12.5 C
London
October 8, 2026
TV3 BANGLA
আমেরিকা

আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় ২১ সন্তানকে ‘বাড়িতে’ আটকে নির্যাতনের অভিযোগঃ দম্পতি গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সারোগেসির মাধ্যমে ২১ সন্তান নেওয়া এক ধনী দম্পতির বিরুদ্ধে শিশুদের নিয়মিত মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, আর্কাডিয়ার বিলাসবহুল বাড়িটিতে শিশুদের এমন পরিবেশে রাখা হয়েছিল, যেটিকে তারা ‘ভয়ংকর বাড়ি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

 

অভিযুক্ত দম্পতি গুয়োজুন শুয়ান, ৬৬, এবং সিলভিয়া ঝাং, ৩৯। চলতি বছরের শুরুতে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার ওই বাড়ি থেকে শিশুদের উদ্ধারের পর তাদের বিরুদ্ধে একাধিক শিশু নির্যাতনের অভিযোগ, শিশু নির্যাতনের ষড়যন্ত্র, ঘটনার পর সহযোগিতা এবং সাক্ষীকে প্রভাবিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয়ে তারা অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি নাথান হখম্যান বলেন, ঘটনাটি নজিরবিহীন ও ভয়াবহ। তার অভিযোগ, শিশুদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো এবং বাড়িতে থাকা আয়া বা পরিচর্যাকারীরা নিয়মিত তাদের মারধর করতেন।

প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, দম্পতি বাড়িতে তিনটি কক্ষকে ‘শিক্ষাকেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহার করতেন। সেখানে শিশুরা প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা ডেস্কে বসে থাকত এবং পরিচর্যাকারীদের নজরদারিতে থাকত। পুরো বাড়িতে বসানো ছিল বিস্তৃত নজরদারি ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে দম্পতি শিশুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা দেখতেন এবং কখনো কখনো হাসতেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

একটি ভিডিওতে শুয়ানকে এক পরিচর্যাকারীকে একটি শিশুকে আরও জোরে মারতে বলার দৃশ্য রয়েছে বলে প্রসিকিউটররা দাবি করেছেন। আরেকটি ঘটনায় তিনি নিজেও শিশুটিকে মারধরে যোগ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিচর্যাকারীদের শিশুদের শরীরে যেন নির্যাতনের দৃশ্যমান চিহ্ন না থাকে, সে বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও প্রসিকিউটরদের দাবি।

পুলিশ প্রথম ২০২৫ সালের মে মাসে ওই পরিবারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। সে সময় দুই মাস বয়সী এক শিশুর মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে তদন্তে শিশুদের ওপর নির্যাতনের আরও অভিযোগ সামনে আসে।

মোট ২১ শিশুর মধ্যে ১৫ জনকে গত বছর ওই বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে অন্যত্র থাকা আরও ছয় শিশুর সন্ধান পাওয়া যায়। তাদের বয়স ছিল মাত্র দুই মাস থেকে ১৩ বছর। অধিকাংশ শিশুর বয়স এক থেকে তিন বছরের মধ্যে। পুলিশ মনে করছে, ঝাং নিজে এক বা দুই সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এবং বাকিদের সারোগেট মায়েদের মাধ্যমে জন্ম দেওয়া হয়েছে।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, দম্পতি ‘মার্ক সারোগেসি’ নামে একটি সংস্থা পরিচালনা করতেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থান থেকে নারীদের সারোগেট মা হিসেবে নিয়োগ করতেন। অন্তত আট নারী অভিযোগ করেছেন, তাদের কাছে দম্পতির পরিবার ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর বা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছিল। তবে দম্পতির আইনজীবী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

দম্পতির বিপুল আর্থিক সম্পদের তথ্যও আদালতে তুলে ধরা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, তাদের ২০০টির বেশি ব্যক্তিগত ও ৭০টি করপোরেট ব্যাংক হিসাব ছিল এবং বছরে প্রায় ২৫ কোটি ডলারের লেনদেন হতো। একটি হিসাবে ৭ কোটি ডলারের বেশি অর্থ এবং প্রায় ১ কোটি ডলার মূল্যের বিভিন্ন সম্পদের সন্ধান পাওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

আদালত প্রত্যেকের জামিন ২ কোটি ডলার নির্ধারণ করেছেন। পাশাপাশি তাদের বাড়িতে অবস্থানের নির্দেশ এবং সন্তানদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। দম্পতির আইনজীবী জামিনের অর্থকে অযৌক্তিক বলে দাবি করেছেন এবং সিলভিয়া ঝাংয়ের শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বিরল ধরনের লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত এবং অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের পর সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে আইনজীবী জানিয়েছেন।

প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, শিশুদের ওপর এমন কঠোর শাস্তি দেওয়ার পেছনে দম্পতির সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী ছিল এবং ২১ শিশুর প্রত্যেকের প্রকৃত পিতামাতার পরিচয় কী—তা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে। একই সঙ্গে সারোগেসি ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়েও ফেডারেল তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রঃ দ্য মিরর ইউএস ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

এমকে

আরো পড়ুন

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ঘিরে পাতায়ায় বাড়ছে ব্যস্ততাঃ যৌনকর্মীদের কড়া সতর্কবার্তা

বিশ্বের প্রথম ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিষ্ঠান অ্যাপল

অনলাইন ডেস্ক

গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’: ডেনমার্কের সঙ্গে ট্রাম্পের চুক্তির ঘোষণা