19.1 C
London
September 21, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইংরেজি না জানলে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রস্তাব রিফর্ম ইউকেরঃ বাড়ছে বিতর্ক

যুক্তরাজ্যের নির্বাচনী ব্যবস্থায় বিতর্কিত পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে রিফর্ম ইউকে। দলটির প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো ভোটার ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া বা ইংরেজি কিংবা ওয়েলশ ভাষা যথেষ্ট বুঝতে না পারলে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাঁর ব্যালট পেপার আলাদা করে রাখতে এবং ভোটটি গণনা না করার নির্দেশ দিতে পারবেন।

প্রস্তাবটি রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল বিল-এর ওপর আনা সংশোধনীগুলোর অংশ। বর্তমানে বিলটিতে ১৬ বছর বয়সে ভোটাধিকার, স্বয়ংক্রিয় ভোটার নিবন্ধন এবং রাজনৈতিক অনুদানের নিয়মে পরিবর্তনের মতো বিষয় রয়েছে।

রিফর্ম ইউকের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের কর্মকর্তা কোনো ভোটারের ভাষা বা ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া বোঝার সক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান হলে তাঁর ব্যালট পেপার আলাদা করে রাখতে পারবেন। ভোটটি গণনা করা হবে না এবং ভোটারকে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ দিতে হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ভোটার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে আপিল করতে পারবেন।

দলটির দাবি, এই পদক্ষেপের অন্যতম উদ্দেশ্য ভোটকেন্দ্রে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে ভোটারকে প্রভাবিত করা বা নিয়ন্ত্রণের ঘটনা ঠেকানো। প্রস্তাব অনুযায়ী, একসঙ্গে ভোটকেন্দ্রে আসা ব্যক্তিদের প্রয়োজনে আলাদাভাবে বুথে প্রবেশ করে ভোট দিতে বলা যাবে। নির্দেশ অমান্য করলে জরিমানা অথবা সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখার প্রস্তাবও রয়েছে।

রিফর্ম ইউকের নীতিবিষয়ক প্রধান ড্যানি ক্রুগার দাবি করেছেন, ব্রিটিশ গণতন্ত্র বিভিন্নভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত করতেই এসব পরিবর্তন প্রয়োজন। দলটির যুক্তি, একজন ভোটারের ভোট অবশ্যই তার নিজের সিদ্ধান্তে দেওয়া উচিত এবং পরিবারের সদস্যদের চাপ বা প্রভাবের সুযোগ থাকা উচিত নয়।

তবে প্রস্তাবের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হলো ভাষার ভিত্তিতে ভোট দেওয়ার সক্ষমতা যাচাই। একজন ভোটার ইংরেজি বা ওয়েলশ ভাষা কতটা বোঝেন—তা একজন ভোটকেন্দ্র কর্মকর্তার তাৎক্ষণিক মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করলে ভোটাধিকার প্রয়োগে বৈষম্য তৈরি হতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

রিফর্ম ইউকের সংশোধনীগুলোর মধ্যে শুধু ভাষা-সংক্রান্ত প্রস্তাবই নয়, নির্বাচনী প্রচারপত্রে বিদেশি ভাষার ব্যবহার সীমিত করা এবং ব্রিটিশ নাগরিক নন—এমন কমনওয়েলথ নাগরিকদের ভোটাধিকার বাতিলের প্রস্তাবও রয়েছে। সংসদের নথিতে কমনওয়েলথ নাগরিকদের ভোটাধিকার সীমিত করার সংশোধনীটি এখনো সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারপত্রের ভাষা নিয়েও রিফর্ম ইউকের একাধিক সংশোধনী রয়েছে। একটি প্রস্তাবে নির্বাচনী উপকরণ ইংরেজি, ওয়েলশ বা ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের স্থানীয় ভাষায় প্রকাশের বিধান করার কথা বলা হয়েছে।

রিফর্ম ইউকের এসব প্রস্তাব এখনো আইন হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট সংশোধনীগুলোর বেশ কয়েকটির ওপর সংসদ কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে এগুলো কার্যকর হতে হলে পার্লামেন্টারি প্রক্রিয়ায় আরও ধাপ পেরোতে হবে।

প্রস্তাবগুলো সামনে আসার মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যে ভোটাধিকার, অভিবাসন, ভাষা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থায় সমান অংশগ্রহণের প্রশ্নে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভাষাগত সক্ষমতাকে ভোটাধিকার প্রয়োগের শর্ত করার উদ্যোগটি ভবিষ্যতে ব্যাপক রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্য এইবার সৈন্য পাঠাবে গাজায়

উচ্চদক্ষ কর্মী আনতে ভিসা নীতিতে শিথিলতা, কিছু ফি ফেরত দেবে যুক্তরাজ্য

নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রকে আর পরাশক্তি মনে করেন না ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী