TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইংলিশ চ্যানেলে ‘মেগা ডিঙি’, ফারাজের তোপে বার্নহ্যাম সরকার

ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে আবারও শতাধিক অভিবাসীর ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ঘটনায় দেশটির অভিবাসন সংকট নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো একটি বড় আকারের ‘মেগা ডিঙি’ ডোভারের উদ্দেশে যাত্রা করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছালে সরকারকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। একই সময়ে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ সরকারকে অবৈধ অভিবাসন দমনে ব্যর্থ বলে অভিযোগ করে আবারও আগাম সাধারণ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।

জিবি নিউজের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের উপকূল থেকে ছেড়ে আসা বড় আকারের নৌকাটিতে উঠতে শতাধিক অভিবাসীকে হুড়োহুড়ি করতে দেখা যায়। যাত্রাপথে একাধিক অভিবাসী পানিতে পড়ে গেলে তাদের উদ্ধারে কয়েক দফা হস্তক্ষেপ করতে হয় ফরাসি উদ্ধারকারী সংস্থাকে। বুধবার সকালে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর একটি জাহাজে করে দিনের প্রথম অভিবাসীদের ডোভার বন্দরে নিয়ে আসা হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবং তার সরকারের অভিবাসন নীতি নিয়ে সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের প্রস্তাবিত আশ্রয়ব্যবস্থা সংস্কার পরিকল্পনা নিয়েও সরকারি দলের ভেতরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জিবি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাইজেল ফারাজ বলেন, বর্তমান সরকার অবৈধ অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তার অভিযোগ, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের ব্যর্থতার কারণেই ছোট নৌকায় করে অভিবাসীদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জনগণের নতুন ম্যান্ডেট প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি আবারও আগাম সাধারণ নির্বাচনের আহ্বান জানান।

এদিকে সেন্টার ফর মাইগ্রেশন কন্ট্রোলের প্রতিনিধি রব বেটস দাবি করেন, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম অবৈধ অভিবাসন রোধে সুস্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই ক্ষমতায় এসেছেন। তার মতে, অতীতে চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আসা অভিবাসীদের কাজের অধিকার এবং সামাজিক আবাসনের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে দেওয়া বক্তব্য আরও বেশি মানুষকে যুক্তরাজ্যে আসতে উৎসাহিত করতে পারে।

অভিবাসনবিরোধী অবস্থান আরও জোরালো করতে গিয়ে রিফর্ম ইউকের ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়া ইউসুফ দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিবাসীরা মনে করছে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের জন্য এখনই সবচেয়ে অনুকূল সময়। তার আশঙ্কা, অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে চলতি সপ্তাহেই চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আসা অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা ১৩ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। একই সঙ্গে তিনি ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে আসা এবং অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের আটক ও নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাফল্যের কথাও জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থা। সংস্থাটি প্রথমবারের মতো ফ্রান্সে মানবপাচারকারীদের কাছে পাঠানোর উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা ২৫টি রাবারের নৌকা এবং সমসংখ্যক আউটবোর্ড ইঞ্জিন জব্দ করেছে। চীন থেকে পাঠানো এসব সরঞ্জাম ফেলিক্সস্টো কনটেইনার টার্মিনালে আটক করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, চালানটি জার্মানির হামবুর্গ হয়ে উত্তর ফ্রান্স ও বেলজিয়ামে সক্রিয় মানবপাচারকারী চক্রের হাতে পৌঁছানোর কথা ছিল।

জাতীয় অপরাধ সংস্থার শাখা কমান্ডার অ্যাডাম বেরি বলেন, এই অভিযান মানবপাচারকারী চক্রের আর্থিক সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত হেনেছে এবং বিপজ্জনক নৌকা ব্যবহার করে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার একটি বড় পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে। তার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি নৌকায় প্রায় ৮০ জন বহন করা সম্ভব হওয়ায় এই অভিযানের মাধ্যমে প্রায় দুই হাজার মানুষকে অবৈধভাবে চ্যানেল পার করানোর পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। বর্তমানে মানবপাচারকারী ব্যক্তি ও নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে জাতীয় অপরাধ সংস্থার ১০০টিরও বেশি তদন্ত চলমান রয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সর্বশেষ এই আগমনের পর চলতি বছরে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা ১২ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে। যদিও এই সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪০ শতাংশেরও বেশি কম। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, চ্যানেলে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ডানকার্ক ও ক্যালেতে ফরাসি টহল জোরদারের কারণে মানবপাচারকারীরা এখন ফ্রান্সের আরও দক্ষিণাঞ্চল থেকে নৌকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে, যা সাময়িকভাবে পারাপারের সংখ্যা কমাতে ভূমিকা রেখেছে।

তবে নতুন করে বড় নৌকায় অভিবাসীদের আগমন, সরকারের অভিবাসন নীতি নিয়ে বিরোধীদের ধারাবাহিক সমালোচনা এবং মানবপাচারবিরোধী অভিযানের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন সংকট আবারও দেশটির রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের রুয়ান্ডা নীতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করলেন ম্যাক্রন

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স আশ্রয়প্রার্থীদের বিনিময় নিয়ে আলোচনা

মুদ্রাস্ফীতির সময়ে অর্থনৈতিক দৈন্যতায় ভোগা পরিবার পাচ্ছেন বিশেষ সাহায্য