রস্তাবিত পরিবর্তনের কারণে তাদের সংগঠনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
ইউনাইট ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শ্যারন গ্রাহাম বলেন, ইউনিয়নের দেওয়া অনুদানকে দুই ক্রিপ্টো কোটিপতির দেওয়া ৭ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের অনুদানের সঙ্গে তুলনা করা যায় না।
রিফর্ম ইউকের উপনেতা রিচার্ড টাইস অবশ্য লেবার সরকারের উদ্যোগকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, লেবার ও তাদের ইউনিয়ন সহযোগীরা জানে যে তারা ন্যায্যভাবে নির্বাচনে জিততে পারবে না। তাই তারা রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তার দাবি, ইউনিয়নগুলোর অবস্থান কার্যকর হলে এমন একটি ‘দুই স্তরের ব্যবস্থা’ তৈরি হবে, যেখানে বড় অনুদান দেওয়ার সুযোগ মূলত ইউনিয়নগুলোর জন্য উন্মুক্ত থাকবে। রিফর্ম ইউকে বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে রাজনৈতিক অনুদান নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী নেতাদের ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফিরে যাওয়ার উদ্যোগও সামনে এসেছে।
তিন অঞ্চলের ফার্স্ট মিনিস্টার একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা বলেছেন, এসব দ্বীপের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হচ্ছে এবং তারা আরও শক্তিশালী ও ন্যায়সংগত অর্থনীতি, নিজেদের জ্বালানি সম্পদের সম্প্রসারণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক জোরদার করতে চান।
অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের পুরোনো আসন হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাসে অনুষ্ঠেয় উপনির্বাচনকে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় ওই উপনির্বাচনে লেবার পার্টির মুখোমুখি হচ্ছে গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি। লেবার জয়ী হলে গ্রিন পার্টির দিকে চলে যাওয়া কিছু সমর্থক আবার লেবারের দিকে ফিরছে—এমন রাজনৈতিক বার্তা পাওয়া যাবে বলে দলটির অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি।
এই উপনির্বাচনের ফলাফল সাধারণ নির্বাচন এগিয়ে আনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের কৌশলগত সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক অনুদানের বিতর্কে জিবি নিউজের উপস্থাপক অ্যালেক্স আর্মস্ট্রং লেবার সরকারের বিরুদ্ধে ‘দুই স্তরের ভণ্ডামি’র অভিযোগ তুলেছেন।
তিনি ২০২৪ সালে লেবার পার্টির পাওয়া একটি অনুদানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তার দাবি, কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে নিবন্ধিত একটি হেজ ফান্ড থেকে লেবার অনুদান পেয়েছিল, যার বিপুল বিনিয়োগ অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে রয়েছে।
রিফর্ম ইউকের ৭ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের অনুদানের পর সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর অনুদানে সীমা নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
লেবার মন্ত্রী জর্জিয়া গোল্ড অবশ্য বলেন, সংশ্লিষ্ট নিয়ম সব রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। তিনি দাবি করেন, রিফর্ম ইউকের অনুদান দেওয়া দুই ব্যক্তি ব্রিটেনের সবচেয়ে বেশি কর প্রদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন এবং তাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে করপোরেশন ট্যাক্স দেওয়া হয়।
জর্জিয়া গোল্ড একই সঙ্গে ব্রিটিশ রাজনীতিতে ‘বড় অর্থের’ প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, রাজনীতিকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের অর্থের পরিবর্তে ভোটার ও ব্রিটিশ নাগরিকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত।
এদিকে অনুদানে সীমা আরোপের উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা জেমস কার্টলিজ। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক অনুদানে সীমা আরোপ করা হলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর রাষ্ট্রীয় অর্থায়নের পথ খুলে যেতে পারে।
তার দাবি, এর ফলে রাজনৈতিক দলগুলোকে অর্থায়নের জন্য শেষ পর্যন্ত করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপতে পারে।
জেমস কার্টলিজ বলেন, তার দল রাজনৈতিক অনুদানে ইচ্ছামতো সীমা আরোপ সমর্থন করে না। তার মতে, রাজনৈতিক অনুদানের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হওয়া উচিত স্বচ্ছতা।
রিফর্ম ইউকের বিপুল অনুদান, রাজনৈতিক অনুদানে সম্ভাব্য সীমা, ট্রেড ইউনিয়নের অর্থায়ন এবং রাষ্ট্রীয় অর্থায়নের আশঙ্কা—সব মিলিয়ে ব্রিটিশ রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে ঘানার ছাত্রদের বিপদঃ বকেয়া ফি ও সহায়তার অভাবে বহিষ্কারের শঙ্কা

ব্রিটেনে সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার ভিসায় নতুন সুযোগঃ তবে বড় অঙ্কের ব্যবসায়িক চুক্তি বাধ্যতামূলক

ইংল্যান্ড–ওয়েলসে কিশোরদের অপরাধে টানছে সংঘবদ্ধ চক্রঃ প্রতি নয়জনের একজন টার্গেট