14.7 C
London
October 29, 2026
TV3 BANGLA
আমেরিকা

চ্যাটজিপিটির পরামর্শে ওষুধ কমিয়ে তরুণীর মৃত্যুঃ ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক তরুণীর বাবা-মা। তাদের অভিযোগ, মৃগী রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের মাত্রা কমানোর বিষয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটটির পরামর্শ অনুসরণ করার পর তাদের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মিরর-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ বছর বয়সী বোয়েন ওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে গত ফেব্রুয়ারিতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যান। চীনে বসবাসরত তার বাবা-মা কয়েক দিন ধরে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পরিচিত একজনকে তার খোঁজ নিতে পাঠান। ওই ব্যক্তি অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

বোয়েনের বাবা কুন ওয়ান জানান, মৃত্যুর আগে ভিডিও কলে মেয়েকে তার মৃগীর খিঁচুনিতে আক্রান্ত হতে দেখেছিলেন। তবে সেই খিঁচুনি স্বাভাবিকের তুলনায় দীর্ঘস্থায়ী বলে মনে হয়েছিল তার। পরে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোয়েন দীর্ঘদিন ধরে মৃগীর সমস্যায় ভুগছিলেন। তার মৃত্যুর সরকারি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় ‘সাডেন আনএক্সপেক্টেড ডেথ ইন এপিলেপসি’ বা মৃগীর কারণে আকস্মিক অপ্রত্যাশিত মৃত্যু (সাডেপ)। রোগটিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এমন মৃত্যু ঘটতে পারে।

বোয়েনের বাবা-মায়ের অভিযোগ, মেয়ের মৃত্যুর আগে তিনি চ্যাটজিপিটির কাছে মৃগীর ওষুধের মাত্রা ধীরে ধীরে কমানোর বিষয়ে পরামর্শ চেয়েছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শের বিপরীতে তিনি ওষুধ কমানোর সিদ্ধান্ত নেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের দিকে বোয়েনের মনে হয়েছিল, দীর্ঘদিন ধরে নেওয়া ওষুধ আর কার্যকর হচ্ছে না। একপর্যায়ে দিনে একাধিকবার খিঁচুনি হওয়ায় তাকে অ্যামাজনে নিজের চাকরি থেকে অক্ষমতাজনিত ছুটি নিতে হয়। পরে ২০২৫ সালের নভেম্বরে তিনি চাকরি হারান। এরপর নতুন একটি ওষুধ গ্রহণ শুরু করলে খিঁচুনির সংখ্যা মাসে কয়েকবারে নেমে আসে। তবে ওষুধটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কথা বলার ক্ষমতা ও চিন্তাশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি আশঙ্কা করছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চাকরির সাক্ষাৎকারে নিজের ভাষাগত দক্ষতা ফিরিয়ে আনতে ওষুধের মাত্রা কমানোর কথা বোয়েন চ্যাটজিপিটিকে জানিয়েছিলেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি দৈনিক ৪০০ মিলিগ্রাম থেকে প্রথমে ৩০০ মিলিগ্রাম এবং পরে ২০০ মিলিগ্রামে ওষুধের মাত্রা কমানোর বিষয়ে চ্যাটবটটির সঙ্গে আলোচনা করেন বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি প্রথমে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বললেও পরবর্তী কথোপকথনে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের ওপর নির্ভর না করার সিদ্ধান্তকে উৎসাহিত করে। বোয়েনের বাবা পরে জানতে পারেন, চ্যাটবটটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওষুধের মাত্রা ৪০০ মিলিগ্রাম থেকে শূন্যে নামিয়ে আনার একটি পরিকল্পনাও তৈরি করেছিল।

ওষুধের মাত্রা কমানোর পর বোয়েন বিভ্রান্তিতে ভোগা এবং কীভাবে বিছানায় গিয়েছিলেন তা মনে করতে না পারার মতো সমস্যার কথা চ্যাটজিপিটিকে জানান। মামলার অভিযোগ, তিনি মোট ১৫৮ বার এ ধরনের উপসর্গের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু চ্যাটবটটি সেগুলোকে মস্তিষ্কের ‘লো-পাওয়ার মোড’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে এবং উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে আশ্বস্ত করে।

বোয়েনের চিকিৎসক নিকোলাস পুলুস দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, তার মতো রোগীকে মৃগীর ওষুধ বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, ওষুধ কার্যকর থাকা অবস্থায় তা বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া তার পেশাগত দায়িত্বের পরিপন্থী হতো।

মামলায় বোয়েনের পরিবারের আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, চ্যাটজিপিটি লাইসেন্স ছাড়াই চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মতো আচরণ করেছে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার কর্তৃপক্ষ হিসেবে না দেখে বাধা হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তাদের দাবি, ওপেনএআইয়ের সিদ্ধান্তের মূল্য বোয়েনকে নিজের জীবন দিয়ে দিতে হয়েছে।

বোয়েন ২০২৩ সাল থেকে সম্পর্ক, বিমা এবং প্রতিবন্ধী ভাতাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে চ্যাটজিপিটির সাহায্য নিতে শুরু করেছিলেন। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে তিনি প্রতি সপ্তাহে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বার্তা চ্যাটবটটিকে পাঠাতেন। একই সময়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে তার যোগাযোগও কমে আসে।

এদিকে ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রিউ পুসাতেরি ঘটনাটিকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, বোয়েনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কথোপকথনে ব্যবহৃত জিপিটি-ফোর-ও মডেলটি বর্তমানে আর ব্যবহার করা হচ্ছে না। অতিরিক্ত সম্মতিসূচক আচরণ এবং আত্মহত্যায় সহায়তা করার ঝুঁকি নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর মডেলটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ওপেনএআইয়ের বক্তব্য, চ্যাটজিপিটি চিকিৎসাসেবার বিকল্প নয়। তবে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বোঝা, বিমা ও জটিল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পথ খুঁজে নেওয়া এবং চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তুতি নিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভূমিকা রাখতে পারে।

মামলাটি এখন বোয়েনের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য মিরর

এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুক নিয়ে যেতে পারবেন শিক্ষকরা

ওবামাকে ‘চরম অযোগ্য’ বললেন ট্রাম্পঃ মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক উত্তাপ

নিউজ ডেস্ক

অভিবাসী সংকটে নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা

অনলাইন ডেস্ক