14.3 C
London
June 11, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

কেয়ার ওয়ার্কারদের পক্ষে লেবার নেত্রী রেইনার; বললেন, ‘মাঝপথে নিয়ম বদলানো অন্যায্য’

যুক্তরাজ্যে কর্মরত হাজারো অভিবাসী কেয়ার ওয়ার্কারের স্থায়ী বসবাসের অধিকার নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন নীতির আওতায় স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা খাতে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের সেটেলমেন্ট পাওয়ার জন্য পাঁচ বছরের পরিবর্তে ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। এমন পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করে কেয়ার ওয়ার্কারদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন লেবার পার্টির প্রভাবশালী নেত্রী ও সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেইনার বলেন, যারা বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে এসেছেন, কর দিচ্ছেন, সমাজে অবদান রাখছেন এবং দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের সেবা দিচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সময় থেকে কার্যকর এমন নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া অন্যায্য হবে।

তার ভাষায়, “সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করা এক বিষয়, কিন্তু যারা ইতোমধ্যে এখানে জীবন গড়ে তুলেছেন তাদের জন্য মাঝপথে নিয়ম বদলে দেওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। এটি অন্যায্য এবং অব্রিটিশ।”

বর্তমানে কেয়ার ভিসাধারীরা পাঁচ বছর পর ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) বা স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে সরকারের বিবেচনায় থাকা নতুন প্রস্তাবে অধিকাংশ অভিবাসীর ক্ষেত্রে এ সময়সীমা ১০ বছর এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা খাতের কর্মীদের জন্য ১৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।

বুধবার সরকারি খাতের শ্রমিক ইউনিয়ন ইউনিসনের এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে রেইনার কেয়ার কর্মীদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “মহামারির সবচেয়ে অন্ধকার সময়ে কেয়ার কর্মীরাই আমাদের পাশে ছিলেন। এটি এমন একটি সেবা ব্যবস্থা, যার ওপর আমরা সবাই কোনো না কোনো সময় নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারি।”

তিনি আরও বলেন, যারা নিয়ম মেনে যুক্তরাজ্যে এসেছেন এবং সমাজে ইতিবাচক অবদান রেখে চলেছেন, তাদের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সময় থেকে কার্যকর কোনো পরিবর্তন আনা উচিত নয়।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, অভিবাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের বিষয়ে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, স্থায়ী বসবাসের সুযোগ একটি “অর্জনযোগ্য বিশেষ অধিকার” এবং এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া উচিত নয়।

সরকারের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যে অভিবাসনের হার ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে অভিবাসন ব্যবস্থায় সংস্কার আনা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা খাতের ভিসাধারীদের স্থায়ী বসবাসের জন্য ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। এছাড়া যারা ১২ মাসের বেশি সময় সরকারি ভাতার ওপর নির্ভর করবেন, তাদের ক্ষেত্রে এ সময়সীমা ২০ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর চিন্তাভাবনা চলছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এ পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, যুক্তরাজ্যে মানুষের “অভূতপূর্ব আগমন” সরকারের কাছ থেকে কার্যকর জবাব দাবি করে।

তবে লেবার পার্টির ভেতর থেকেই এ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। দলের কয়েক ডজন সংসদ সদস্য পূর্ববর্তী সময় থেকে কার্যকর এসব পরিবর্তনকে “গোলপোস্ট সরিয়ে দেওয়ার” শামিল বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, বিদ্যমান নিয়মের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যে এসে জীবন গড়ে তোলা মানুষের প্রতি এটি অবিচার হবে।

রেইনার আরও বলেন, কেয়ার কর্মীদের ভিসাকে নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার সঙ্গে বেঁধে রাখার ব্যবস্থাও পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন, কারণ এটি কর্মীদের শোষণের সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে তিনি কেয়ার খাতে কর্মরতদের বেতন বৃদ্ধির দাবিও জানান।

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক যখন তীব্র হচ্ছে, তখন হাজারো কেয়ার ওয়ার্কার ও তাদের পরিবার সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। কারণ, প্রস্তাবিত এই পরিবর্তন কার্যকর হলে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, স্থায়ী বসবাসের স্বপ্ন এবং ব্রিটেনে দীর্ঘমেয়াদি জীবনযাত্রা সরাসরি প্রভাবিত হতে পারে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

রাশিয়ান হ্যাকারদের হামলার শিকার যুক্তরাজ্যের নামী প্রতিষ্ঠান

লন্ডনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, গুলিবর্ষণে যুবক নিহত

বাংলাদেশিদের নতুন বাস্তবতায় এসাইলাম আবেদন জটিল হতে পারেঃ আইনজীবীদের শঙ্কা,

নিউজ ডেস্ক