26.1 C
London
June 28, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

‘চলতি বছরই দেশে ফিরব’—এনডিটিভিকে শেখ হাসিনার ঘোষণা, রায়কে বললেন ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, সব ধরনের বাধা, মামলা ও মৃত্যুদণ্ডের রায় উপেক্ষা করে তিনি চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরবেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে নিজের বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ‘অবৈধ, অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন তিনি।

প্রায় দুই বছর ধরে দেশের বাইরে অবস্থানরত শেখ হাসিনা বলেন, তার দেশে ফেরা ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়; বরং বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বলেন, ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের কল্যাণ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তিনি রাজনীতি করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে অতীতের নানা সংকট ও হত্যাচেষ্টার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মৃত্যুকে তিনি ভয় পান না এবং সব বাধা অতিক্রম করে চলতি বছরই দেশে ফিরবেন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেন, আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়, বরং বাংলার মানুষের হৃদয়ে প্রোথিত একটি রাজনৈতিক শক্তি। তার ভাষ্য, অতীতে একাধিকবার দলটি নিষিদ্ধ ও দমন-পীড়নের শিকার হলেও জনগণের শক্তিতে প্রতিবারই ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যর্থতার ওপর নির্ভরশীল নয়। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় মানুষ নিজেরাই তুলনা করে বুঝতে পারছে দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অবনতি হয়েছে। সরকারের দমন-পীড়ন আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

দল নিষিদ্ধ থাকা এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা থাকা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কোনো সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে না; বরং জনগণের সমর্থনই দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি। তার দাবি, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন আওয়ামী লীগের সমর্থনে স্বতঃস্ফূর্ত কর্মসূচি হচ্ছে। তিনি আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং বন্দিদের মুক্তির আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে সরে গিয়ে উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান, ঐতিহাসিক স্থাপনায় হামলা, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আক্রমণের ঘটনা দেশের মূল আদর্শকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

অর্থনীতি প্রসঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশ উচ্চ প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস, শতভাগ বিদ্যুতায়ন এবং পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও কর্ণফুলী টানেলের মতো বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছিল। তার মতে, পরবর্তী সময়ে সেই অগ্রগতির ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী, আহমদিয়া ও সুফি সম্প্রদায়ের সদস্যরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এসব ঘটনার যথাযথ প্রতিকার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনার ওপর হামলা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ভারতে নির্বাসিত জীবন সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের প্রশ্নই এখন তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, দূরে থাকলেও প্রতিনিয়ত দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বাংলাদেশের মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের বিষয়গুলো তুলে ধরছেন।

সাক্ষাৎকারের শেষাংশে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষই একদিন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে এবং জনগণের শক্তিতে আওয়ামী লীগ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সেই সংগ্রামের সঙ্গেই থাকবেন বলেও উল্লেখ করেন।

সূত্রঃ এনডিটিভি

এম.কে

আরো পড়ুন

ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান মারা গেছেন

চুরি হচ্ছে ই-পাসপোর্টের তথ্য

ঢাকার রাস্তায় যান চলাচল কম, আন্দোলনে সহমর্মিতা জানিয়ে রাস্তায় স্থানীয় বাসিন্দারা