12.9 C
London
April 20, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ক্ষমতা বদলের পরও পরিবর্তন না আসায় হতাশ মাদাগাস্কারের তরুণরা

মাদাগাস্কারে জেন জি আন্দোলনের কর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় দেশজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত বছর ব্যাপক তরুণ-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর সামরিক শাসন ক্ষমতায় এলেও, নতুন প্রশাসন আগের সরকারের মতোই দমননীতি অনুসরণ করছে—এমন অভিযোগে ক্রমেই বাড়ছে জনঅসন্তোষ।

১২ এপ্রিল চারজন তরুণ আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা এর দুই দিন আগে রাজধানী আন্তানানারিভোতে একটি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে নির্দিষ্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তাদের আইনজীবীর দাবি, এসব অভিযোগের কোনো প্রমাণ নেই এবং তারা সম্পূর্ণভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

পরবর্তীতে আরও দুইজন কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে জানায় জেন জি সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠন। এই ধারাবাহিক গ্রেপ্তারকে আন্দোলনকারীরা “রাজনৈতিক দমননীতি” হিসেবে দেখছেন।

২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ব্যাপক তরুণ আন্দোলনের পর সামরিক কর্মকর্তা ক্ষমতা দখল করেন। তখন জনগণের বড় অংশ এতে স্বস্তি প্রকাশ করলেও এখন পরিস্থিতি ভিন্ন।

অনেক আন্দোলনকারী মনে করছেন, নতুন সরকারও পুরনো অভিজাত ও দুর্নীতিগ্রস্ত চক্রকেই ক্ষমতায় রেখেছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংস্কারের অভাব এবং রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

দুর্নীতি ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করা সংস্থার প্রতিনিধিরা বলছেন, এই গ্রেপ্তারগুলো মৌলিক স্বাধীনতার ওপর হুমকি সৃষ্টি করছে এবং এটি পূর্ববর্তী সরকারের দমননীতিরই পুনরাবৃত্তি।

অন্যদিকে সরকারপক্ষ দাবি করছে, আইনগত প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে চলছে এবং প্রেসিডেন্সি এসব মামলার সঙ্গে যুক্ত নয়। তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু অভিযোগ—যেমন রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা ও ড্রোন নজরদারির ঘটনা—নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে।

তরুণ আন্দোলনকারীরা বলছেন, প্রকৃত পরিবর্তন শুধু ক্ষমতা বদলের মাধ্যমে হয়নি। তাদের দাবি, এখনো পানি-বিদ্যুৎ সংকট, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তারা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পাশাপাশি নতুন সংবিধান সংস্কারেরও দাবি জানাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি মাদাগাস্কারের নতুন সামরিক সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে একদিকে নিরাপত্তা প্রশ্ন, অন্যদিকে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার—দুই দিকই এখন চাপে রয়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

হোলির রঙ থেকে বাঁচতে চাওয়ায় হিন্দু জনতার মারধরে মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যু

ফিলিস্তিনের পক্ষে স্টিকার লাগানোয় ব্রিটিশ দম্পতিকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ

গ্রিনল্যান্ডে হামলা হলে আগে গুলি, পরে প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ডেনমার্কের