মুসলিম, ইসলাম ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মানুষদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ব্রিটিশ এমপি রুপার্ট লোয়ের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টারি কমিশনার ফর স্ট্যান্ডার্ডসের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফাইভ-পিলারস। অভিযোগে বলা হয়েছে, লোয়ের প্রকাশ্য বক্তব্যের ধরন ও ধারাবাহিকতা এতটাই গুরুতর যে তা পার্লামেন্টের সুনাম ও প্রতিষ্ঠানটির প্রতি মানুষের আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ফাইভ-পিলারসের প্রতিবেদনে রুপার্ট লোয়ের বিভিন্ন প্রকাশ্য বক্তব্যের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘পাকিস্তানি মুসলিম রেপ গ্যাং’ শব্দবন্ধের বারবার ব্যবহার, ইসলাম ও রেপ গ্যাংয়ের মধ্যে ‘অস্বীকার করার মতো নয় এমন যোগসূত্র’ রয়েছে—এমন বক্তব্য এবং ব্রিটেনের ‘ইসলামায়ন’ নিয়ে তার সতর্কবার্তা।
সাম্প্রতিক সময়েও লো ব্রিটেনের ‘ইসলামায়ন’ নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। আগস্টে এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছিলেন, ব্রিটেন একটি ইসলামিক দেশে পরিণত হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ওই সময় তার বক্তব্যের বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি রেপ গ্যাং ও শারিয়া কাউন্সিলের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।
লোয়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। পার্লামেন্টের নথি অনুযায়ী, তিনি যৌন নিপীড়ন ও রেপ গ্যাং সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন, বিতর্ক ও প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। ২০২৬ সালের জুনে তিনি ‘ইন্ডিপেনডেন্ট রেপ গ্যাং ইনকোয়ারি রিপোর্ট’ নিয়ে একটি আর্লি ডে মোশনও সমর্থন করেন।
লো নিজেও তার উদ্যোগের পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছেন। তার রাজনৈতিক বক্তব্যে তিনি ‘পাকিস্তানি মুসলিম রেপ গ্যাং’ নিয়ে নিজস্ব অনুসন্ধানের কথা উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে এসব বিষয়ে রাজনৈতিক ব্যবস্থা যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি।
অন্যদিকে, লোয়ের বক্তব্য নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। ফাইভ-পিলারসসহ বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তার বক্তব্যকে মুসলিমবিরোধী হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে ‘ইসলামোফোবিয়া’ বা বর্ণবাদের অভিযোগ লো অতীতে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি এমন কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলছেন যেগুলো নিয়ে অন্য রাজনীতিকরা কথা বলতে অনিচ্ছুক।
অভিযোগে পার্লামেন্টারি কমিশনার ফর স্ট্যান্ডার্ডসকে বিষয়টি সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য হলো, লোয়ের পৃথক পৃথক বক্তব্যকে আলাদাভাবে না দেখে দীর্ঘ সময়ের ধারাবাহিক বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং এই আচরণ পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে তার দায়িত্ব ও আচরণবিধির সীমা অতিক্রম করেছে কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পার্লামেন্টারি কমিশনার ফর স্ট্যান্ডার্ডস, হাউস অব কমন্সের আচরণবিধি ও সংশ্লিষ্ট নিয়মের অধীনে এমপিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পর্যালোচনা ও তদন্ত করতে পারেন। পার্লামেন্টের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্ত হবে কি না, সেটি কমিশনারের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার অংশ।
রুপার্ট লো বর্তমানে গ্রেট ইয়ারমাউথের এমপি এবং পার্লামেন্টে তার বক্তব্য ও প্রশ্নের মধ্যে অভিবাসন, যৌন অপরাধ, রেপ গ্যাং ও ইসলাম-সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় রয়েছে। পার্লামেন্টের রেকর্ডে দেখা যায়, ২০২৬ সালেও তিনি এসব বিষয়ে একাধিক প্রশ্ন ও বক্তব্য দিয়েছেন।
এখন অভিযোগটি আনুষ্ঠানিক তদন্তে রূপ নেয় কি না, কিংবা কমিশনার এ বিষয়ে কোনো পরবর্তী পদক্ষেপ নেন কি না—সেটিই দেখার বিষয়। আপাতত বিষয়টি অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে এবং লোয়ের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
সূত্রঃ ফাইভ-পিলার’স
এমকে

