23.4 C
London
August 17, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

অক্টোবরে শেষ হতে পারে যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সের ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ চুক্তি

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারী আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়ে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে হওয়া বিতর্কিত ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ চুক্তি আগামী অক্টোবরের পর আর বহাল নাও থাকতে পারে। ফরাসি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসার পর ইউরোপজুড়ে অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

চুক্তির আওতায় ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো আশ্রয়প্রার্থীদের একটি অংশকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়। এর বিনিময়ে ফ্রান্সে অবস্থানরত এবং বৈধ প্রক্রিয়ায় আশ্রয়ের আবেদনকারীদের মধ্য থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক ব্যক্তিকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে শুরু থেকেই মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসী অধিকারকর্মীরা এই ব্যবস্থার সমালোচনা করে আসছেন।

ফরাসি দৈনিক ‘লে মঁদে’-এর এক প্রতিবেদনে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, অক্টোবরের পর এই চুক্তি নবায়নের কোনো পরিকল্পনা নেই। এর পরিবর্তে ইউরোপীয় কমিশন গত ১৮ জুন যে নতুন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, সেটির মাধ্যমে চ্যানেল পাড়ি দেওয়া অভিবাসীদের বিষয়ে সমন্বিত ইউরোপীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফ্রান্সের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ শরৎকাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে গ্রীষ্মকালজুড়ে ছোট নৌকায় আসা অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ৯ জুন পর্যন্ত মোট ৯২১ জন আশ্রয়প্রার্থীকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে ৮৯৬ জনকে বৈধভাবে ফ্রান্স থেকে যুক্তরাজ্যে আনা হয়েছে। তবে চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা থামেনি। শুধু ১৫ থেকে ২২ জুনের মধ্যেই প্রায় ১ হাজার ৯৩৯ জন আশ্রয়প্রার্থী ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে চুক্তিটি প্রত্যাশিত মাত্রায় কার্যকর প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করতে পারেনি। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গত জুলাইয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে যৌথভাবে চুক্তিটিকে ‘ঐতিহাসিক’ ও ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু অভিবাসন প্রবাহ অব্যাহত থাকায় এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোও চুক্তিটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তাকারী সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস এই ব্যবস্থাকে ‘মানবজীবন নিয়ে দরকষাকষি’ বলে অভিহিত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো অনেক অভিবাসী তীব্র মানসিক চাপ, অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন।

ফ্রান্সে ফেরত যাওয়া কয়েকজন আশ্রয়প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, সেখানে তারা পর্যাপ্ত সহায়তা পাননি। কেউ কেউ মানবপাচারকারী চক্রের হুমকির মুখেও পড়েছেন বলে দাবি করেছেন। আবার অনেকে দ্বিতীয়বারের মতো ট্রাক বা ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার চেষ্টা করেছেন। এ পরিস্থিতিতে সম্প্রতি নীতিমালায় সংশোধন এনে পুনরায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারীদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে ফ্রান্সকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সীমান্ত নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এড়াতে মানবপাচারকারী চক্রগুলো এখন দীর্ঘতর ও ঝুঁকিপূর্ণ রুট ব্যবহার করছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ফ্রান্স থেকে যুক্তরাজ্যে নৌপথের যাত্রা আগের তুলনায় কয়েক গুণ দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, চ্যানেল অভিবাসন সংকট এখন আর শুধু যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের দ্বিপক্ষীয় সমস্যা নয়; এটি ইউরোপজুড়ে একটি সমন্বিত নীতির দাবি করছে। অক্টোবরের পর ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন পরিকল্পনা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তার ওপর।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে বোলতার উপদ্রব বেড়েছে ৬০০ শতাংশ, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো শিশুদের দুধ শিল্পের ব্যাপক পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে

যুক্তরাজ্যের ইনফ্লেশন আরও খারাপের দিকে যাবে: আইএমএফ

অনলাইন ডেস্ক