24.1 C
London
June 29, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

গ্রীষ্মে লন্ডনের প্রাণ ফেরাতে ৫ লাখ পাউন্ডের তহবিলঃ সড়কে বাড়বে উন্মুক্ত আয়োজন

গত বছরের তুলনায় এবার ‘সামার স্ট্রিটস’ তহবিল উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত বছর যেখানে এই প্রকল্পের জন্য ৩ লাখ পাউন্ড বরাদ্দ ছিল, এবার তা বাড়িয়ে প্রায় ৫ লাখ পাউন্ড করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো স্থানীয় কাউন্সিল ও হসপিটালিটি খাতকে সহায়তা করা এবং গ্রীষ্মকালে লন্ডনের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো।

প্রকল্পের আওতায় বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহ্যাম, ব্রেন্ট, গ্রিনিচ এবং ল্যামবেথ—এই চারটি বড় প্রকল্পকে সর্বোচ্চ ১ লাখ পাউন্ড করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ ব্যবহার করে খোলা আকাশের নিচে খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা, বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ বড় পর্দায় প্রদর্শন, স্থানীয় বাজার এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন করা হবে।

এছাড়া ব্রেন্ট, ক্যামডেন, ইলিং, হ্যারিঙ্গে, হাউনসলো, ইজলিংটন, লুইশাম, নিউহ্যাম, সাটন ও ওয়ালথাম ফরেস্টে আরও ১১টি ছোট আকারের প্রকল্পের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে খাবার ও পানীয়ের রাতের বাজার, ডিজে ও সরাসরি সংগীত পরিবেশনা এবং পরিবারবান্ধব কমিউনিটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

এই উদ্যোগের পাশাপাশি লন্ডনের মেয়র সম্প্রতি নতুন লাইসেন্সিং ক্ষমতা লাভ করেছেন। নতুন ব্যবস্থায় তিনি পুরো লন্ডনের জন্য একটি কৌশলগত লাইসেন্সিং নীতি প্রণয়নের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে লাইসেন্স সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মতামত দেওয়া, স্থানীয় কাউন্সিলের নীতিমালা পর্যালোচনায় অংশ নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্সিং সিদ্ধান্ত নিজের তত্ত্বাবধানে নেওয়ার ক্ষমতাও থাকবে তার।

এর ফলে কোনো কাউন্সিল যদি পাব, ক্লাব বা অন্যান্য বিনোদন প্রতিষ্ঠানের খোলার সময় বাড়ানোর আবেদন প্রত্যাখ্যান করে, বিশেষ ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা বা বাতিল করার সুযোগও মেয়রের হাতে থাকবে। সাদিক খানের মতে, এ পদক্ষেপ লন্ডনের রাতের অর্থনীতি ও আতিথেয়তা শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে।

এদিকে গ্রীষ্মের ব্যস্ত সময়ে গণপরিবহন ব্যবহার উৎসাহিত করতে ‘উইকএন্ড হপার’ নামে নতুন একটি ভাড়া সুবিধারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আগামী ২৫ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাস ও ট্রামে ভ্রমণকারীরা একটি দিনের একক ভাড়া পরিশোধ করেই সারা দিন সীমাহীন যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।

সাদিক খান বলেন, স্থানীয় কাউন্সিল ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যৌথভাবে লন্ডনের বিভিন্ন এলাকায় খোলা আকাশের নিচে খাবার পরিবেশন, সরাসরি সংগীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং দীর্ঘ সময় ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি করতে পেরে তিনি আনন্দিত। তার ভাষায়, এই বিনিয়োগ নতুন উন্মুক্ত জনপরিসর গড়ে তুলবে, স্থানীয় ব্যবসাকে সহায়তা করবে এবং লন্ডনবাসী ও পর্যটকদের শহরটি উপভোগের আরও বেশি সুযোগ করে দেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘সামার স্ট্রিটস’ প্রকল্প এবং নতুন লাইসেন্সিং ব্যবস্থার সমন্বিত বাস্তবায়ন সফল হলে লন্ডনের স্থানীয় ব্যবসা, পর্যটন এবং রাতের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন এলাকায় কমিউনিটি অংশগ্রহণ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে সব ধরনের ভিসা ফি বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের খরচ বাড়ছে

লন্ডন হাই কমিশনের অবহেলার শিকার ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা

রুয়ান্ডা বিল যুক্তরাজ্যের সমস্যা আমাদের নয়ঃ রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট